জেড নিউজ স্পোর্টস:
চারপাশে সবুজায়ন। মাঝে করোগি অ্যাথলেটিক পার্ক। চোখ ধাঁধানো এই গ্রাউন্ডেই কিনা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। এশিয়ান গেমসে যে ক্রিকেটকে ঘিরে পদকের স্বপ্ন ছিল, বাইজ গজের সেই লড়াইয়ে লিটন কুমার দাসরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। নারী ক্রিকেট দলের পর ছেলেরাও এশিয়াডে ব্রোঞ্জ জিততে পারেনি।
গতকাল অপেক্ষাকৃত দুর্বল শ্রীলংকার কাছে ৬৩ রানের পরাজয়ে পদকের স্বপ্নের সলিল সমাধি ঘটেছে বাংলাদেশের। সর্বশেষ হ্যাংঝু এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট থেকে এসেছিল দুটি ব্রোঞ্জ। এবার শূন্য হাতেই ফিরিয়ে দিয়েছে ক্রিকেট। আইচি নাগোয়া এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রাপ্তি বলতে উশুর জিন্নাত আক্তারের অপ্রত্যাশিক সেই ব্রোঞ্জ পদকটি।
এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ এবং ভারত শক্তিশালী দল পাঠিয়েছিল। তৃতীয় শক্তিধর দল হলো পাকিস্তান। এই শ্রীলংকা দলে নেই কোনো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। পুরোপুরি তারুণ্য নির্ভর দল নিয়ে এশিয়াডে আসে তারা। এই দলটির সঙ্গেই কিনা পেরে ওঠেনি তারায় তারায় খচিত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
শ্রীলংকার ১৬৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নামা বাংলাদেশ শূন্য রানেই হারায় দুই ওপেনার সাইফ হাসান এবং তানজিদ হাসান তামিমকে। রান খরায় ভুগতে থাকা লিটন কুমার দাস পারেননি সময়ের দাবি মিটিয়ে ব্যাট করতে। থুসারার বলে বোল্ড হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ অধিনায়ক নিজের নামে পাশে কোনো রান যোগ করতে পারেননি। দলের কঠিন সময়ে যেখানে তার হাল ধরার কথা, সেখানে লিটন কিনা বলের লেংথই বুঝতে পারেননি। ৪ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে খাদের কিনারা থেকে দলকে উদ্ধার করা তাওহীদ হৃদয় হাঁকিয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। লংকানদের বিপক্ষে হাসেনি হৃদয়ের ব্যাট। ৬ বলে ১১ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তারপরেও সবাই আশায় বসে ছিল।
কারো ব্যাট যদি সাহান আরাচিগে এবং থারিঙ্গু রত্নায়েকের মতো হাসে। কারণ শ্রীলংকাও ২১ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছিল। কিন্তু পারভেজ হোসেন ইমন এবং ইয়াসির আলী তাদের দু’জনের মতো হতে পারেননি। ২৪ রান করা ইমন দলীয় ৫০ রানে আউট হয়ে যান। ভাঙ্গে ৩২ রানের জুটি। শেখ মেহেদিও উইকেটের চরিত্র বুঝতে পারেননি। ভিয়াসকান্তের বলের ফ্লাইট বুঝতে পারেননি। ৫০ রানে ৬ উইকেটে হারানো বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর আশাটা প্রায়ই শেষ হয়ে যায়। তৃতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান করা ইয়াসির আলীর প্রচেষ্টাও বিফলে যায়। বাকি ব্যাটসম্যানরাও পারেননি অবিশ্বাস্য কিছু করতে। নাসুম আহমেদের সর্বোচ্চ ২৬ রানের পরও বাংলাদেশ ১৭.৩ ওভারে ১০২ রানে গুটিয়ে যায়।
এর আগে শ্রীলংকা ১৬৫ রান তুলতে পেরেছে দুই ব্যাটার সাহান আরাচিগে এবং থারিঙ্গু রত্নায়েকের কল্যানে। ৫৪ রানে ৫ উইকেট হারানো লংকানরা যখন এক’শ রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শংকায় ছিল সেখান থেকে ষষ্ঠ উইকেটে ৯৩ রানের জুটি গড়ে দলকে শুধু বিপদ থেকেই উদ্ধার করেননি চ্যালেঞ্জিং স্কোরও দাঁড় করিয়ে দেন তারা। থারিন্দু ৬৫ এবং সাহানে করেন ৩৩ রান। শুরুতে এলোমেলো হওয়া শ্রীলংকা ১৪–১৮ এই পাঁচ ওভারে ৮৩ রান করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে খরুচে বোলিং করা মুস্তাফিজুর রহমান ১৪তম ওভারে প্রথমবার বোলিং আসেন। দেন ২৫ রান। আগের ম্যাচে ২ ওভারে ৪১ রান দিয়ে এ পেসার এবার ৩ ওভারে দিয়েছেন ৪৩ রান, উইকেট পেয়েছেন ২টি। রহস্যময়ী স্পিনার আলিস আল ইসলামকে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলায়নি বাংলাদেশ। গতকাল ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে প্রথম স্পেলে তিনি ৩ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়েছেন। ১৮ বলের মধ্যে ১২ বলই ছিল ডট। বাংলাদেশের সফল বোলার স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। তিনি পূর্ণ ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রানে দুই উইকেট নিয়েছেন।





