জেড নিউজ, ঢাকা :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান জাতিসংঘে নিজের যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছেন, তার নিয়োগের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ন্যূনতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, জাইমা রহমান বাংলাদেশ সরকারের কোনো পদে কিংবা জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকারের স্থায়ী মিশনে নিয়োগ পাননি। জাতিসংঘের নিজস্ব নিয়ম, বিধি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট মানবসম্পদ বিভাগ তার নিয়োগ দিয়েছে।
জাইমা রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়ানোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, উনি নিজের যোগ্যতায়, নিজ মেধার ভিত্তিতে একটা চাকরি পেয়েছেন, যেটার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে এই চাকরি দেওয়া হয়েছে। সেটাও আরেকটা মিথ্যাচার।
পি-৩ পর্যায়ের পদ
মাহদী আমিন জানান, জাইমা রহমান জাতিসংঘের পি-৩ পর্যায়ের একটি পেশাগত পদে আবেদন করে নিয়োগ পেয়েছেন। এ ধরনের পদে সাধারণত পাঁচ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের পি-১ হলো প্রফেশনাল লেভেল-১, যা সাধারণত নতুন গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের চাকরি। পি-২ পর্যায়ে দুই বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। এরপর পি-৩ পর্যায়ে সাধারণত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। এর ওপরে পি-৪ ও পি-৫সহ আরও উচ্চপর্যায়ের পদ রয়েছে।
জাইমা রহমানের পেশাগত প্রোফাইলের সঙ্গে পি-৩ পর্যায়ের পদটি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, নিয়োগের আবেদন থেকে শুরু করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং আর্থিক সুবিধা সবকিছুই জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের কোনো ধরনের প্রভাব বা সম্পৃক্ততা নেই।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের নিয়ম, বিধি ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী নির্বাহী কার্যালয়ের অধীন মানবসম্পদ টিমই নিয়োগ ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের কাজ করে থাকে। জাইমা রহমানের ক্ষেত্রেও সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়েছে।
জাইমা রহমানের নিয়োগের তথ্য জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে যাচাই করা যাবে বলেও জানান মাহদী আমিন।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপপ্রচার ঠিক নয়
জাইমা রহমানের নিয়োগ নিয়ে অপপ্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, নিজের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একজন মানুষ আন্তর্জাতিক পরিসরে জায়গা করে নিয়েছেন। তার পেশাগত ক্যারিয়ারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জড়িয়ে দেখা বা অপপ্রচার চালানো কাম্য নয়।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক, শেয়ার ও কমেন্ট পাওয়ার জন্য মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে। সত্য তথ্যের ভিত্তিতে সমালোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু সত্যকে বিকৃত করে অপপ্রচার চালানো রাজনীতির সংস্কৃতি হওয়া উচিত নয়।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা প্রত্যেকেই চাই গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনা হোক। যা সত্য ও ন্যায্য, সেটাকে তুলে ধরা হোক। আর যেটা অনৈতিক বা অন্যায্য, সেটাকেও নির্মোহভাবে তুলে ধরা উচিত।





