১৬/০১/২০২৬, ১:১১ পূর্বাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    লাল সালাম তারেক রহমান

    আমিরুল ইসলাম কাগজী
    বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে আবারও জেগে উঠছে এক বহুল প্রতীক্ষিত ধ্রুবতারা।দীর্ঘ ১৮ বছর প্রবাসে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে আজ ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান—সময়ের সবচেয়ে আলোচিত, সবচেয়ে প্রত্যাশিত এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। এই প্রত্যাবর্তন কেবল একজন নেতার দেশে ফেরা নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা, একটি যুগান্তকারী বাঁক বদল। বিগত শতকে এমনই যুগান্তকারী দুটি ঘটনা ঘটেছিল যার একটি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে আরেকটি ইরানে। দুই নেতার একজন ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন দীর্ঘ প্রবাস (১০বছর) শেষে জুরিখ থেকে ট্রেন যোগে মস্কোতে পদার্পণ করেন১৯১৭ সালের ৩ এপ্রিল। আয়াতুল্লাহ খোমেনি ফ্রান্স থেকে তেহরান পদার্পণ করেন ১৯৭৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি(ইরাক ও তুরস্কে ১৩ বছর ৮ মাস এবং ফ্রান্সে ৪ মাস)। সেই ইতিহাসকে ছাড়িয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
    তারেক রহমান এখন আর একটি নাম কিংবা একটি গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ কিছু নয়। তারেক রহমানের নাম বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমাধিক আলোচিত। তারেক রহমানের নামটি গত ১৭বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এবং আছে। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি—এই তকমা লাগানোর চেষ্টা হলেও হালে পানি পায়নি। বরং তার নিজস্ব নেতৃত্বগুণ, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাকে পৌঁছে দিয়েছে সমসাময়িক রাজনীতিতে স্বতন্ত্র উচ্চতায় ।
    জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি (কলঙ্কিত এক-এগারো)রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারেক রহমানের জীবনে নেমে আসে কঠিন অধ্যায়। একের পর এক মামলা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দমননীতির মুখে তিনি যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে কাটানো তার জীবন ছিল একপ্রকার নির্বাসন—দেশ থেকে দূরে, পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন, কিন্তু রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন নন।
    যুক্তরাজ্যে প্রবাসে থেকেও তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে নেতৃত্ব দিয়েছেন দৃঢ় হাতে। দলীয় সংকট, দমন-পীড়ন, গ্রেপ্তার, মামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও তারেক রহমান ছিলেন দলের কৌশলগত অধিনায়ক। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে, অনলাইন বৈঠক ও বার্তার মাধ্যমে তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন, তৃণমূলকে সক্রিয় করেছেন এবং নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। প্রবাসে বসে দল পরিচালনার এই দক্ষতা তাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
    বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমান নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত নেতা। সরকারপক্ষ হোক কিংবা বিরোধী রাজনীতি—সব আলোচনার কেন্দ্রে তার নাম। সমর্থকদের কাছে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক, আবার অন্য একটি ধর্ম ব্যবসায়ী দলের কাছে তিনি প্রধান রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। এর আগে তিনি ছিলেন আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের চ্যালেঞ্জ। সরাসরি শেখ হাসিনার চোখে চোখ রেখে কথা বলেছেন। এখন আবার তাকে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।এই দ্বৈত অবস্থানই প্রমাণ করে তার রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রভাব।
    তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। গত ১৭ বছর ধরে তিনি আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও সুশাসন নিয়ে যে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, তা নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে মিলে যায়। “৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব” তার রাজনৈতিক দর্শনেরই প্রতিফলন—যেখানে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানুষের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের দিকে। সমাজের কোন মানুষ বাদ পড়েননি এই ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব থেকে।
    তারেক রহমানের আজ দেশে ফেরা নিছক আনুষ্ঠানিক ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলবে। প্রথমত, বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি ও আত্মবিশ্বাস ফিরে আসবে। দীর্ঘদিন নেতৃত্বশূন্যতার যে অভিযোগ বিএনপির রাজনীতিকে দুর্বল করেছিল, তার অবসান ঘটবে।
    দ্বিতীয়ত, রাজনীতিতে অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতির সম্ভাবনা তৈরি হবে। তারেক রহমান সংলাপ, ঐক্য ও সহনশীল রাজনীতির কথা বারবার তুলে ধরেছেন। তার প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক সহিংসতার বদলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে।
    তারেক রহমানের আগমনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে, তা কেবল ক্ষমতার পালাবদলের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। এটি রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন, গণতন্ত্রের কাঠামো এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে নতুন চিন্তার সূচনা করতে পারে।
    একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, মুক্ত গণমাধ্যম এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন—এই মৌলিক স্তম্ভগুলোকে শক্তিশালী করার যে অঙ্গীকার তিনি বারবার উচ্চারণ করেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পথে এগোতে পারবে।
    তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন তাই শুধুই একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরা নয়; এটি একটি প্রতীক—নির্বাসন থেকে প্রত্যাবর্তনের, দমন থেকে প্রতিরোধের, এবং অন্ধকার থেকে সম্ভাবনার দিকে যাত্রার। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও ধৈর্যের পর তার দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।
    ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বলা যায়, ২৫ ডিসেম্বর কেবল একটি তারিখ নয়—এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের দিন। ভবিষ্যৎ কী হবে, তা সময়ই বলবে; তবে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন যে ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
    ০০০০

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়