জেড নিউজ, ঢাকা :
আবু ওমারাহ বারা ইবনে আজেব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) আমাদের সাতটি কাজ করার আদেশ এবং সাতটি কাজ করতে বারণ করেছেন।
আদেশকৃত কাজগুলো হলো–
১. অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া, ২. জানাজার অনুসরণ করা, ৩. হাঁচির জবাব দেওয়া, ৪. কসম রক্ষা করা, ৫. মাজলুমকে সাহায্য করা, ৬. দাওয়াত কবুল করা, ৭. সালামের প্রচার-প্রসার ঘটাতে আদেশ করেছেন।
নিষেধকৃত কাজগুলো হলো–
১. স্বর্ণের আংটি পরিধান করতে, ২. রুপার পাত্র ব্যবহার করতে, ৩. রেশমের পোশাক, ৪. কাসসি, (এক ধরনের সিল্ক কাপড়) ৫. ইস্তাবরাক, (রেশম) ৬. দিবাজ (সর্বপ্রকার রেশমি পোশাক) ব্যবহার করতে বারণ করেছেন।
অন্য বর্ণনায় আছে-যে সাতটি জিনিস আদেশ করেছেন, তার মধ্যে একটি হলো, হারানো বস্তুর সন্ধান দেওয়া। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৫৬৩৫, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৫৩৮৮)
হাদিসের শিক্ষাসমূহ:
এই হাদিসে মহানবী (সা.) একজন মুসলমানের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও নৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। হাদিসের শিক্ষা হলো- ইসলাম শুধুমাত্র কিছু ইবাদতের নাম নয়; বরং এটি মানবিকতা, ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা, ন্যায়বিচার ও উত্তম চরিত্রের এক পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।
অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া, জানাজার অনুসরণ করা, হাঁচির জবাব দেওয়া, দাওয়াত কবুল করা, সালামের প্রসার ঘটানো এবং মজলুমের সাহায্যে এগিয়ে আসার মাধ্যমে মুসলিম সমাজে পারস্পরিক ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও ঐক্য সুদৃঢ় হয়। একই সঙ্গে হারানো বস্তুর সন্ধান দেওয়ার নির্দেশ মানুষের মধ্যে সততা, আমানতদারিতা ও মানবকল্যাণের চেতনাকে জাগ্রত করে। অন্যদিকে স্বর্ণের আংটি, স্বর্ণ-রৌপ্যের পাত্র এবং রেশমি পোশাক ব্যবহার থেকে পুরুষদের বিরত থাকার নির্দেশ ইসলামের সরলতা, বিনয় ও অপচয়বিরোধী আদর্শকে তুলে ধরে। এ হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় যে একজন প্রকৃত মুমিন শুধু নিজের ইবাদত নিয়েই ব্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সুখ-দুঃখে অংশগ্রহণ করে, মানুষের উপকারে আসে, অত্যাচারিতের পাশে দাঁড়ায় এবং অহংকার ও বিলাসিতা থেকে নিজেকে দূরে রাখে।
সর্বোপরি, এই হাদিস ইসলামী সমাজব্যবস্থার এমন এক সুন্দর চিত্র তুলে ধরে, যেখানে ভালোবাসা, সহযোগিতা, মানবতা ও তাকওয়ার ভিত্তিতে ব্যক্তি ও সমাজ গড়ে ওঠে।



