০১/০৭/২০২৬, ১৬:০০ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    ব্যালেন্স শিট সাফ করতে খেলাপি ঋণের ১ লাখ কোটি টাকার সুদ মওকুফের সুযোগ দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    জেড নিউজ, ঢাকা:

    ২০২৪ সাল থেকে ১০ থেকে ১২ বছরের বিশেষ রিশিডিউলিং (পুনঃতফসিল) নীতির আওতায়, নিয়মিত করা অধিকাংশ ঋণ আবারও খেলাপি হয়ে পড়ায়—খেলাপিদের জন্য সুদ মওকুফের এক বিশাল সুযোগ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    গত সোমবার জারি করা এক সার্কুলারে, ব্যাংকগুলোকে ঋণ গ্রাহকদের চার্জড (আরোপিত) ও আনচার্জড (অনারোপিত) উভয় ধরনের সুদ মওকুফের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সুদ মওকুফের আগে তহবিল খরচ আদায় নিশ্চিত করার যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা শিথিল করা হলো।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর স্থগিত সুদ হিসাবে খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার আনচার্জড সুদ জমেছিল।

    মন্দ ঋণ চিরতরে মুছে ফেলে ব্যাংকের ব্যালেন্স শিট সাফসুতরো করতে এবং খেলাপিদের খেলাপি তকমা থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নতুন কৌশল নিয়ে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত যারা বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা পেয়েছেন, তারাও এই সুদ মওকুফের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন।

    নতুন সার্কুলারের আওতায়, খেলাপিরা কেবল ঋণের আসল টাকা পরিশোধ করে এককালীন নিষ্পত্তি করার সুযোগ পাবেন; যার অর্থ, তাদের কোনো সুদ দিতে হবে না।

    ব্যাংকগুলো যদি স্থগিত সুদ হিসাব থেকে ১ লাখ কোটি টাকার অনারোপিত সুদ মওকুফ করে, তবে মোট খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রেকর্ড করা ৩০.৬০ শতাংশ থেকে কমে ২৫ শতাংশে নেমে আসবে।

    স্থগিত সুদ হিসাব হলো ব্যাংকগুলোর একটি সাময়িক হিসাব বা হোল্ডিং অ্যাকাউন্ট, যা পাওনা কিন্তু এখনো অর্জিত আয় হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি—এমন সুদ নথিভুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

    যখন কোনো ঋণগ্রহীতা নির্ধারিত সময়ের পর পেমেন্ট দেওয়া বন্ধ করে দেন, তখন সেই ঋণটি নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) বা খেলাপি ঋণ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। ব্যাংককে তখন এই ঋণের অনাদায়ী সুদকে লাভ হিসেবে দেখানো বন্ধ করতে হয়। লাভ-ক্ষতির হিসাবে নেওয়ার পরিবর্তে ব্যাংক তখন এই অনাদায়ী সুদ একটি ‘স্থগিত সুদ হিসাবে’ জমা রাখে।

    এই সার্কুলার জারির আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান—ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন, যেখানে ব্যাংকের ব্যালেন্স শিটে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাতে আসল ও সুদ মওকুফ—উভয় বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।

    পলিসি কমিটির অনুমোদনে পুনঃতফসিল করা অধিকাংশ ঋণ আবারও খেলাপি হয়ে পড়েছে—এই যুক্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বিকল্পগুলো তুলে ধরেছিল বলে বেশ কয়েকজন শীর্ষ নির্বাহী দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন।

    তবে ব্যাংকগুলো আসল বা প্রিন্সিপাল ঋণ মওকুফের বিরোধিতা করেছে, কারণ এটি ব্যাংক কোম্পানি আইনের পরিপন্থী। কিন্তু সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে থাকা সুদ মওকুফের বিকল্পটি তারা মেনে নিয়েছে, যেহেতু এগুলো ব্যাংকের আয়ে যোগ করা হয়নি।

    একজন নির্বাহী বলেন, আরোপিত সুদ মওকুফের বিষয়টি কেস-বাই-কেস বিবেচনা করা হবে, কারণ এটি করা হলে ২০২৬ সালে ব্যাংকগুলোর আয় সরাসরি কমে যাবে।

    তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপের কারণে খেলাপি ঋণ কমাতে মরিয়া হয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নতুন বিকল্প নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক খুব শিগগিরই একটি নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে, এবং এর আগেই যেকোনো উপায়ে খেলাপি ঋণের হার কমিয়ে আনতে চাইছে।

    ২০২৫ সালের শেষে খেলাপি ঋণ, পুনঃতফসিল করা ঋণ ও অবলোপন করা (রাইট-অফ) ঋণসহ—দেশের মোট ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০.৮৭ লাখ কোটি টাকা, যা ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণের ৬০ শতাংশ।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়