জেড নিউজ, ঢাকা:
জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও সমর্থন, ইশতেহারের আলোকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষা, স্বল্প সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের সফলতা, জনগণের স্বাধীনতা ও দেশের সার্বভৌমত্বের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং গণমানুষের প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়োকচিত নেতৃত্ব- মোটা দাগে এই ৫টি বিষয়কে বিগত ৫ মাসে সরকারের বহুমাত্রিক অর্জন বলে উল্লেখ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ৫ মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মাত্র ১৫০ দিন, অর্থাৎ ৫ মাস পূর্ণ হয়েছে। সময়ের পরিমাপে এটি হয়তো খুব দীর্ঘ নয়। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য প্রতিটি দিনই জনগণের প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দিন, প্রতিটি মুহূর্তই দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা পালনের পরীক্ষা, আর প্রতিটি পদক্ষেপই মানুষের আস্থা অর্জনের নতুন সুযোগ। এই অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, সুশাসন, জনকল্যাণ এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসই একটি সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই সরকারের প্রতিটি উদ্যোগ, প্রতিটি অর্জন, প্রতিটি সংস্কার এবং প্রতিটি চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করাকে আমরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখি। আমরা চাই, জনগণই হোক সরকারের কাজের প্রকৃত মূল্যায়নকারী; তাঁদের আস্থা, সমর্থন ও গঠনমূলক মতামতই আগামী দিনের পথচলায় আমাদের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিগত দিনের ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামোকে পুনরুদ্ধার করার ম্যান্ডেট পেয়েছেন গণমানুষের নেতা, বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। দায়িত্ব হাতে নিয়ে স্বল্প সময়ের মাঝেই মানুষের আস্থার চূড়ায় অবস্থান করছেন তিনি।
গত ৫ মাসে জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও সমর্থন, ইশতেহারের আলোকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষা, স্বল্প সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনবদ্য সফলতা, জনগণের স্বাধীনতা ও দেশের সার্বভৌমত্বের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং গণমানুষের প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব- এই বহুমাত্রিক অর্জনের ৫ টি দিক দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। একই সঙ্গে একটি মানবিক, বৈষম্যহীন, নিরাপদ, মেধাভিত্তিক, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথকে সুগম করেছে। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার মূলত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় সাশ্রয়ী ও দুর্নীতিমুক্ত পর্যালোচনা নিশ্চিত করে সরকার সুশাসনের দৃঢ় বার্তা দিয়েছে। একই সাথে, সাম্প্রতিক বন্যা দুর্গতদের পুনর্বাসন, বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের বিনির্মাণ চলছে। পাঁচ মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে অর্জিত সাফল্যকে ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনগণের প্রতি সরকার পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিগত ৫ মাসে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের দৃশ্যমান সাফল্য রয়েছে। এই সফলতাগুলোকে আমরা মোটা দাগে ৫টি বৃহৎ অর্জনে বিভক্ত করতে পারি। এখন আমরা সরকারের ৫ মাসে বহুমাত্রিক অর্জনের ৫টি দিক আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি-
১. জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও সমর্থন:
দীর্ঘদিন পর অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জনগণের এই প্রতিনিধিমূলক সরকার দেশ পরিচালনায় সর্বস্তরের মানুষের আস্থাকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে। এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, বাকস্বাধীনতা, মানবাধিকার রক্ষা এবং আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে রক্ষা করা হচ্ছে। বিগত ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচন, ২০১৮ সালের আগের রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালের একপাক্ষিক ডামি নির্বাচনের কারণে রাষ্ট্রক্ষমতায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব দীর্ঘকাল অনুপস্থিত ছিল। অবশেষে ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি আপামর জনসাধারণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একটি অবাধ, স্বতঃস্ফূর্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ করে। ফলে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জনগণ ফিরে পেয়েছে তাদের অধিকার এবং সরকার ও জনগণের মধ্যকার পারস্পরিক গভীর আস্থা ও নির্ভরতাই আজ এই রাষ্ট্রব্যবস্থাকে একটি প্রকৃত কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।
- শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ১৯ দিনে এবং মেহেরপুরের শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিতের নজির স্থাপিত হয়েছে। নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির পর মাত্র এক মাসে ১০টি রায় ঘোষণা।
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মোজাফফর হোসেনকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। বর্তমানে তিনি সেনা হেফাজতে আছেন। এটি গোয়েন্দা সংস্থার একটি অভূতপূর্ব সাফল্য।
- বহুল আলোচিত তনু হত্যা মামলার আসামি এবং শরিফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার আসামিকে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গ্রেফতার এবং দেশে প্রত্যর্পনের উদ্যোগ গ্রহণ। পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকেও ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাইতে গ্রেফতার এবং দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা চলমান।
- জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে ‘জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি আইন’ পাস।
- সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধানকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাস এবং ফ্যাসিবাদী সেই অপশক্তি আওয়ামী লীগের রাজনীতির ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
- আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ভারত সরকারের কাছে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়াধীন।
- সংসদীয় কার্যক্রমের প্রথম ২৫ কার্যদিবসের মধ্যে অভূতপূর্ব দ্রুততার সাথে জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার সংশ্লিষ্ট ৯৪টি বিল পাস। অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রুপান্তর।
- যৌথ বাহিনী চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালিয়ে প্রাণহানি ছাড়াই এলাকাটিকে সন্ত্রাসীমুক্ত করা হয়।
- পরিবেশ সুরক্ষায় দেশজুড়ে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল সামাজিক কর্মসূচি উদ্বোধন।
- ঢাকাকে দূষণমুক্ত করতে প্রাথমিকভাবে ২৫০টি সর্বাধুনিক পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক বাস চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
- ঢাকা শহরের ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিক ও গতিশীল করতে বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার।
- চট্টগ্রাম বন্দরে স্বয়ংক্রিয় কার্গো রিলিজ ব্যবস্থা চালু এবং ঢাকার যানজট নিরসনে ৪টি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল মহানগরের বাইরে স্থানান্তরের নির্দেশ।
- সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ফলে মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেয়ে এখন ৯.১৬ শতাংশ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমান ৩৬.৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- বৈদেশিক রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়ছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ। প্রবাসীদের গভীর আস্থার প্রতিফলন হিসেবে গত মার্চ মাসে রেকর্ড পরিমাণ ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আপনারা জানেন, বিদেশে শ্রমশক্তি রপ্তানি শুরু হয় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে। সেটিকে ধারণ করে প্রবাসী কার্ডকে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার।
- রাষ্ট্রীয় অপব্যয় রোধে মন্ত্রিসভার সদস্যরা তাঁদের জন্য বরাদ্দকৃত শুল্কমুক্ত গাড়ি ক্রয় এবং সরকারি প্লট সুবিধা নেওয়ার প্রথা প্রত্যাখ্যান।
২. ইশতেহারের আলোকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষা:
প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনি ইশতেহারে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে যুগান্তকারী অঙ্গীকার করেছিলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে, দায়িত্ব গ্রহণের পর ভোটের কালি শুকানোর আগেই তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। তিনি মানুষের দেওয়া এই ম্যান্ডেটকে ক্ষমতা হিসেবে নয়, দেখতে চান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব হিসেবে। তিনি দীর্ঘকাল ধরে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ভেবেছেন, তাঁর সেই চিন্তা ও রুপকল্প প্রদর্শিত হয়েছে ইশতেহারে। সেই ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে এই জনবান্ধব সরকার প্রমাণ করেছে যে, এটি প্রকৃত অর্থেই সাধারণ মানুষের কল্যাণকামী ও অধিকার আদায়ের সরকার।
- নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, ক্রীড়াবিদদের জন্য ‘ক্রীড়া কার্ড’বিতরণ শুরু হয়েছে, প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন কার্ড প্রদান করা হলেও সামনের দিনগুলোতে সমন্বিতভাবে একটি “ইউনিভার্সাল কার্ড” প্রদানের উদ্যোগ।
- সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে ১২ লাখ ক্ষুদ্র কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন।
- নারী ও তরুণদের অগ্রাধিকার দিয়ে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থার উদ্যোগ।
- আইটি খাতকে চাঙ্গা করতে এবং ফ্রিল্যান্সারদের সামাজিক স্বীকৃতি দিতে ২ লাখ পেশাদার ফ্রিল্যান্সারকে রাষ্ট্রীয় আইডি কার্ড প্রদানের উদ্যোগ।
- নিম্ন আয়ের ও সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তায় ৫৫ লাখ পরিবারকে মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ নিশ্চিতকরণ।
- সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ইমাম, মোয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের উপাসকদের জন্য বিশেষ মাসিক ভাতার ব্যবস্থা।
- সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল-ড্রেস ও পরিবেশবান্ধব পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগ দেওয়ার ঘোষণা।
- শিশুদের মানসিক বিকাশ, সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করতে “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” প্রতিযোগিতা শুরু।
- দেশের লাখো পথশিশুর স্থায়ী পুনর্বাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৪২০ কোটি টাকার একটি মানবিক প্রকল্প গ্রহণ।
- প্রথমবারের মতো জাতীয় তাফসির প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে সরকার। এতে অংশ নিতে আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান।
- মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে তাঁদের সম্মানী ও বেতনভাতা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করার ঐতিহাসিক ঘোষণা।
- নারী শিক্ষার প্রসার ও নারীর ক্ষমতায়নে অনার্স (স্নাতক) পর্যায় পর্যন্ত ছাত্রীদের শিক্ষা সম্পূর্ণ ফ্রি।
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, ফ্রি-ওয়াইফাই সুবিধা প্রদান এবং পুষ্টিকর মিড-ডে মিলের উদ্যোগ।
- ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা, সংস্কৃতি, কারিগরি শিক্ষা ও আনন্দময় শিখন ভিত্তিক সম্পূর্ণ নতুন চারটি পাঠ্যপুস্তক যুক্ত করার সিদ্ধান্ত।
- ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৬৪টি জেলায় আধুনিক ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ তৈরির উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১০টির নান্দনিক নকশা চূড়ান্ত।
- বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সির সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
- নতুন ও তরুণ ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের স্টার্ট-আপ সহযোগিতা করার জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন।
- প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের মেট্রোরেল ভাড়ায় ২৫% ছাড়, ৫৫০ প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়াসামগ্রী ও ১২–১৪ বছর বয়সীদের জন্য ৮টি খেলা, স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি সেল।
- ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হজ সহজতর করার জন্য বিমানভাড়া হ্রাস,
- দেশজুড়ে তারুণ্য ও নারীকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতি জেলায় অ্যামপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের উদ্যোগ গ্রহণ ও বিশ্বের প্রতিটি দূতাবাসভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ডিমান্ড ম্যাপিং কার্যকর করা হয়েছে, যার উপর ভিত্তি করে কোন দক্ষতার কী পরিমাণ কর্মসংস্থান বিভিন্ন দেশে রয়েছে সেটি নিরুপণের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিভিন্ন টেকনিক্যাল ও কারিগরি শিক্ষার সাথে সন্নিবেশ করার উদ্যোগ।
- নারীদের যাতায়াত নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বিশেষায়িত “পিংক বাস সার্ভিস” চালুর ঘোষণা।
- স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের জনবল সংকট নিরসনে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান এবং ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত, যার মধ্যে শতকরা ৮০ভাগ নারী।
- সরকারি হাসপাতালগুলোতে ফ্রিতে ডেঙ্গু টেস্ট করার ব্যবস্থা।
- শহরের অব্যবহৃত প্রায় ২০০টি সরকারি ভবনকে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে আধুনিক মাতৃসদন, ক্লিনিক ও চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ।
- তৃণমূলের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে অত্যন্ত মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় পল্লি উন্নয়ন দিবস’ পালন।
- সারাদেশে কৃষিপণ্যের অপচয় রোধ এবং চাষিদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে ২, ০০০টি আধুনিক মিনি কোল্ডস্টোরেজ (হিমাগার) স্থাপনের পরিকল্পনা।
- সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রিপেইড মিটারে ধার্যকৃত অতিরিক্ত মাসিক চার্জ তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার।
- গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণ। প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে থাকবে স্বাস্থ্য ইউনিট, যেখানে পাওয়া যাবে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সুবিধাসহ জরুরি বিভাগ, ইনডোর ও আউটডোর সেবা এবং আধুনিক প্যাথলজি সুবিধা সার্বক্ষণিক চালু থাকবে।
- প্রতিটি ইউনিয়নে ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ গঠন এবং ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (হেলথ স্ক্রিনিং) কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ।
- দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অববাহিকার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ গ্রহণ।
- প্রধানমন্ত্রী “নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ” প্রকল্পের উদ্বোধন করেন, যার মাধ্যমে প্রতি বছর ১,০০০ মেগাওয়াট হারে পাঁচ বছরে ৫,০০০ মেগাওয়াট যোগ করার পরিকল্পনা; যতটা সম্ভব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সরকারি ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রুফটপ সোলার প্যানেল বসানোর নির্দেশনা প্রদান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ইশতেহারের কর্মসূচিগুলো ইতোমধ্যেই দ্রুত বাস্তবায়িত হচ্ছে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত এই সরকার বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে চলেছে, এবং এই অগ্রযাত্রা ইনশাআল্লাহ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।
৩. স্বল্প সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের সফলতা:
বিগত ফ্যাসিবাদের পতনের পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া রাষ্ট্রকাঠামো, ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা পুনর্গঠনের এক মহাসংকট কালে বর্তমান জনবান্ধব সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশ ও জাতিকে একটি সুসংহত অবস্থানে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে এই সরকার।
- বিশ্বব্যাপী তীব্র জ্বালানি ও তেল সংকট থাকা সত্ত্বেও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সর্বনিম্ন রাখা ও স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত।
- দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসেই কার্যকর বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে রমজান ও ঈদুল ফিতরে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং রেলে নারীদের জন্য পৃথক কামরা বরাদ্দ, শ্রমিকবান্ধব সরকার হিসেবে শ্রমিকদের যথাসময়ে বেতন, বোনাস ও বকেয়া প্রাপ্তির ব্যবস্থা।
- ঈদুল আজহায় ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করে খামারিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং রেকর্ড ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে শতভাগ পশুর বর্জ্য অপসারণ।
- বিভিন্ন অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন।
- ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা; অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কারের জন্য 3R (Recovery, Restoration, Reconstruction) কৌশল গ্রহণ।
- মাত্র ৩ মাস ১৩ দিনের মাথায় জনবান্ধব বাজেট ঘোষণা, অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ট্যাক্স কমানো, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বান্ধব বাজেট প্রণয়ন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বাজেটের বৃহত্তম অংশের বরাদ্দ। এবারই প্রথম বাজেটের পর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়নি এবং জীবনমুখী ও বাস্তবমুখী বাজেটের মাধ্যমে পণ্যের মূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে, যা ইতঃপূর্বে সিন্ডিকেট বা কৃত্রিমভাবে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করা হতো।
- ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণ ও আর্থিক খাত চাঙ্গা করতে ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ বাবদ ৪০,০০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন।
- বন্ধ কলকারখানা চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ
- ডিজিটাল যুগের অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়ার মরণনেশা রুখতে ১৫৯ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬’ পাস।
- সুশাসন ও পাচারবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবার এবং ১০ শিল্পগোষ্ঠীর দেশে-বিদেশে ৭৬ হাজার কোটি টাকার জব্দ এবং পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে ১০টি দেশের সাথে চুক্তি সম্পন্ন ও চূড়ান্তকরণ।
- প্রায় শতভাগ শিশুকে সফলভাবে হামের টিকা প্রদান।
- হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক থার্ড টার্মিনাল দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে দ্রুততম সময়ে কাজ সম্পন্ন।
