জেড নিউজ ডেস্ক:
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নাম উল্লেখ না করেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা এবং তথ্য বিকৃতির অভিযোগ তুলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পাকিস্তানের নাম সরাসরি উচ্চারণ না করলেও তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল- আগের দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দেওয়া বক্তব্যের জবাব দিচ্ছেন তিনি।
শনিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেন জয়শঙ্কর। সেখানে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিক চর্চাকারী একটি পক্ষ আগের দিন জাতিসংঘের মঞ্চে তথ্য বিকৃত করেছে এবং সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে। জয়শঙ্করের ভাষায়, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত কোনো পক্ষ এর পরিণতি থেকে দায়মুক্তি দাবি করতে পারে না। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারত প্রয়োগ করবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।
এর আগে, শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে শাহবাজ শরিফ কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের প্রশংসা করেন তিনি। কাশ্মীর সমস্যার একটি ‘ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য’ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
পরদিন সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জয়শঙ্কর বলেন, সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা এবং এর পরিণতি থেকে দায়মুক্তির পক্ষে দেওয়া কোনো যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, বন্ধুত্ব ও সদিচ্ছার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ একসঙ্গে চলতে পারে না। সন্ত্রাসবাদের অর্থায়ন বন্ধের ওপরও জোর দেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে তা ভেঙে দেওয়ার আহ্বান উঠে আসে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার কথাও বলেন তিনি।
জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে জয়শঙ্কর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তার বিষয়ও তুলে ধরেন। বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের ওপর হামলার বিরোধিতা করে তিনি উত্তেজনা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এর এক দিন আগে, জাতিসংঘের একটি সংবাদ সম্মেলনের বাইরে পাকিস্তান নিয়ে আরও সরাসরি মন্তব্য করেছিলেন জয়শঙ্কর। এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ ঘিরে পাল্টা প্রশ্ন তোলেন। ওই মন্তব্যও ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ব্যাপক আলোচনায় আসে।
জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে ভারত ও পাকিস্তানের বক্তব্যে কাশ্মীর, সন্ত্রাসবাদ এবং ২০২৫ সালের সামরিক সংঘাতের বিষয়গুলো ফের সামনে এসেছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে দীর্ঘদিনের বিরোধও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন করে দৃশ্যমান হয়েছে।





