জেড নিউজ ডেস্ক:
মহাকাশ যেন এক বিশাল রাসায়নিক রান্নাঘর! আর এবার সেই মহাকাশেই ‘মিষ্টি’ বা চিনির খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানীরা। ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মহাকাশের আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যমে (আইএসএম) চিনির অণু পাওয়া গেছে। এই যুগান্তকারী আবিষ্কার মহাকাশে কীভাবে প্রাণের উপাদান ছড়িয়ে পড়ে, তার এক দারুণ ধারণা দিচ্ছে।
এর আগেও উল্কাপিণ্ডে রাইবোজ ও গ্লুকোজের মতো চিনি পাওয়া গিয়েছিল। তবে এবারের আবিষ্কারটি একেবারেই আলাদা। জ্যোতির্পদার্থবিদ ইজাসকুন জিমেনেজ-সেরার নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক দল আমাদের ছায়াপথের (মিল্কিওয়ে) কেন্দ্রে একটি ঘন আণবিক মেঘের ভেতর ‘এরিথ্রুলোজ’ নামের চিনির খোঁজ পেয়েছেন। এটি মূলত চার-কার্বনযুক্ত এক বিশেষ ধরনের চিনি।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই চিনি টিএনএ (TNA) গঠনের প্রধান উপাদান। ধারণা করা হয়, পৃথিবীতে আরএনএ (RNA) এবং ডিএনএ (DNA) সৃষ্টির আগের ধাপ হলো এই টিএনএ। এর মানে হলো, মহাকাশ থেকেই প্রাণ সৃষ্টির প্রাথমিক উপাদানগুলো আসতে পারে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, সেখানে তিন-কার্বনের কোনো চিনি পাওয়া যায়নি, বরং চার-কার্বনের চিনিই বেশি মিলেছে। এটি মহাকাশবিজ্ঞানীদের বেশ অবাক করেছে।
৪০ মিটারের ‘ইয়েবেস’ এবং ৩০ মিটারের ‘আইআরএএম’ নামের দুটি শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপ দিয়ে এই অণু শনাক্ত করা হয়। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, প্রায় ৪১০ থেকে ৩৮০ কোটি বছর আগে উল্কাপাতের সময় পৃথিবীতে বিপুল পরিমাণে (০.৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন টন) এই চিনি এসে পড়েছিল।
গবেষক দলের সদস্য কার্লোস ব্রায়োনেস বলেন, এই আবিষ্কার খুবই রোমাঞ্চকর। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মহাকাশের অন্য কোথাও এমন উপাদান থাকলে সেখানেও প্রাণের বিকাশ ঘটার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।





