জেড নিউজ, ঢাকা:
দরজায় কলিং বেল বাজতে আর বেশি দেরি নেই, অথচ ঘরের এদিক-ওদিক ছড়িয়ে রয়েছে জামাকাপড়, টেবিলের ওপর জমে আছে নানা জিনিস, রান্নাঘরেও পড়ে রয়েছে ময়লা বাসন! দৈনন্দিন ব্যস্ততায় ঘর অগোছালো হয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
কিন্তু হঠাৎ অতিথি আসার খবর পেলে চিন্তায় পড়ে যেতে হয়। হাতে সময় কম থাকায় পুরো বাড়ি পরিষ্কার করাও সম্ভব হয় না। তবে কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে অল্প সময়েই ঘরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে তোলা যায়। রইল তেমনই কয়েকটি উপায়।
অগোছালো জিনিস সরিয়ে ফেলুন
ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে প্রথমেই চোখে পড়ে সোফা, চেয়ার কিংবা বিছানার ওপর জমে থাকা জামাকাপড়। কোথাও আবার সিঁড়ির রেলিংয়েও ঝুলতে থাকে পোশাক। প্রথমে এই জিনিসগুলি সরিয়ে ফেলুন। সব জামাকাপড় ভাঁজ করে আলমারিতে রাখার সময় না থাকলে, যেগুলি ধোয়া প্রয়োজন সেগুলি ওয়াশিং মেশিনে দিয়ে দিন। বাকি পোশাক পরিষ্কার ঝুড়িতে বা আলমারির নির্দিষ্ট তাকে গুছিয়ে রাখুন। এতে ঘর অনেকটাই পরিপাটি দেখাবে।
ধুলা-ময়লা পরিষ্কারে মনোযোগ দিন
ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট করতে ধুলা-ময়লাই যথেষ্ট। তাই সোফা, খাট, টেবিল এবং দৃশ্যমান আসবাবের ওপর জমে থাকা ধুলা পরিষ্কার করুন। ভ্যাকিউম ক্লিনার থাকলে ব্যবহার করতে পারেন। তা না হলে পরিষ্কার শুকনো বা উপযুক্ত কাপড় দিয়ে আসবাব মুছে নিন।
টেবিলের ওপর ছড়িয়ে থাকা রিমোট, বই, কাগজপত্র ও অন্যান্য ছোটখাটো জিনিস একটি ট্রেতে সাজিয়ে রাখুন। খাবারের প্যাকেট বা ব্যবহৃত প্লেট থাকলে সরিয়ে ফেলুন। টেবিলে পরিষ্কার টেবিল ক্লথ, ছোট ফুলদানি কিংবা একটি সাজানো গাছ রাখলে ঘরের চেহারায় সহজেই পরিবর্তন আসবে।
বাথরুম পরিষ্কার রাখতে ভুলবেন না
অতিথিরা যে বাথরুম ব্যবহার করবেন, সেটি পরিষ্কার রাখাই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। হাতে সময় কম থাকলে বেসিন, কল, আয়না ও টয়লেট সিট পরিষ্কার করে নিন। মেঝেতে পানি জমে থাকলে মুছে শুকনো রাখুন। পরিষ্কার হাতমোছার তোয়ালে ও পর্যাপ্ত সাবান রাখুন। দুর্গন্ধ দূর করতে উপযুক্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করুন কিংবা নিরাপদ এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করতে পারেন। সুগন্ধের জন্য ইপসম সল্টে এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে রাখার বদলে পরিচ্ছন্নতা ও দুর্গন্ধের উৎস দূর করার দিকে বেশি নজর দিন। পরিষ্কার করার রাসায়নিক পদার্থ কখনো একসঙ্গে মেশাবেন না।
রান্নাঘরের সিঙ্ক পরিষ্কার করুন
রান্নাঘরের সিঙ্কে এঁটো বাসন জমে থাকলে ঘর অপরিচ্ছন্ন দেখানোর পাশাপাশি দুর্গন্ধও ছড়াতে পারে। তাই সম্ভব হলে বাসন ধুয়ে ফেলুন। সময় একেবারেই কম থাকলে খাবারের অবশিষ্টাংশ সরিয়ে বাসনগুলি নির্দিষ্ট জায়গায় গুছিয়ে রাখুন। কাউন্টার টপ, গ্যাসের চুলার চারপাশ এবং সিঙ্ক পরিষ্কার করুন। খাবার ঢেকে রাখুন এবং পচনশীল খাবার যথাযথভাবে সংরক্ষণ করুন। পরিষ্কার রান্নাঘর পুরো বাড়ির পরিচ্ছন্নতার ধারণা বদলে দিতে পারে।
অতিথির চোখে পড়বে যেসব জায়গা
ঘরে ঢুকেই অতিথিদের নজর সাধারণত প্রবেশপথ, বসার ঘর ও বসার জায়গার দিকে যায়। তাই দরজার সামনের অংশ, সোফার আশপাশ এবং টেবিলের ওপর বিশেষ নজর দিন। ছড়িয়ে থাকা জুতা, ব্যাগ, খবরের কাগজ ও অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে রাখুন। কুশনগুলো ঠিক করে দিন, পর্দা গুছিয়ে নিন এবং ঘরে আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন।
পুরোনো বসার ঘরে নতুনত্ব আনতে যেভাবে সাজাবেন
অল্প সময়ে পুরো বাড়ি ঝকঝকে করে তোলার প্রয়োজন নেই। দৃশ্যমান অগোছালো জিনিস সরানো, রান্নাঘর ও বাথরুম পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট। পরিকল্পনা করে কাজ করলে কম সময়েই ঘর হয়ে উঠবে অনেক বেশি পরিপাটি ও অতিথি আপ্যায়নের উপযোগী।





