১২/০৪/২০২৬, ১৯:১৯ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    কথা বলার ইসলামী শিষ্টাচার

    জেড নিউজ, ঢাকা:

    মানুষের জীবনে কথাবার্তা শুধু যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, বরং চরিত্র, ব্যক্তিত্ব ও ঈমানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। একজন মুসলমানের কথা বলার ধরন তার নৈতিকতা ও ইসলামী আদর্শের পরিচয় বহন করে। ইসলাম আমাদের শেখায়—কথা হতে হবে নম্র, শালীন ও হিকমতপূর্ণ। কঠিন হৃদয় ও কর্কশ ভাষা সম্পর্ক নষ্ট করে, আর সুন্দর ভাষা হৃদয় জয় করে।

    তাই অন্যের সাথে নরম ভাষায় কথা বলা উচিত। মন্দের বিপরীতে ভালোর মাধ্যমে প্রতিরোধ করা জরুরি। নিজের আওয়াজ উঁচু হওয়া, অন্যকে গালি দেওয়া বা আঘাত করার মনোবাসনা থাকা কখনো কাম্য নয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা উত্তম পন্থা (সৌজন্য ও যুক্তিযুক্ত পন্থা) ছাড়া আহলে কিতাবের সঙ্গে বিতর্ক করবে না…।

    ভাষা অবশ্যই নম্র ও হেকমতপূর্ণ হওয়া উচিত। খোদাদ্রোহী ফেরাউনের কাছে যখন মুসা ও হারুন (আ.)-কে পাঠানো হয়, তখন এ বিশেষ হেদায়েত দেওয়া হয়েছিল, ‘তোমরা তার সঙ্গে নম্র ভাষায় কথা বলবে। (এতে) হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে।’ (সুরা : ত্ব-হা, আয়াত : ৪৪)

    কাউকে কটাক্ষ করা, কারো দিকে কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত করা ও মন্দ বিশেষণে কাউকে ভূষিত করা ইসলামে গর্হিত অপরাধ।

    বিতর্ক করার সময় কখনো শালীনতার সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়। গালাগাল করা, দম্ভভরে কথা বলা ও কর্কশ ভাষা ব্যবহার করা অত্যন্ত নিন্দনীয়ই। লোকমান (আ.) তাঁর পুত্রের প্রতি অনেক উপদেশ দিয়েছিলেন।

    সুতরাং, কথা বলার ক্ষেত্রে একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো সর্বদা বিনয়ী, কোমল ও ভারসাম্যপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করা। বিতর্ক বা মতভেদ হলেও শালীনতার সীমা অতিক্রম করা যাবে না। গালাগালি, কটাক্ষ ও অহংকারপূর্ণ বাক্য ইসলামের শিক্ষা বহির্ভূত এবং তা সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) আমাদেরকে যে উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দিয়েছেন, তা অনুসরণ করাই প্রকৃত সফলতা। তাই আমাদের উচিত—প্রতিটি কথায় হিকমত, সহনশীলতা ও সৌজন্য বজায় রেখে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়