জেড নিউজ , ঢাকা :
বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয় আমি সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী ব্যক্তিকে ভালোভাবে জানি।
আর যে ব্যক্তি সর্বশেষ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে, তাকেও জানি। কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে (আল্লাহর নিকট উপস্থিত করে) বলা হবে, এর সগিরা গুনাহগুলো উপস্থিত করো এবং কবিরা গুনাহগুলো গোপন করে রাখো। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি অমুক অমুক দিনে এই এই গুনাহ করেছ। তখন সে ব্যক্তি সবগুলো গোনাহের কথা স্বীকার করবে।
একটিও অস্বীকার করবে না। তখন সে তার কবীরা গুনাহসমূহ সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে। তার এই অবস্থা দেখে ঘোষণা দেয়া হবে যে, তার প্রতিটি মন্দ কাজের বিনিময়ে একটি করে নেকী লিপিবদ্ধ করো। তখন বান্দা খুশিতে বলে উঠবে যে, নিশ্চয় এখনো আমার অনেক গুনাহ বাকী আছে, যা আমি দেখতে পাচ্ছি না।
এই হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি আবু জর (রা.) বলেন, তখন আমি দেখলাম, রাসুলুল্লাহ (সা.) মুচকি হাসছেন; এমনকি তাঁর সাদা দাতগুলো দেখা যাচ্ছিল। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২১৪৩০, সিলসিলায়ে সহিহাহ, হাদিস : ৩০৫২)
শিক্ষা ও বিধান
১. আল্লাহর রহমত অত্যন্ত ব্যাপক। তাই আল্লাহ তাআলা চাইলে বান্দার গুনাহ ক্ষমা করে সেগুলোর পরিবর্তে নেকি দান করতে পারেন। তাই কখনোই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া উচিত নয়।
২. সগিরা ও কবিরা গুনাহের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
ইসলামে গুনাহ দুই প্রকার—সগিরা (ছোট) ও কবিরা (বড়)। উভয় থেকেই বেঁচে থাকার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য।
৩. কিয়ামতের দিন প্রত্যেক মানুষকে নিজের আমলের হিসাব দিতে হবে। দুনিয়ার কোনো কাজই আল্লাহর কাছে গোপন নয়। সবকিছুর হিসাব নেওয়া হবে।
৪. সত্য গোপন করার সুযোগ থাকবে না। আল্লাহর সামনে মানুষ নিজের গুনাহ স্বীকার করতে বাধ্য হবে। সেখানে মিথ্যা বলা বা অস্বীকার করার কোনো উপায় থাকবে না।
৫. আল্লাহ বান্দার সম্মান রক্ষা করেন। এই হাদিসে কবিরা গুনাহ গোপন রাখার কথা এসেছে, যা আল্লাহর অসীম দয়া ও বান্দার প্রতি তাঁর পর্দা রাখার গুণের পরিচয় বহন করে।
৬. তাওবা ও ঈমানের মূল্য অপরিসীম। যিনি শেষ পর্যন্ত জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবেন, তিনি ঈমানদার ছিলেন। এতে বোঝা যায়, ঈমান ও আন্তরিক তাওবার গুরুত্ব অনেক।
৭. মুমিনের মধ্যে আশা ও ভয়—দুটিই থাকা উচিত। গুনাহের জন্য ভয় থাকবে, আবার আল্লাহর ক্ষমার প্রতি দৃঢ় আশাও থাকবে। এটাই ভারসাম্যপূর্ণ ঈমানের পরিচয়।
সারকথা, এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, আল্লাহ তাআলার রহমত সীমাহীন। তাই গুনাহ হয়ে গেলে দ্রুত আন্তরিক তাওবা করতে হবে, নেক আমলে অটল থাকতে হবে এবং কখনোই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। একই সঙ্গে গুনাহকে হালকা মনে না করে সর্বদা হিসাবের দিনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফিক দান করুক।
আমিন।





