spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

দলের নাম ভাঙিয়ে চলা লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে : রিজভী

জেড নিউজ ঢাকা:

অনৈতিক নয়, গঠনমূলক কাজ করে দলকে শক্তিশালী করতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, দলের মধ্যে হয়ত দুই-একজন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে থাকতে পারেন, তাদের বলব, ৫ আগস্টের পর থেকে দেখেছেন আমাদের চেয়ারম্যান কত শক্ত হাতে, যারা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে যুক্ত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে অবস্থিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা ও দোয়া করার পর তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কেউ অনৈতিক কাজ করবেন না। গঠনমূলক কাজে থাকবেন এবং দলকে শক্তিশালী করবেন, যাতে নেতাকর্মীরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারে। সেই চেষ্টাই আপনারা করবেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের যে কর্তব্য হচ্ছে দলকে সুশৃঙ্খল ও সুসমন্নতভাবে পরিচালনা করা। দলের চেয়ারম্যান নির্দেশিত যে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চলমান আছে, সেই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড যাতে সুসম্পন্ন করা যায়, সংগঠিত করা যায় এবং সুন্দরভাবে এই প্রক্রিয়া নিষ্পন্ন করা যায়, সেই দিকেই আমি নিয়ে যেতে চেষ্টা করব, নিয়ে যাব।’

তিনি আরো বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীদেরকে বলব, আজকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনগণের শুভেচ্ছা নিয়ে, জনগণের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতার পরিচালকের আসনে বসেছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছেন।

তার ঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যেকটিই জনগণের স্বার্থে, মানব কল্যাণে। সামাজিক সুরক্ষাসহ অবকাঠামোগত যে উন্নয়নে তিনি পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেই পদক্ষেপ যাতে সুচারুভাবে পরিচালিত হয়।’

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, জনকল্যাণে তারেক রহমানের পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা জনগণকে অবহিত করবেন এবং জনগণের সঙ্গে তারা সম্পৃক্ত থাকবেন। দলের নেতাকর্মী যদি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে কেউ অনৈতিক চিন্তা করতে পারবে না। কারণ আমাদের প্রত্যেকটি কাজ, প্রত্যেকটি কর্মকাণ্ড, সরকারের প্রত্যেকটি কর্মসূচির বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছেন।

সুতরাং জনস্বার্থের বাইরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কোনো কাজ করবে না।’

রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি জনগণের কাছে জনপ্রিয় কেন-সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এই দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তারা জনকল্যাণ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং দেশের আর্থিক উন্নতির জন্য যে কাজগুলো করেছেন, সেগুলোই আজকে জনগণের কাছে বিএনপির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘তারেক রহমান সেই ধারাবাহিক কাজ এবং তার নতুন কিছু কর্মসূচি জনগণের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, সেগুলো তিনি বাস্তবায়ন করছেন। আমরা দলের নেতা-কর্মীরা সেই বাস্তবায়নকে সহযোগিতা করব, জনগণের কাছে তুলে ধরব এবং এর মাধ্যমেই জনগণের কাছে দলের জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পাবে।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে দলের নেতারা, ইউনিয়ন, উপজেলার বা জেলার নেতারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করে ইউপি নির্বাচনে যিনি যোগ্য প্রার্থী তাকে সমর্থন দেবেন। কারণ দলীয় প্রতীকে এখন তো নির্বাচন হবে না। একজন দলীয় সমর্থিত ব্যক্তি অবশ্যই নির্বাচিত হবে।’

তিনি বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে এত অপপ্রচার, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র হচ্ছে তারপরও জরিপে দেখা গেছে বিএনপির জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। প্রায় ৫৪, ৫৫ বা ৫৬ শতাংশ। আর ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আরো বেশি ৬৫-৬৬ শতাংশ। সুতরাং জনগণের পক্ষে এবং স্বার্থে কাজ করলে সেই দলের সরকার কোনোদিনই ব্যর্থ হবে না, সেই সরকার জনগণের সমাদৃত সরকার হিসেবে নিয়োজিত থাকবে।

শ্রদ্ধার অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়