২৮/০৬/২০২৬, ১৪:৪৫ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    হেলে থাকলেও পিসার টাওয়ারসহ অন্যান্য ভবন কেন ভেঙে পড়ে না

    জেড নিউজ ডেস্ক :

    ইতালির পিসার হেলানো টাওয়ার বিশ্বের অন্যতম প্রতীকী স্থাপনা। তবে কেবল পিসার টাওয়ারই নয়, নেদারল্যান্ডসের ড্যান্সিং হাউস থেকে শুরু করে চীনের টাইগার হিল প্যাগোডা পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এমন অনেক হেলে থাকা স্থাপনা রয়েছে। প্রশ্ন হলো-এসব ভবন কেন হেলে থাকে এবং হেলে থাকার পরও কেন ভেঙে পড়ে না?

    নেদারল্যান্ডসের ডেলফ্‌ট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডেল্টারেস-এর জিওটেকনিক্যাল প্র্যাকটিসের সহযোগী অধ্যাপক ড. ম্যান্ডি কর্ফ জানান, কোনো কাঠামো একপাশে হেলে থাকার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ভবনের ভিত্তির ধরনের কারণে এমনটি হয়, যেমন নেদারল্যান্ডসের ড্যান্সিং হাউজ। আমস্টারডাম শহরের কেন্দ্রে বেশিরভাগ বাড়িই কাঠের খুঁটির ওপর নির্মিত। এই খুঁটিগুলো ভবনের দেয়াল ও সামনের অংশের নিচে জোড়ায় জোড়ায় স্থাপন করা হয় এবং এগুলো নরম কাদা, পিট অথবা বালুযুক্ত মাটির প্রায় ১২ মিটার গভীরে প্রবেশ করে। খুঁটিগুলো ভালো থাকলে ভবনের কোনো সমস্যা হয় না। তবে এগুলো যদি ক্ষয় হয় বা পচতে শুরু করে, তখন ফাটল দেখা দেয় এবং ওজনের অসম বণ্টনের ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভবন হেলে যেতে পারে।

    আবার মাটির অবস্থার কারণেও ভবন হেলে যায়, যেমনটি পিসার টাওয়ারের ক্ষেত্রে ঘটেছে। ইউনিভার্সটি অফ পিসার মাটির বলবিদ্যা ও ভিত্তি বিষয়ের অধ্যাপক এবং পিসার টাওয়ার পর্যবেক্ষণ দলের সদস্য নুনজিয়ান্তে স্কুয়েগলিয়া জানান, অত্যন্ত নরম মাটির কারণে নির্মাণের শুরু থেকেই এই টাওয়ারটি হেলে পড়তে শুরু করে এবং এটি তিন থেকে চার মিটার পর্যন্ত মাটিতে বসে গিয়েছিল।

    মাটিতে মানুষের সৃষ্টি করা পরিবর্তনের কারণেও ভবন হেলতে পারে। ডেলফ্‌টের সবচেয়ে পুরোনো গীর্জা ‘আউডা কার্ক’-এর টাওয়ারটি খালের দিকে হেলে রয়েছে। কারণ খালের জন্য একপাশের মাটি খনন করায় ওই পাশের মাটি বেশি নরম হয়ে যায় এবং নির্মাণের সময় থেকেই এটি হেলে যেতে শুরু করে। এছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তনও ভবনকে হেলিয়ে দিতে পারে।

    তবে কিছু ভবন ইচ্ছাকৃতভাবেও হেলানো আকারে তৈরি করা হয়। আমস্টারডামের অনেক বাণিজ্যিক ভবন ও খালের ধারের গুদামঘর সামনের দিকে হেলানো অবস্থায় তৈরি করা হতো, যাতে পণ্য সহজে ওপরে তোলা যায়।

    ড. কর্ফের মতে, সামনে হেলে থাকা পরিকল্পিত হলেও পাশের দিকে হেলে থাকা সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।

    ড. কর্ফের মতে, একটি ভবন হেলে থাকা মানেই যে সেটি কাঠামোগতভাবে দুর্বল বা অস্থিতিশীল তা নয়। কাঠামোগতভাবে অস্থিতিশীল হতে হলে ভবনটিকে অনেক বেশি হেলতে হয়। তবে কখনো কখনো হেলে থাকা অবস্থা ঠিকঠাক করে নিতে হয়। যেমন-পিসার টাওয়ারটি নির্মাণের শুরু থেকে হেলানো থাকলেও ২০শ শতকে এর হেলে যাওয়া ক্রমশ বাড়ছিল। ১৯৮৯ সালে ইতালির পাভিয়া শহরের সিভিক টাওয়ার ভেঙে পড়ার পর ১৯৯০ সালে পিসার টাওয়ার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এটিকে নিরাপদ করতে ভিত্তির উত্তর দিক থেকে ৩৭ ঘনমিটার মাটি অপসারণ করা হয়। দীর্ঘ ১১ বছর কাজ শেষে ২০০১ সালে টাওয়ারটি আবার খুলে দেওয়া হয় এবং এর হেলে থাকা ৪০ সেন্টিমিটারেরও বেশি কমানো হয়।

    প্রকৌশলীরা মনে করেন, অন্তত আগামী ২০০ বছর এটি নিরাপদ থাকবে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়