জেড নিউজ ডেস্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কলিউশন সামিটে’ যোগ দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, “আমি আমার দেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এখানে এসেছি। আমার স্বামী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে, আমাদের সদ্য নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল ম্যানডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে।
একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল জাতি গঠনের লক্ষ্যে আমাদের সরকার ইতিমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর মতো উদ্যোগ চালু করেছে, যা পরিবারগুলোকে আর্থিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে শক্তিশালী করে এবং শিশুদের নিরাপদ ও যত্নশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠাও নিশ্চিত করে। একজন চিকিৎসক হিসেবে, আমি প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; যেখানে শুধু চিকিৎসার ওপরই নয়, জীবনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে প্রতিরোধের ওপরও জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের প্রতি যত্ন নেওয়া ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তন ও সমৃদ্ধি আনয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ওয়ার্কিং সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের উন্নয়ন বিষয়ে বৈশ্বিক অঙ্গীকারে বিশ্বনেতা ও অংশীদারদের একত্রিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদ জানান। এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চল্লিশের অধিক ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীরা অংশগ্রহণ করেছেন, যা বিশ্বব্যাপী শিশুদের কল্যাণ ও সম্ভাবনা উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান আরো বলেন, ‘প্রতিটি জাতির ভবিষ্যৎ তাদের শিশুদের যত্ন, শিক্ষা এবং মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল।’
তিনি বলেন, “আজ এই ঐতিহাসিক ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কলিউশন সামিট’ শীর্ষ সম্মেলনে আপনাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারাটা আমার জন্য এক বিরাট সম্মানের বিষয়। আমি ফার্স্ট লেডিকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি সারা বিশ্ব থেকে আমাদের এমন একটি মহৎ উদ্দেশ্যে একত্রিত করেছেন যা প্রতিটি জাতিকে স্পর্শ করে—আমাদের শিশুদের প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনা। আমরা উপলব্ধি করি যে, প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ তার শিশুদের জীবনেই লেখা থাকে।
তিনি বলেন, আমরা যে যত্ন প্রদান করি, শিক্ষায় যে বিনিয়োগ করি এবং যে মূল্যবোধ গড়ে তুলি, তা-ই আগামী দিনে তাদের গড়া জাতিকে রূপ দেবে।’
অন্তর্ভুক্তি ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-জেডআরএফ’ এবং ‘সুরভী‘র সামাজিক এবং অলাভজনক সংগঠনের সঙ্গে আমার কাজ শিক্ষা, যুব উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের প্রসারে আমার অঙ্গীকারকে আরো দৃঢ় করেছে। আমরা বিশ্বাস করি যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার শিক্ষাব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং উপকরণের সহজলভ্যতা এখনো অধরা। আমাদের সরকার ডিজিটাল যুগে উন্নতি করার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করছে। আমাদের সরকার শিক্ষকদের ট্যাবলেট কম্পিউটার সরবরাহ করছে, শিক্ষা উপকরণ হালনাগাদ করছে, ডিজিটাল পাঠ্যক্রম এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতি চালু করছে।
শ্রেণিকক্ষগুলো মাল্টিমিডিয়া বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিকশিত হচ্ছে, যা দলবদ্ধ কাজ, সৃজনশীলতা এবং আদর্শ স্থাপনে উৎসাহিত করছে।”
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘প্রযুক্তি, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রযুক্তি (এডটেক), শহুরে ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য কমাতে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে আমরা এই সরঞ্জামগুলোর নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে শিশুরা একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশে বেড়ে ওঠে।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আমলে নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নারী ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য রয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী অধিকারকে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করেছিলেন। আমাদের সরকার স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি আরো বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারি খাতের ভিত্তি স্থাপন করে লক্ষ লক্ষ নারীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। এই প্রচেষ্টাগুলো প্রমাণ করে যে, যখন নারীরা ক্ষমতায়িত হন, তখন পরিবারগুলো শক্তিশালী হয় এবং শিশুরা সমৃদ্ধি লাভ করে। আমরা অংশীদারিত্বের গুরুত্বও স্বীকার করি। বেসরকারি খাত এবং আমাদের বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে আমরা নিরাপদ ডিজিটাল পরিসর প্রসারিত করতে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে, অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন করতে এবং সবার জন্য শিক্ষার মান উন্নত করতে চাই। শক্তিশালী প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে, আমরা প্রতিটি অঞ্চলকে সংযুক্ত করতে, প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষিত করতে এবং প্রতিটি শিক্ষণ যাত্রাকে ব্যক্তিগতকৃত করতে চাই। একসঙ্গে, আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারি, যা হবে সহনশীল, সহানুভূতিশীল এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত। পরিশেষে, আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। জ্ঞান বিনিময়, একে অপরের কাছ থেকে শেখা এবং সীমানা পেরিয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে, আমরা কেবল আমাদের দেশগুলোকেই শক্তিশালী করি না, বরং আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎকেও শক্তিশালী করি এবং বিশ্ব এর উত্তরাধিকারী হবে।’
অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমানের সহকারী হিসেবে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিনিয়র চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং নারী উদ্যোক্তা মিস মেহনাজ মান্নান অংশগ্রহণ করেন। এসময় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম, ডেপুটি চিফ অব মিশন ডি. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও প্রয়োগ উপস্থাপন করা হয়। ডা. জুবাইদা রহমান এবং তার প্রতিনিধিদল প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ডা. জুবাইদা রহমান অংশগ্রহণ করবেন।