- সরকারের সুদক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বিপিএম-৬ অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ ১.৮৮ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৩১.৯৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত।
- বিগত ফেব্রুয়ারি-জুন ২০২৬ সময়ে ২০.০৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যেখানে জুন মাসের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৬% বৃদ্ধি।
- আমিনবাজারে একটি বর্জ্য-থেকে-বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়ন, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৩,০০০ টন ঢাকার বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ২০২৮ সালের আগস্ট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।
একটি ধ্বংসপ্রায় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে স্বল্পতম সময়ে স্থিতিশীল ও উন্নয়নমুখী করে গড়ে তোলা যে-কোনো সরকারের জন্যই নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার মাত্র ৫ মাসের মাথায় প্রমাণ করেছে যে, সদিচ্ছা, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সততা থাকলে যে-কোনো কঠিন পরিস্থিতিই মোকাবিলা করা সম্ভব। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জনগণের আস্থার মর্যাদা রক্ষা করে দেশ পরিচালনা ও অর্থনৈতিক সংস্কারের যে ভিত এই স্বল্প সময়ে রচিত হয়েছে, তা আগামী দিনে আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলবার পথে পাথেয় হয়ে উঠবে, ইনশা আল্লাহ।
৪. জনগণের স্বাধীনতা ও দেশের সার্বভৌমত্বের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার:
বিগত শাসনামলের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের অধ্যায় পেরিয়ে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার, জাতীয় সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ এবং অর্থনৈতিক-কৌশলগত কূটনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাজ করছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে ধারণ করে পারস্পরিক সমতা, ন্যায্যতা, আত্মমর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন, সীমান্ত ও আকাশসীমার নিরাপত্তা জোরদার এবং ব্যাবসা-বাণিজ্য ও রাষ্ট্র সংস্কারে গতিশীল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকার এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি নিশ্চিত করতে চাচ্ছে, যেখানে প্রতিটি দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক আমরা গড়ে তুলতে চাই।
- মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের অনুশাসন নিশ্চিত করা হচ্ছে। দুই বছর আগে আজকের দিন, ১৮ জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদী সরকার ইন্টারনেট বন্ধ মানুষের উপরের হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। বর্তমানে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা বিরাজ করছে।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে গিয়েছেন। মালয়েশিয়া ও চীনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কারণে ও গণআকাঙ্খাকে ধারণ করার কারণে অভূতপূর্ব সম্মান ও লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব দরবারের বাংলাদেশের সম্মান আরো বেড়েছে।
- ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক সংবর্ধনা পান, সেখানে জলবায়ু ও পরিবেশ নিয়ে তাঁর দেওয়া বক্তব্য ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়।
- ব্যাবসাবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে অনুমতি ছাড়াই ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধন ফেরত নিতে পারবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।
- কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ভারতের বন্ধ থাকা ভিসা সেবা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পুনরায় চালু।
- মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ৩৩ দফার যৌথ বিবৃতি ঘোষিত হয়েছে। হালাল বাজারসহ নানা নতুন শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ।
- চীনের সাথে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ। চীন সফরে ১৭টি সমঝোতা স্মারক, যৌথ ইশতেহার ঘোষণা, বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমে ৯.২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব, বাণিজ্য ঘাটতি দূরীকরণের উদ্যোগ, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর, আনোয়ারা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা, মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে যৌথ প্রকল্প, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ বহুবিধ বিষয়ে চীনের যৌথভাবে কাজের উদ্যোগ গ্রহণ।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মত ‘ককাস অব আমেরিকা ইন দ্য ন্যাশনাল পার্লামেন্ট অব বাংলাদেশ’ (বা ককাস অব আমেরিকা) গঠিত হয়েছে
- বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে বোয়িংসহ নতুন এয়ারবাস যুক্ত করার জন্য ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ হতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
- সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও জিসিসি দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আঞ্চলিক সংকটে দৃঢ় সংহতি প্রকাশের পদক্ষেপ গ্রহণ।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সকল দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অর্থনৈতিক সংস্কার, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক বাড়ানো নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ।
- ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে পাসপোর্টে “এক্সেপ্ট ইসরাইল” (ইসরাইল ব্যতীত) ঘোষণাটি পুনরায় যুক্ত।
- কৌশলগত এবং অবকাঠামোগত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিভিন্ন দেশের স্ব-স্ব বিশেষায়িত ও কারিগরি দক্ষতা সন্নিবেশের উদ্যোগ।
- জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে আকাশসীমা নজরদারির জন্য সর্বাধুনিক ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডার স্থাপন এবং সীমান্তে ড্রোন, অ্যান্টি-ড্রোন ও মাইন ডিটেক্টর সরঞ্জাম মোতায়েন।
- দীর্ঘ এক বছর বন্ধ থাকার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা থেকে জাপানের নারিতা রুটে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু।
- ব্যাবসা সহজ করতে নানা সংস্কারের আওতায় ব্যাবসা নিবন্ধনের সময়সীমা ১ বছর থেকে কমিয়ে মাত্র ১৪ দিনে আনয়ন।
- পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিপুল সমর্থনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, বর্তমান সরকার মাত্র পাঁচ মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই অভ্যন্তরীণ সংস্কার, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক ও যুগান্তকারী সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে গৃহীত এই সুদূরপ্রসারী ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপগুলো কেবল দেশের অর্থনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক ভিত্তিকে মজবুত করেনি, বরং দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও বৈষম্য ভেঙে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এগিয়ে চলা এই সরকারের হাত ধরেই বাংলাদেশ আজ আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে সুদৃঢ় অবস্থানে পৌঁছে গিয়েছে।
৫. গণমানুষের প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়োকচিত নেতৃত্ব:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জনকল্যাণ, অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র এবং সেবামুখী নেতৃত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, দেশপ্রেম, দূরদর্শী পরিকল্পনা, সামাজিক কল্যাণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতার যে বার্তা তিনি তুলে ধরছেন, তা অনেক মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রত্যাশা ও আস্থার সঞ্চার করেছে। একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাঁর উদ্যোগগুলো আমাদের চিন্তার নতুন নতুন দ্বার উন্মোচন করছে।
- দেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং পানির সমস্যা সমাধানে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সাথে সশরীরে অংশ নিয়ে দেশব্যাপী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলের ঐতিহাসিক খাল পুনঃখনন কর্মসূচি।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র, স্থানীয় প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় মনিটরিংয়ের মাধ্যমে, পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন এক সাথে কাজ করছে। চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জরুরি নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেন, চাল বিতরণ করেছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দুর্গত মানুষের পাশে থাকার জন্য নির্দেশনা। স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও পানিসহ ইত্যাদি সহায়তায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উল্লেখযোগ্য অবদান।
- বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী উদ্যোক্তাদের এক মাসের ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি ও সুদের টাকা মওকুফ; পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি আরো কয়েক মাস বাড়ানোর পরিকল্পনা। বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের কাজকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকার গবাদি পশুকে বিনামূল্যে টিকা প্রদান করা হবে। একইসাথে জেলে সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা।
