জেড নিউজ, ঢাকা:
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, বিকাশ ও ব্র্যান্ডিং এর লক্ষ্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা এবং এর বিকাশে করণীয়’শীর্ষক মতবিনিময় সভা।
আগারগাঁওস্থ ‘পর্যটন ভবন’এর শৈলপ্রপাত মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব জনাব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আখতার এনডিসি, ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ সামীমুজ্জামান।
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখা, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের অবদান নিশ্চিতকল্পে করণীয় ঠিক করতেই আজকের এই সভার আয়োজন। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পক্ষ থেকে মহাব্যবস্থাপক জনাব মোহাম্মদ জিয়াউল হক হাওলাদার দেশের পর্যটন শিল্পের উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সরকারি ও বেসরকারি স্টেকহোল্ডার প্রতিনিধিগণ ও সংবাদ মাধ্যমের কর্মীবৃন্দ বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা, চ্যালঞ্জ ও তা থেকে উত্তোরণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বেসিক অবকাঠামো যেমন যোগাযোগ ব্যবস্থা- রাস্তা-ঘাট, যানবাহন; বিমানবন্দর, নৌ-বন্দর, আবাসন ইত্যাদির উপর গুরুত্ব দিতে হবে। পর্যটন সম্ভাবনাময় কেন্দ্রগুলোতে আন্তর্জাতিকমানের পর্যটন সুবিধাদির প্রবর্তন করতে হবে। দক্ষ গাইড তৈরী করতে হবে, ঐতিহ্যবাহী এবং আঞ্চলিক রন্ধনশৈলীর প্রসার ঘটাতে হবে। দেশের পর্যটনের উন্নয়ন ও বিকাশে সংস্কৃতি, স্বরাষ্ট্র, ভূমি, স্থানীয় সরকার, গণপূর্ত, পররাষ্ট্র, পরিবেশ এবং নৌ-মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি অংশীজনদের একসাথে কাজ করতে হবে।
শুধুমাত্র পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি বদলে দেয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। তিনি দেশের পর্যটন আকর্ষণসমূহকে সংরক্ষণ করে আধুনিক সুবিধদি প্রবর্তন করার কথা বলেন। নৌ পর্যটনের উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন ঢাকার চারপাশের নৌ-পথে ট্যুরিস্টদের জন্য সার্কুলার ওয়াটার-ওয়ে চালু করা প্রয়োজন। এর ফলে পর্যটকরা বাংলাদেশের নদীর সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি নৌ-পথে বাংলাদেশের নদীর দু’পাড়ের জীবনযাত্রা এবং আমাদের নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতি ও নদীর তীরের বিভিন্ন হেরিটেইজ উপভোগ করতে পারবে। তিনি আরও বলেন সরকারি এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে সংযোগ আরো বাড়াতে হবে। বেসরকারি খাতের জন্য নীতিসহায়তা, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণ এবং সরকারের বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, বর্তমান সরকার পর্যটন খাতের অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে; জেলা প্রশাসক সম্মেলনে পর্যটন খাতের অবদান ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও তুলে ধরা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করার জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, AI-ভিত্তিক ট্রাভেল অ্যাপ, দক্ষ ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং জেলা-ভিত্তিক কমিউনিটি ট্যুরিজম, ইকো-ট্যুরিজম ও ওয়াটার ট্যুরিজমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব অঙ্গীকারকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে অঙ্গীকারগুলোকে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনায় বিন্যস্ত করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) বলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন বর্তমানে যে সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেগুলোর পাশাপাশি আরো বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে। কক্সবাজার, সিলেট, কুয়াকাটা, খুলনা, বাগেরহাটসহ অন্যান্য পর্যটন সমৃদ্ধ এলাকায় আন্তর্জাতিকমানের পর্যটন সুবিধাদি গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ক্রিয়েটিভ ইকোনমির আওতায় প্রকল্প প্রস্তাব প্রেরণ করা যেতে পারে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান বলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাম্প্রতিক উদ্যোগ হলো দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃতভাবে চিহ্নিত করা। দেশব্যাপী ইতোমধ্যে ১,৪৯৮টি পর্যটন স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসকল স্পটসমূহের মধ্য থেকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার ৬০ টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে পর্যটন শিল্প হতে জাতীয় অর্থনীতিতে ৮-১০ শতাংশ অবদান রাখা সম্ভব হবে। ফলে পর্যটন শিল্পে বর্তমানে কর্মরত প্রায় ২৪ লক্ষ লোকের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। দেশে একটি সার্কুলার ইকোনমির ভিত্তি তৈরী হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিও সচল হবে। পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে সভায় প্রাপ্ত বিভিন্ন সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে মর্মে জানান চেয়ারম্যান।




