জেড নিউজ ডেস্ক:
আসছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর এই ঈদকে সামনে রেখে সবাই ব্যস্ত সময় পার করছে কেনাকাটায়। রাজধানীর শপিংমল থেকে শুরু করে স্থানীয় বাজার, সব জায়গাতেই ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ। নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী কিংবা পরিবারের জন্য নানা উপহার কিনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরছেন ক্রেতারা। তবে এই ব্যস্ততা ও দীর্ঘ সময় কেনাকাটার কারণে অনেকেই শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। তাই ঈদের কেনাকাটার আনন্দের মাঝেই নিজের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। একটু সচেতন হলেই কেনাকাটার ক্লান্তি থেকেও নিজেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
সারাদিন রোজা রেখে অনেকেই ইফতারের পর শপিং করতে বের হন। তখন ভিড় আর গরমের কারণে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে অনেক পানি বের হয়ে যায়। কিন্তু কেনাকাটার ব্যস্ততায় অনেকেই পানি পান করতে ভুলে যান। এতে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, যার ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা ক্লান্তি বাড়তে পারে। এ কারণে বাইরে বের হলে অবশ্যই সঙ্গে পানির বোতল রাখা ভালো। মাঝেমধ্যে পানি বা শরবত পান করলে শরীর সতেজ থাকে।
ঈদের কেনাকাটায় সাধারণত একদিনে অনেক দোকান ঘুরতে হয়। কখনো এক শপিংমল থেকে আরেকটিতে যেতে হয়, আবার কখনো একই জায়গায় দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এই অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটি বা দাঁড়িয়ে থাকার কারণে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অনেকের ক্ষেত্রে পায়ে ব্যথা, কোমর ব্যথা কিংবা মাথা ঘোরা দেখা দিতে পারে। তাই কেনাকাটার সময় মাঝে মাঝে বিশ্রাম নেওয়া খুবই জরুরি। দীর্ঘ সময় একটানা হাঁটাহাঁটি না করে একটু বসে নেওয়া শরীরকে কিছুটা স্বস্তি দেয়।
কেনাকাটার ব্যস্ততায় অনেকেই সময়মতো খাবার খান না। কেউ কেউ ঠিকভাবে ইফতারও করেন না। এতে শরীরের শক্তি কমে যায় এবং দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে। তাই কেনাকাটায় বের হওয়ার আগে হালকা কিন্তু পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ভালো। প্রয়োজনে সঙ্গে শুকনো খাবার বা ফলও রাখা যেতে পারে।
ঈদের আগে শপিংমলগুলোতে সাধারণত সন্ধ্যার পর ভিড় বেশি থাকে। তাই সম্ভব হলে সকাল বা দুপুরের দিকে কেনাকাটা করা ভালো। এতে ভিড়ও কম থাকে এবং শরীরের ওপর চাপও কম পড়ে। একই সঙ্গে আগে থেকে কী কী কিনবেন তার একটি তালিকা তৈরি করলে অপ্রয়োজনীয় ঘোরাঘুরি কমে যায়। এতে সময় ও শক্তি দুটিই সাশ্রয় হয়।
পরিকল্পনা করে কেনাকাটা করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নেওয়ার মতো ছোট ছোট অভ্যাসই সুস্থ রেখে ঈদের প্রস্তুতিকে করে তুলতে পারে আরও আনন্দময়।