- প্রথাগত প্রোটোকল ভেঙে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত তৃণমূল মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন, তাদের মতামত শুনছেন এবং জাঁকজমক পরিহার করে প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষের মাঝে সময় কাটাচ্ছেন। জেলা সফরেও আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষ ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের জীবনযাত্রার খোঁজ নিচ্ছেন।
- রাস্তায় যাতায়াতের সময় সাধারণ মানুষের মতোই সিগন্যালে গাড়ি থামিয়ে অপেক্ষা করছেন এবং ট্র্যাফিক নিয়ম মেনে চলছেন।
- দীর্ঘদিনের ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে তিনি নিজের বহরে প্রটোকলের গাড়ির সংখ্যা কমিয়েছেন এবং বিদেশ সফরের প্রাক্কালে বিমানবন্দরে বিদায় জানানোর লোকসংখ্যা কমিয়ে এনেছেন এবং বিদেশ সফরের আগে ও পরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান না করার নির্দেশনা প্রদান।
- দেশের আইন প্রণয়ন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্যাবহারিক ধারণা দিতে শিশুদের জন্য জাতীয় সংসদের অধিবেশন সরাসরি গ্যালারিতে বসে দেখার সুযোগ।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট, ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্টার্ট-আপ ও আইডিয়া কম্পিটিশন, প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সকল পর্যায়ের বৃত্তির সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি।
- সংসদে এবং সংসদের বাইরে বিরোধী দলগুলোর স্বাধীন রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমন বাংলাদেশের রুপকল্প দিয়েছেন, যেখানে দল-মতো-পথের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই মিলে দেশের স্বার্থে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে একসাথে কাজ করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চিন্তায়, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য বিদ্যমান, বিরোধীদলীয় নেতা সংসদের সমাপনী বক্তব্য রেখেছেন, যা গণতান্ত্রিক পরিপক্বতার প্রমাণ।
- সংসদীয় রীতিনীতির প্রতি বিরল সম্মান প্রদর্শন করে, সংসদে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালীন ফ্লোর ক্রসিং এড়াতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাধারণ আসনের তৃতীয় সারিতে বসে শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন।
- রাষ্ট্রীয় নির্দেশনার মাধ্যমে যে-কোনো সরকারি বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের ব্যানার ও ফেস্টুনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- প্রাণিরক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে অবহেলিত প্রাণীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় ‘বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ (বাওয়া) ফ্রি অ্যানিমেল ক্লিনিক ও ২৪ ঘণ্টা জরুরি ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু।
- দেশের মহান বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় সংসদের দর্শক গ্যালারির নামকরণ করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠদের নামে।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা।
- জাতীয় সার্বভৌমত্বের সুরক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি মহড়ায় সুযোগ পেলেই অংশ নিচ্ছেন, সেনা ক্যাম্পে গিয়ে সাধারণ খাবার গ্রহণ করছেন এবং বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধিতে কাজ করছেন।
জাঁকজমক জীবন পরিহার করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনায় যে অভিনব, জনকল্যাণমুখী ও সংবেদনশীল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আজ দেশের মানুষের মধ্যে গভীর আস্থা তৈরি করেছে। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ, তা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো হোক বা প্রটোকলহীন সাধারণ জীবনযাপন আজ প্রমাণ করছে তিনি এদেশে প্রতি শ্রেণী পেশা, ধর্ম বর্ণ জাতি গোষ্ঠী সকলের প্রতিনিধি, তিনি জনতার প্রধানমন্ত্রী। মানবিকতা ও ন্যায়পরায়ণতার এই ধারা অব্যাহত রেখে একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই অনন্য রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব এ দেশের ইতিহাসে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রা শুরু করে মাত্র ৫ মাসে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করা কেবল তখনই সম্ভব, যখন সরকারের পেছনে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ও আস্থা থাকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের আকাঙ্খা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। বিগত ১৫০ দিনে সরকার কেবল সমস্যার সমাধানই করিনি, বরং একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশের মজবুত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও এই অবারিত উদ্যম, দেশপ্রেম এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে চাই, ইনশাআল্লাহ। এজন্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।




