spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

বুক ব্যথা ছাড়াই হার্টে বিপদ, শরীর দিতে পারে যে নীরব সংকেত

জেড নিউজ, ঢাকা:

বুকে ব্যথা নেই, হাঁটাচলায় তেমন সমস্যা নেই, তাই হার্টও বুঝি একেবারে ঠিক আছে-এমন ধারণা সবসময় সঠিক নয়। অনেকের ক্ষেত্রে হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ কমে গেলেও স্পষ্ট বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি নাও হতে পারে। এই অবস্থাকে বলা হয় সাইলেন্ট মায়োকার্ডিয়াল ইসকেমিয়া বা নীরব হৃদ্‌ইসকেমিয়া। অর্থাৎ হৃদপেশিতে রক্ত চলাচল কমছে, কিন্তু শরীর সবসময় প্রচলিত সতর্কসংকেত দিচ্ছে না।

কেন হয় নীরব ইসকেমিয়া
সাধারণত করোনারি ধমনিতে চর্বি ও কোলেস্টেরলজাতীয় প্লাক জমে ধমনি সরু হয়ে গেলে হৃদপেশিতে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ কমে যেতে পারে। এই অবস্থাই করোনারি আর্টারি ডিজিজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। দীর্ঘ সময় রক্ত সরবরাহ কম থাকলে হৃদপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তবে ‘ব্যথা নেই মানেই ইসকেমিয়া নেই’-এমনটা বলা যায় না। আবার যেকোনো ক্লান্তি বা বদহজমকেও হৃদ্‌রোগের লক্ষণ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

কারা বেশি ঝুঁকিতে
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নীরব ইসকেমিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে ডায়াবেটিসের কারণে স্নায়ুর কার্যকারিতায় পরিবর্তন হলে হৃদ্‌রোগের প্রচলিত ব্যথার সংকেত কম অনুভূত হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, পূর্বের হৃদ্‌রোগ এবং পারিবারিক ইতিহাসও করোনারি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কি কোনো সংকেত থাকে না
সাইলেন্ট ইসকেমিয়ার মূল বৈশিষ্ট্যই হলো স্পষ্ট উপসর্গ না থাকা। তবে হৃদ্‌ইসকেমিয়া কখনো কখনো প্রচলিত বুকে ব্যথার বদলে অন্য ধরনের অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, অল্প পরিশ্রমেই অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঝিমঝিম করা, ঠান্ডা ঘাম, বমিভাব বা বদহজমের মতো অনুভূতি, কিংবা ঘাড়, চোয়াল, কাঁধ, হাত বা ওপরের শরীরে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ বিশেষ করে পরিশ্রমের সময় হলে অবহেলা করা উচিত নয়। তবে এসব লক্ষণ শুধু হৃদ্‌রোগের জন্যই হয় না। তাই নিজের মতো করে রোগ নির্ণয় না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

যেভাবে ধরা পড়ে
নীরব ইসকেমিয়া অনেক সময় সাধারণ কথাবার্তায় বোঝা যায় না। পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসক ইসিজি, অ্যাম্বুলেটরি বা হল্টার মনিটরিং, এক্সারসাইজ স্ট্রেস টেস্ট, ইকোকার্ডিওগ্রাম কিংবা অন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা দিতে পারেন। কোন পরীক্ষা দরকার হবে, তা ব্যক্তির বয়স, ঝুঁকি ও উপসর্গের ওপর নির্ভর করে।

ঝুঁকি কমাতে যা করবেন
হার্ট ভালো রাখতে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

বুকে তীব্র বা স্থায়ী ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমিভাব বা ওপরের শরীরে নতুন ধরনের তীব্র অস্বস্তি হলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়