জেড নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তেল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) লেনদেন শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৪.৭২ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১.৮৫ ডলারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪৪ সেন্ট বা ০.৪২ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ৩৬ সেন্ট বা ০.৩৯ শতাংশ। সপ্তাহের হিসাবে দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই বাড়ার পথে ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে এগিয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ কিছু স্থাপনায় উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক খনিজসম্পদ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওই অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৮৩ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন বন্ধ ছিল, যা অঞ্চলটির দৈনিক উৎপাদনের প্রায় ৬২.৯ শতাংশ। উৎপাদন বন্ধ রাখার ফলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে শুক্রবার লেনদেনের শুরুর দিকে তেলের দাম কমেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনাকে ‘ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা নেই বলে জানান তিনি। তাঁর এই বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমে আসে।
বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক চীনও সাময়িক বিরতির পর পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি পুনরায় শুরুর পরিকল্পনা করছে। দেশটির গোল্ডেন উইক ছুটির সময় রপ্তানিতে বিরতি ছিল। রপ্তানি পুনরায় শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল, পেট্রল ও উড়োজাহাজের জ্বালানির সরবরাহ বাড়তে পারে। ফলে তেলের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপও তৈরি হয়েছে।
এদিকে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে চলতি সপ্তাহে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বরাতে দেশটির তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি সাত দিনের মধ্যে পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের প্রস্তাবের জবাব পর্যালোচনা করছে ইরান। অন্যদিকে, ইরানি অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, নেটওয়ার্ক এবং ১৭টি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন।
ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতও পেট্রল, উড়োজাহাজের জ্বালানি এবং বিশেষ করে ডিজেলের সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। ফলে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং চীনের রপ্তানি পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে দামের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।





