জেড নিউজ ডেস্ক:
গত ১৭ নভেম্বর চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রামের লালদিয়ায় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের সাথে এই চুক্তি মাধ্যমে এই বিনিয়োগই হলো ইউরোপের কোনো দেশের একক বৃহৎ বিনিয়োগ। লালদিয়া হবে অত্যাধুনিক গ্রিনফিল্ড টার্মিনাল। সেখানে নিরাপত্তা, অটোমেশন ও স্থায়িত্বের সর্বোচ্চ মান থাকবে। এতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। এই চুক্তির উল্লেখযোগ্য তথ্য হচ্ছে,চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২৫০ কোটি টাকা এককালীন ফি পাবে বন্দর। মূল কনসেশন চুক্তিটি ৩৩ বছরের। এর মধ্যে নির্মাণে ৩ বছর এবং বাকি ৩০ বছর পরিচালনার। মেয়াদ শেষে অবকাঠামো সরকারের হাতে যাবে।
টার্মিনাল চালু হলে কনটেইনারপ্রতি আয় ভাগাভাগি শুরু হবে। গড়ে আট লাখ একক কনটেইনার ধরে ৩০ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ একক কনটেইনার ওঠানো–নামানো হতে পারে। এতে বন্দরের আয় হতে পারে ৫০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এর বাইরে বহির্নোঙরে জাহাজ আসার পর থেকে টার্মিনালে ভেড়ানো পর্যন্ত যত মাশুল আছে, তা পাবে বন্দর। তবে এর সসম্ভাবনা সত্ত্বেও দেশি বিদেশি বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব চলছেই। প্রশ্ন উঠছে অনেক।
কেন বিদেশি অপারেটরে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে, সেই সাথে বাড়বে বিনিয়োগ :
বাংলাদেশের মোট আমদানি–রপ্তানির ৯২% হয় গুরুত্বপূর্ণ এই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়। যা আধুনিক সুবিধার অভাবে বর্তমানে একটি জাহাজ থেকে পণ্য আনলোড করতে গড়ে ১৬ দিন লাগে। ইউক্রেন থেকে তেল আসলেও বন্দরে দেরি হওয়ায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় ফলে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেয়।
ড. ইউনূস নের্তৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকার চায় বন্দরকে আধুনিক করে আনলোডিং সময় ১৬ দিন থেকে কমিয়ে ৪৮ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা। এজন্য বিশ্ব–মানের অভিজ্ঞ বিদেশি কোম্পানিকে নিয়ে আসা হচ্ছে, যারা ৩৩ দেশে ৬০ এর অধিক বন্দর পরিচালনা করে। *পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি দেবে বিদেশিরা, কিন্তু কাজ করবে বাংলাদেশের প্রকৌশলী ও শ্রমিক—যাতে তারা দক্ষ হয়ে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের কাজ করতে পারে।
নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নৌবাহিনী– কাস্টমসসহ সব সংস্থার ক্ষমতা সরকারের হাতেই থাকবে, তাই সার্বভৌমত্ব হারানোর প্রশ্ন নেই।
বন্দর আধুনিক হলে লাভ:
১. বছরে ৮ লাখ TEU অঅর্থাৎ অতিরিক্ত ধারণক্ষমতা ৪৪% বৃদ্ধি পাবে। প্রতি ইউনিটে পণ্য পরিবহনের খরচ কমবে।
২. আমদানি – রপ্তানি দ্রুততর হবে।বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ বড় কনটেইনার জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পারবে। বৈশ্বিক সরাসরি রুট খুলবে।
৩. শত শত স্থানীয় কর্মসংস্থান; আরও হাজারো পরোক্ষ চাকরি।
৪. বিশ্বমানের (ডিজিটাল টার্মিনাল অপারেশন সিস্টেম, LEAN পদ্ধতি ও FLOW Framework-এর মাধ্যমে) প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও দক্ষতা স্থানান্তর হবে
৫. দুর্নীতি কমে যাবে; ডিজিটাল ও পরিবেশবান্ধব ‘গ্রীন পোর্ট’।
এই প্রক্রিয়র নেপথ্যে বাধা কারা দিচ্ছে?
মূলত বন্দরের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট, কিছু অসাধু শ্রমিক গোষ্ঠী, রাজনৈতিক স্বার্থবাদী ও মাফিয়া চক্র—যারা চায় বন্দর অপরিবর্তিত থাকুক। এছাড়া পতিত স্বৈরাচার আর দোসররা বন্দর ইস্যু নিয়া প্রোপাগাণ্ডার মাধ্যমে দেশে আরেকটা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাইছে। সর্বোপরি বন্দর আধুনিকায়ন বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, দক্ষতা বৃদ্ধি ও জিডিপি বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। দীর্ঘমেয়াদেও এই কাজ বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমেই করতে হতো। তাই দ্রুত করা ছাড়া দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।



