জেড নিউজ ডেস্ক :
মাত্র একটি ছোট্ট উপহারই যে জীবনের দীর্ঘতম সঙ্গীতে পরিণত হতে পারে, তার অনন্য উদাহরণ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলাইনার বাসিন্দা আমান্ডা বেথ ও তার প্রিয় পোষা পাখি ‘স্পুডলস’। ১৯৯৭ সালে আমান্ডার মা তাকে উপহার দেন সবুজ রঙের ছোট্ট একটি প্যারাকিট (বাজরিগার), যার মাথা ছিল বরই রঙের। পাখিটির পায়ে থাকা পরিচয়-ব্যান্ড ও নথি অনুযায়ী, স্পুডলসের জন্ম হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। সে সময় থেকেই নিজের নাম ‘স্পুডলস!’ বলে ডাকতে পারত দুষ্টু স্বভাবের এ পাখিটি।
ধীরে ধীরে মালিকের সঙ্গে গভীর বন্ধন গড়ে ওঠে তার। কখনও আমান্ডার কাঁধে উঠে বসত, কখনও আঙুলে দাঁড়িয়ে শিস দিত। এমনকি বিভিন্ন সুর গাইতে, মাইক্রোওয়েভ ওভেনের বিপ শব্দ নকল করতে এবং নানা কথাবার্তাও বলতে শিখেছিল সে।
সাধারণত বন্দি অবস্থায় সঠিক পরিচর্যা পেলে একটি প্যারাকিট ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। তাই স্পুডলস যে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আমান্ডার সঙ্গী হয়ে থাকবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।
চলতি বছরের ২৮ মার্চ ৩২ বছর ৮৬ দিন বয়সে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত টিয়া পাখি হিসেবে স্বীকৃতি পায় স্পুডলস।
এ প্রসঙ্গে আমান্ডা মজা করে বলেন, ‘আমি প্রায়ই বলি, ও কিছুতেই মরতে চায় না, তাই আমাকেও খাওয়াতে থাকতেই হয়!’
তবে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী টিয়া পাখির রেকর্ড এখনও স্পুডলসের নয়। সেই রেকর্ডটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কুকি’ নামের একটি মেজর মিচেলস ককাটুর দখলে, যে ২০১৬ সালে মৃত্যুর সময় অন্তত ৮২ বছর ৮৮ দিন বয়সী ছিল।
তবুও মালিকের বিশ্বাস, স্পুডলস আরও অনেক দিন তাদের পরিবারের আনন্দের সঙ্গী হয়ে থাকবে।



