২০/০৬/২০২৬, ১৭:১৫ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    তুরস্ককে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে থাকলো প্যারাগুয়ে

    জেড নিউজ স্পোর্টস:

    বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে জয় প্রয়োজন ছিল দুই দলেরই; কিন্তু দিন শেষে জয়ী দলটির নাম প্যারাগুয়ে। ম্যাচ শুরুর ৬৪ সেকেন্ডের মাথায় যে গোল দিয়েছিলেন ম্যাতিয়াস গ্যালারজা, সেটাই শেষ পর্যন্ত তুরস্কের বিপক্ষে তাদের জয় নিশ্চিত করলো। সে সঙ্গে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনাও টিকিয়ে রাখলো লাতিন আমেরিকার দেশটি।

    তুরস্কের আক্রমণের পর আক্রমণ, একের পর এক সুযোগ, প্রতিপক্ষ ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও গোলের দেখা মিলল না। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৬৪ সেকেন্ডের মাথায় হজম করা এক গোলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেল ভিনচেনজো মনতেয়ার দল তুরস্ক। সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে নাটকীয় ম্যাচে ১০ জনের প্যারাগুয়ের কাছে একমাত্র গোলে হেরেছে তুরস্ক।

    ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় তুরস্ক। দ্বিতীয় মিনিটের শুরুতেই হুলিও এনসিসোর চমৎকার ফ্লিক থেকে বল পান ম্যাতিয়াস গালারজা। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ-পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। মাত্র ৬৪ সেকেন্ডে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে তুরস্ক।

    এই গোলটি ছিল ১৯৯৮ বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে সেলসো আয়ালার ৫২ সেকেন্ডে করা গোলের পর বিশ্বকাপে কোনো দক্ষিণ আমেরিকান দলের দ্রুততম গোল।

    গোল হজমের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তুরস্ক। বলের দখল ৮২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। হাকান চালহানগলু, আরদা গুলের, কেনান ইলদিজ, মুলদুররা বারবার প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগে আক্রমণ চালান। কিন্তু গোলের দেখা পাননি।

    ১৩ মিনিটে আকতুরকোগলুর কাটব্যাক থেকে আরদা গুলেরের দুর্দান্ত সুযোগ আসে, কিন্তু তার শট অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। ৩৪ মিনিটে সমতায় ফেরার সবচেয়ে বড় সুযোগ পায় তুরস্ক। চালহানগলুর ফ্রি-কিক থেকে মুলদুরের হেড প্রথমে ক্রসবারে, পরে পোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে। ভাগ্য যেন কোনোভাবেই তুরস্কের পক্ষে ছিল না।

    প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। প্যারাগুয়ের তারকা মিগেল আলমিরন মুলদুরকে কিছু বলার সময় মুখ ঢেকে কথা বলেন। নতুন ফিফা নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠে মুখ ঢেকে কথা বলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

    ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখান আলমিরনকে। ১০ জনের দলে পরিণত হয় প্যারাগুয়ে। তখন মনে হচ্ছিল, দ্বিতীয়ার্ধে তুরস্ক সহজেই ম্যাচে ফিরবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।

    একজন বেশি খেলোয়াড় নিয়ে পুরো দ্বিতীয়ার্ধ খেললেও গোল করতে পারেনি তুরস্ক। ৪৮ মিনিটে কেনান ইলদিজের শট সাইড নেটে লাগে। ৫৮ মিনিটে চ্যালহানওলু ছয় গজ দূর থেকে বল বারপোস্টের ওপর দিয়ে পাঠান।

    ৬৩ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় দেনিজ গুলের হেড সরাসরি গোলরক্ষক গিলের হাতে জমা পড়ে। ৭৪ মিনিটে আবদুলকেরিম বারদাকচির দূরপাল্লার শট দুর্দান্তভাবে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান গিল। এরপর ৭৮ মিনিটে মুলদুরের ফাঁকা হেড পোস্টের বাইরে চলে যায়।

    ৮০ মিনিটে ম্যাচে নিজেদের ২৪তম শট নেয় তুরস্ক। কিন্তু দেমিরালের প্রচেষ্টা ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওরল্যান্ডো গিল ছিলেন ম্যাচের অন্যতম নায়ক। ৮৯ মিনিটে ইউনুস উজুনের জোরালো শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন তিনি। ফিরতি বলে গুলও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। শেষ মুহূর্তে ৯৭ মিনিটে আরদা গুলেরের ক্রস থেকে দেমিরালের হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে গেলে তুরস্কের শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যায়।

    ম্যাচজুড়ে তুরস্ক প্রায় একতরফা আধিপত্য দেখিয়েছে। তারা ২৪টির বেশি শট নিয়েছে, অসংখ্য ক্রস করেছে এবং দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোলের সামনে চরম ব্যর্থতার মূল্য দিতে হয়েছে তাদের।

    অন্যদিকে প্যারাগুয়ে মাত্র কয়েকটি সুযোগ পেয়েও শুরুতেই গোল করে সেটি ধরে রেখেছে অসাধারণ রক্ষণে। ১০ জনের দল নিয়েও তারা যে লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছে, তা বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় রক্ষণাত্মক পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    এই জয়ে প্যারাগুয়ে নকআউট পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখলো। অন্যদিকে তুরস্কের জন্য বিশ্বকাপ অভিযান এখন প্রায় শেষ হওয়ার মুখে। শেষ ম্যাচে জিতলেও তুরস্কের দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়