জেড নিউজ, ঢাকা:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) গাড়ি চালানো শিখতে গিয়ে সহপাঠীদের ধাক্কা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (এফবিএস) গেটের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত সাদমান সাকিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের ছেলে। তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যও।
দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ছয় শিক্ষার্থী ও ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীসহ সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের পা ভেঙে গেছে। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আহত মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা হলেন- জাহিদুল ইসলাম হৃদয়, কানিজ ফাতেমা, তাসনিয়া বেগম, মিফতাহুল, তাসফিয়া তাবাসসুম ও সিদরাতুল। এছাড়া ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়া এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়ার পা ভেঙে গেছে। দুর্ঘটনার পর তাঁর মুখ থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল বলে জানা গেছে। অন্য আহত শিক্ষার্থীদের হাত, পা, হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে ও ছিলে গেছে। তাঁদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্তুজা মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সাদমান গাড়ি চালানো শিখছিলেন। এ সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি সড়কে চলাচলকারী শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেন। দুর্ঘটনার পর উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাঁকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
সাদমান সাকিব বলেন, ‘আমি আগে তেমন গাড়ি চালাইনি। আজকে শখের বসে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলাম। সঙ্গে ড্রাইভারও ছিল। চালাতে চালাতে আমি কলা ভবনে একটা রাউন্ড দিয়ে আসি। ওই মুহূর্তে বেশি মানুষ দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই। এফবিএসের সামনে এসে ব্রেক নিতে গিয়ে আমি অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে দিই। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকে। সামনে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রথমে গাড়ি ধাক্কা দেয়। পরে ড্রাইভারের সহায়তায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে আসে।’
তবে দুর্ঘটনার আগেও গাড়িটি অস্বাভাবিক গতিতে চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সিনহা মল্লিক। তিনি বলেন, ‘আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে শ্যাডো থেকে সাইকেল নিয়ে এফবিএস রোডে উঠতেই গাড়িটি আমাকে অস্বাভাবিকভাবে ওভারটেক করে এফবিএসের দিকে যায়। সামনে যত রিকশা বা শিক্ষার্থী আসছিল, তাদের উদ্দেশ্যে হর্ন দিচ্ছিল। সম্ভবত সেবার দুর্ঘটনাটি ঘটেনি। পরবর্তী চক্করে ঘটেছে।’
ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে মামলা করার আহ্বান জানান। এ দাবিতে তাঁরা লিখিত আবেদন তৈরি করে শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। প্রক্টর কার্যালয় এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল প্রাং সমকালকে বলেন, ‘যিনি অভিযুক্ত তিনিও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ছেলে। কিন্তু আমরা কোনো পক্ষপাতিত্ব করব না। সংক্ষুব্ধরা যদি মামলা করতে চায়, আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’
দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রক্টর জানান, সাদমান তাঁর বাবাকে না জানিয়েই গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলেন। তিনি গাড়ি চালাতে পারেন না। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে এসে ব্রেক করতে গিয়ে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দেওয়ায় গাড়িটি একটি রিকশায় ধাক্কা দেয়। তবে এ ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তার পায়ের লিগামেন্টে সমস্যা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাদমানের বাবা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি তা মেনে নেবেন।





