১৫/০১/২০২৬, ২১:৪৫ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    বাবা ভাঙার ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ ২০২৬ সাল কি হতে যাচ্ছে যুদ্ধ ও ধ্বংসের বছর?

    জেড নিউজ:
    ২০২৬ সাল হবে যুদ্ধ ও ধ্বংসের বছর বলে বুলগেরিয়ার রহস্যময় নারী ও তথাকথিত ‘ভবিষ্যৎদ্রষ্টা’ বাবা ভাঙার ভবিষ্যদ্বাণী আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। কিছু দাবি অনুসারে, তিনি এই বছর ‘যুদ্ধ ও ধ্বংস’ ঘটবে বলে জানিয়েছেন, এমনকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে পারে। খবর গালফ নিউজের।

    যদিও বাবা ভাঙার এমন ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্বব্যাপী সামাজিক মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও পোস্টে বলা হচ্ছে, বাবা ভাঙা আগেও বড় বড় ঘটনা যেমন ৯/১১ হামলা, বারাক ওবামার নির্বাচিত হওয়া, চেরনোবিল পারমাণবিক বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের উত্থান পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

    ১৯৯৬ সালে তার মৃত্যুর পরও প্রায় তিন দশক ধরে তার ভবিষ্যদ্বাণীগুলো মানুষের কৌতূহল ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। কিছু সূত্র অনুযায়ী, তিনি ২০২৬ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা এবং মানুষের প্রথম ভিনগ্রহী জীবনের সংস্পর্শ ঘটার কথাও বলেছেন।

    বাবা ভাঙা ১৯১১ সালে আজকের নর্থ ম্যাসেডোনিয়ার স্ট্রমিকায় জন্মগ্রহণ করেন। ১২ বছর বয়সে ঝড়ে দৃষ্টি হারানোর পর তার অদৃশ্য শক্তির উন্মেষ হয় বলে অনুসারীরা বিশ্বাস করেন। ১৯৯৬ পর্যন্ত তিনি মানুষকে ব্যক্তিগত ও বিশ্ব বিষয়ক পরামর্শ দিতেন।

    বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ভবিষ্যদ্বাণীর পেছনে নির্ভরযোগ্য বা প্রমাণিত কোনো তথ্য নেই। এগুলো মূলত পুরনো কথাবার্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব এবং বর্তমান সময়ের ব্যাখ্যা মিলিয়ে তৈরি। অনেক ক্ষেত্রেই বাবা ভাঙার নিজের বলা বা লেখা কোনো নির্দিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণীর প্রামাণ্য রেকর্ড পাওয়া যায় না। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তব বিশ্বের ঘটনাকে এসব ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখাকে বৈজ্ঞানিক বা নির্ভরযোগ্য হিসেবে ধরা ঠিক নয়।

    ভবিষ্যদ্বাণীর মিল ও অমিল
    অনুসারীদের মতে, তার কিছু ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়েছে। যেমন—৯/১১ হামলার পূর্বাভাস, রাশিয়ান সাবমেরিন কুরস্ক দুর্ঘটনা, ওবামার নির্বাচিত হওয়া, চেরনোবিল পারমাণবিক বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের উত্থান। তবে সব ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, ২০১০ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বা ২০২৫ সালে কোনো ক্রীড়া আসরে ভিনগ্রহীদের আবির্ভাব—এসব ঘটেনি।

    প্রচলিত দাবিতে বলা হয়— ২০২৮ সালে মানুষ শক্তির সন্ধানে শুক্র গ্রহ অনুসন্ধান করবে, ২০৩৩ সালে মেরু অঞ্চলের বরফ ব্যাপকভাবে গলে যাবে, ২০৭৬ সালে বিশ্বজুড়ে কমিউনিজম ছড়িয়ে পড়বে, ২১৭০ সালে তীব্র খরায় বহু অঞ্চল ধ্বংস হবে, ৩০০৫ সালে মঙ্গলগ্রহের সভ্যতার সঙ্গে যুদ্ধ হবে, ৩৭৯৭ সালে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে আর ৫০৭৯ সালে পৃথিবীর সমাপ্তি ঘটবে।

    বিশ্লেষকরা বলেন, এসব ভবিষ্যদ্বাণী প্রমাণিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নয়। এগুলো মূলত পুরনো বক্তৃতা, সামাজিক মিডিয়ার গুজব ও আধুনিক ব্যাখ্যার মিশ্রণ। বাবা ভাঙার নিজের লেখা বা বক্তব্যের প্রমাণও পাওয়া যায় না। তাই বাস্তব বিশ্বের ঘটনার সঙ্গে এগুলো মিলিয়ে দেখাকে বৈজ্ঞানিক বা নির্ভরযোগ্য তথ্য হিসেবে ধরা যায় না।

    তবুও বাবা ভাঙা এখনো সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবে মানুষের কৌতূহলকে উসকে দিচ্ছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহাকাশ অনুসন্ধান, ভূরাজনীতি কিংবা পৃথিবীর শেষ—এসব বিষয় ঘিরে তার ভবিষ্যদ্বাণী মানুষের কৌতূহল তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অজানার সঙ্গে মানুষের ভবিষ্যৎ জানার আকর্ষণই তার প্রতি আগ্রহের মূল কারণ।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়