জেড নিউজ ডেস্ক:
জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রধান লক্ষ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক প্রতিরোধ, শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য দূর করা এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তোলা। রাষ্ট্রীয় অপচয় বন্ধে তিনি নিজে মাত্র ১৯ জন সফরসঙ্গী নিয়ে বিদেশে গিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে আইসিটি মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য দফতরের মাধ্যমে সব ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন চালু করা হচ্ছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয়-সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতা উপভোগ করতে কিংবা নিজেদের ভাগ্য বদল করতে আসিনি। এসেছি এ দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদল করতে এবং তাদের রাষ্ট্রীয় সেবা নিশ্চিত করতে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়া একজন সামরিক কর্মকর্তা, প্রেসিডেন্ট এবং একটি ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে আজিজুল হক কলেজের ছাত্র হিসেবে তার স্বাধীনতার ঘোষণার প্রভাব আমি নিজ চোখে দেখেছি। সিপাহী-জনতার বিপ্লবের পর রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে এসে তিনি দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে মজবুত করেন। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করেন। পোশাক খাত, পল্লী বিদ্যুৎ ও বিদেশে জনশক্তি রফতানি শুরু করেন। তিনি গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃস্থাপন করেছিলেন।
আব্দুল বারী বলেন, স্বৈরাচার হটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে বেগম খালেদা জিয়া অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। ২০০১ সাল থেকে তার অধীনে চাকরি করার সুবাদে দেখেছি শহীদ জিয়ার মতো তিনিও ছিলেন এক অনন্য স্বচ্ছ ও সৎ মানুষ। যিনি রাষ্ট্রের এক টাকা অপচয়ও সহ্য করতেন না। পরবর্তীতে দীর্ঘ দেড় যুগের ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায়।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি সত্ত্বেও সঠিক নীতি গ্রহণের ফলে আশপাশের দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলেও আমাদের মুদ্রার মান স্থিতিশীল রয়েছে। অতিরিক্ত নোট না ছাপিয়ে সম্পদ তৈরির চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে একই ধরনের ব্যাগ, পোশাক ও মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সরাসরি অর্থ পৌঁছাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় উপাসনালয় পরিচালনাকারীদের সহযোগিতার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এই জন্মভূমি বগুড়াকে একটি মডেল জেলা এবং ‘ইকোনমিক হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা হবে। আজিজুল হক কলেজের মানোন্নয়ন, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনআইসিইউ সুবিধাসহ নতুন নতুন সেবা চালু। বিমানবন্দর চালুর জন্য রানওয়ে সম্প্রসারণ। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের জমি অধিগ্রহণের টাকাছাড় এবং একটি ইউনিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
এ সময় তিনি বগুড়াকে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও গতিশীল মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সিভিল সার্জনসহ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন, জেলা পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকিরসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ।




