জেড নিউজ ডেস্ক:
মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে রাস্তাঘাট, মাঠঘাট ও লোকালয়। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোর থেকেই কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে চারপাশ। সড়কে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় হেডলাইট জ্বালিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করছেন যানবাহনের চালকেরা। ঘন কুয়াশার সঙ্গে হালকা বাতাস ও ভোরের শীত প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা দিচ্ছে। জীবিকার তাগিদে কুয়াশা উপেক্ষা করেই কাজে বের হচ্ছেন নানা পেশার মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে শনিবার ভোরে সবচেয়ে বেশি কুয়াশা দেখা গেছে। এর আগে কয়েক দিন হালকা কুয়াশার পাশাপাশি ভোররাতে শীত অনুভূত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ ঘন কুয়াশায় চারদিক ঢেকে যাওয়ায় সড়কে সামনের দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। ভোর থেকে কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বাইরে বের হলে পোশাকও কুয়াশায় ভিজে যাচ্ছে। প্রকৃতিতে শীতের আমেজ বাড়তে শুরু করেছে।
ভ্যানচালক হকমান আলী বলেন, ‘বামন্দী থেকে তেঁতুলবেড়িয়া যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছি। কিন্তু রাস্তায় এত ঘন কুয়াশা যে সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। লাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সবারই অত্যন্ত সতর্কভাবে চলাচল করা উচিত।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. লোকমান হোসেন বলেন, ‘আজ ভোরে রাস্তায় বের হয়ে দূরের কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তবে এই কুয়াশায় ফসলের ক্ষতি হবে না, বরং ফসলের জন্য উপকারী হবে।’ তিনি আরও বলেন, আগে ঋতু পরিবর্তনের যে স্বাভাবিক চিত্র দেখা যেত, এখন তা অনেকটাই বদলে গেছে। কখন কোন ধরনের আবহাওয়া দেখা দেবে, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। দিন দিন প্রকৃতি থেকে ঋতুবৈচিত্র্যের চেনা রূপ হারিয়ে যাচ্ছে।
অটোচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ভোর থেকেই ঘন কুয়াশা পড়ছে। তাই খুব ধীরে গাড়ি চালাচ্ছি এবং লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছি। কুয়াশার কারণে সামনে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় গাড়ি চালাতে ভয় লাগে। ঘন কুয়াশায় সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এর সঙ্গে হালকা বাতাস ও শীতও রয়েছে।’
পাখি ভ্যানচালক মো. সাব্বির হোসেন বলেন, ‘ঘন কুয়াশার কারণে ভ্যানের সামনের ছোট লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছি। তারপরও ঠিকমতো দেখা যায় না। অনেক ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় চলতে হচ্ছে। কুয়াশার কারণে সড়কে দুর্ঘটনাও ঘটতে দেখেছি। তাই সবাইকে সতর্ক হয়ে চলাচল করা উচিত।’
৬০ বছর বয়সী রিপন আলী বলেন, ‘আজ ভোরে ঘন কুয়াশার সঙ্গে হালকা শীতও পড়েছে। রাস্তায় বের হওয়ার পর কুয়াশায় শরীরের পোশাক ভিজে গেছে। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনই কাজের জন্য বের হতে হয়। সামনে শীত আরও বাড়বে, তখন কাজ করতেও কষ্ট হবে। তবে শীত ও কুয়াশা আমাদের থামিয়ে রাখতে পারবে না। কাজ করেই পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে হয়।’
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বর্তমানে যে ধরনের কুয়াশা পড়ছে, তাতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে অতিরিক্ত শীতের সময় ঘন কুয়াশা পড়লে কিছু ফসলের ক্ষতি হতে পারে।





