০১/০৭/২০২৬, ১৬:১৫ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    পঞ্চগড়ে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান, রোদ-বৃষ্টিতে দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

    জেড নিউজ ডেস্ক:

    পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ী ইউনিয়নের কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকেরা। তবে বৃষ্টি হলেই এখানে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। আর প্রচণ্ড রোদে খোলা মাঠে বসে ক্লাস করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ে শিক্ষার্থীরা।

    সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে বিদ্যালয়ের খোলা মাঠে গাছের ছায়ায় পাঠদান করছেন শিক্ষকেরা। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বই-খাতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আশপাশের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়। আবার প্রচণ্ড রোদের কারণে অনেক সময় পাঠদান বন্ধও রাখতে হয়।

    বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে আসে। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটলও দেখা দেয়। এরপর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রোদে ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়। বৃষ্টি এলেই বই-খাতা নিয়ে দৌড়ে অন্য জায়গায় যেতে হয়। ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি তাদের।

    পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিকের বাবা নুর জামাল বলেন, ‘শিশুদের নিরাপত্তার জন্য আমরা খুবই চিন্তিত। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠানো যায় না, আবার খোলা মাঠেও নিয়মিত ক্লাস সম্ভব নয়। দ্রুত একটি নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা উচিত।’

    সহকারী শিক্ষক আরফিনা বেগম বলেন, খোলা মাঠে ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া পাঠদান করতে হচ্ছে। লিখিত কাজ করানোও সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টি বা অতিরিক্ত রোদে ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    প্রধান শিক্ষক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে সীমিত পরিসরে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। দ্রুত একটি অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ এবং নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজন।

    এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত একটি অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে শিগগিরই চাহিদাপত্র পাঠানো হবে।’

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়