জেড নিউজ , ঢাকা :
সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, মহানবী (সা.) বলেছেন, দুটি বিষয়ে ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে ঈর্ষা করা যায় না। দুটি বিষয় হলো—
১. ওই ব্যক্তির প্রতি (ঈর্ষা করা প্রশংসনীয়), যাকে আল্লাহ তাআলা ধন-সম্পদ দান করেছেন, তারপর সে তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করার সক্ষমতাও দান করেছেন।
২. ওই ব্যক্তির প্রতি (ঈর্ষা করা প্রশংসনীয়), যাকে আল্লাহ তাআলা জ্ঞান দান করেছেন আর সে তার জ্ঞানের মাধ্যমে (মানুষের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে) মীমাংসা করেন এবং অন্যকে জ্ঞান শিক্ষা দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৭৩, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৮৯৬)
হাদিসের শিক্ষাসমূহ :
১. কল্যাণকর বিষয়ে প্রতিযোগিতা করা বৈধ ও প্রশংসনীয়। তাই দুনিয়াবি ভোগ-বিলাসে নয়; বরং নেক আমল, জ্ঞান ও দানশীলতায় একে অপরকে অতিক্রম করার চেষ্টা করা উচিত।
২. এখানে ঈর্ষা বলতে ‘গিবতাহ’ বোঝানো হয়েছে।
অর্থাৎ অন্যের নিয়ামত দেখে তার ক্ষতি কামনা না করে নিজের জন্যও এমন নিয়ামত কামনা করা। এটি বৈধ ও উত্তম।
৩. আল্লাহর পথে সম্পদ ব্যয় করা সর্বোত্তম আমলগুলোর একটি। তাই যে ব্যক্তি আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ সঠিক পথে ব্যয় করে, সে প্রশংসার যোগ্য।
৪. সম্পদ আল্লাহর আমানত। ধন-সম্পদ শুধু ভোগের জন্য নয়; বরং দীন, সমাজ ও মানবকল্যাণে ব্যয় করার জন্যও।
৫. ইলম (দ্বীনি জ্ঞান) মহান নিয়ামত। আল্লাহ যাকে উপকারী জ্ঞান দান করেন, তিনি বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত।
৬. জ্ঞান অনুযায়ী বিচার করা ও আমল করা অপরিহার্য।
শুধু জ্ঞান অর্জন করাই যথেষ্ট নয়; বরং সেই জ্ঞান দিয়ে ন্যায়বিচার ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
৭. সম্পদ ও জ্ঞানের প্রকৃত মর্যাদা তাদের সঠিক ব্যবহারে। যে সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় হয় এবং যে জ্ঞান মানুষের উপকারে আসে, সেটিই প্রকৃত সফলতা।
৮. মুসলিমের জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত আখিরাতের সফলতা। তাই দুনিয়ার মর্যাদা, পদ-পদবি বা ধন-সম্পদের জন্য নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রতিযোগিতা করা উচিত।
অতএব, এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, মানুষের প্রতি ঈর্ষা নয়; বরং নেক কাজে অনুপ্রাণিত হওয়া একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর দেওয়া সম্পদ তাঁর পথে ব্যয় করা এবং উপকারী জ্ঞান অর্জন করে তা অনুযায়ী আমল করা ও অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা। এ দুটি গুণই দুনিয়া ও আখিরাতে প্রকৃত সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি।



