চব্বিশের মধ্য জুলাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। ছাত্রলীগ টিএসসি আর বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থীদের ব্যানারে সাধারণ শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনার এলাকায় জড়ো হয়েছে। চাঁনখারপুলে তখন থেমে থেমে চলছে পুলিশের গুলি।
এর মধ্যে খবর এলো রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। শিক্ষার্থী মৃত্যুর খবর বিপ্লবের অগ্নি বারুদ হয়ে জ্বলে ওঠে উত্তাল জনস্রোতে। নিহত সেই শিক্ষার্থীই ছিলেন শহীদ আবু সাইদ। তিনিই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
সশস্ত্র পুলিশের সামনে যার প্রসারিত বাহু যেন লক্ষ্য কোটি বিপ্লবীকে টেনে আনে রাজপথে। তারপর লাশের পর লাশ। রাজপথ থেকে হাসপাতাল আর বাসাবাড়ি থেকে কবরস্থান, আকাশ-বাতাস ভারি হতে থাকে স্বজনহারাদের আহাজারিতে। অবশেষে ৩৬ জুলাই জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে দিল্লি পালিয়ে যায় গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার পুরো সরকার।
৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অর্ন্তবর্তী সরকার গঠিত হওয়ার পর গঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। যাতে বিচার চলছে চব্বিশের গণহত্যার। সঙ্গত কারনেই শহীদ আবু সাইদের মামলাটি একেবারেই শীর্ষে।
ওই মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রহমানসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মোট ৩০ আসামীর মধ্যে বাকি চারজনকে রয়েছেন কারাগারে।
জেড নিউজ, ঢাকা।





