spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

জেড নিউজ ডেস্ক:

ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলের ট্যাংকারের ওপর গুলি চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্যাংকারটি ইরানের খার্গ দ্বীপের উদ্দেশে যাচ্ছিল। এই সর্বশেষ দফার হামলায় তেহরান প্রথমবারের মতো আক্রমণের শিকার হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যত সম্পূর্ণ ভেস্তে গিয়ে পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংঘাতের পঞ্চম দিনে এসে প্রথমবারের মতো খোদ ইরানের রাজধানী তেহরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে পাল্টা হামলা চালানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সমস্ত জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। এসবের মাঝেই সদিচ্ছার নিদর্শনস্বরূপ আটকে পড়া এক মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে তেহরান।

বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, হামলার পঞ্চম দিনে তারা একটি খালি তেল ট্যাংকারকে অকেজো করে দিয়েছে। জাহাজটি একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর এর স্মোকস্ট্যাকে (ধোঁয়া নির্গমন নল) হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

বুধবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র উপকূলীয় প্রতিরক্ষা এবং ক্ষেপণাস্ত্র সাইটগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে সকালে একটি পৃথক দফার হামলায় ইরানের গ্রেটার তুনব দ্বীপে ক্রুজ মিসাইল সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ সাইটগুলোতে আঘাত হানে দেশটির সামরিক বাহিনী।

ইরান বাহরাইন ও কুয়েতকে লক্ষ্য করে হামলার মাধ্যমে এর জবাব দিয়েছে ইরান। ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন হামলায় ৩৫ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।

উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে গেছে বলে মনে হওয়ার কয়েক দিন পর এই ক্রমবর্ধমান হামলার তরঙ্গগুলো এলো, যা পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বুধবার গভীর রাতে জানিয়েছে, সর্বশেষ দফার হামলাগুলোর লক্ষ্য ছিল ইরানের সেই সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা যা হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে হুমকি দিতে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির প্রধান বন্দর শহর বন্দর আব্বাসের পাশাপাশি আহভাজ শহরের আশেপাশের চারটি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ ইরানের সিরিক এবং কেশমের কাছাকাছিও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

শনিবার তেহরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানানোর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টা-পাল্টি হামলা তীব্রতর হয়েছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে সামুদ্রিক যান চলাচল আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হতো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়