spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

মিলনের পর পুরুষ সঙ্গীকেই খেয়ে ফেলে স্ত্রী অক্টোপাস

জেড নিউজ ডেস্ক :

সমুদ্রের তলায় এমন এক প্রাণী রয়েছে, যার শরীরে আছে তিনটি হৃদপিণ্ড, রক্তের রং নীল, আবার বিপদ বুঝলে মুহূর্তে বদলে ফেলতে পারে শরীরের রং ও ত্বকের গঠন। শুধু তাই নয়, প্রজননের পর তার জীবনচক্রও বেশ অদ্ভুত। কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে তো মিলনের পর স্ত্রী অক্টোপাস পুরুষ সঙ্গীকেই আক্রমণ করে খেয়ে ফেলতে পারে! তবে বিষয়টি সব অক্টোপাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতিতে এমন ‘সেক্সুয়াল ক্যানিবালিজম বা যৌন নরখাদকতা’-এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে।

অক্টোপাসকে দেখতে আধুনিক ও অদ্ভুত মনে হলেও পৃথিবীতে তাদের পূর্বপুরুষের অস্তিত্ব বহু কোটি বছরের পুরোনো। বিজ্ঞানীদের হাতে পাওয়া প্রাচীনতম পরিচিত অক্টোপাস-আত্মীয়ের জীবাশ্মের বয়স প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন বছর। অর্থাৎ ডাইনোসরের আবির্ভাবেরও বহু আগে এই প্রাণীগোষ্ঠীর অস্তিত্ব ছিল।

বর্তমান অক্টোপাস হলো সেফালোপড শ্রেণির মোলাস্ক। স্কুইড ও কাটলফিশও একই শ্রেণির প্রাণী। নরম শরীর, আটটি বাহু এবং অসাধারণ অভিযোজন ক্ষমতার কারণেই সমুদ্রের প্রাণীদের মধ্যে অক্টোপাস এতটা আলাদা।

তিন হৃদপিণ্ড, নীল রক্ত! অক্টোপাসের শরীরে রয়েছে তিনটি হৃদপিণ্ড। এর মধ্যে দুটি হৃদপিণ্ড ফুলকার দিকে রক্ত পাঠায় এবং অন্যটি শরীরের বাকি অংশে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ করে।

মানুষের রক্ত লাল হলেও অক্টোপাসের রক্ত নীলচে। কারণ তাদের রক্তে অক্সিজেন পরিবহনের কাজে হিমোগ্লোবিনের বদলে হিমোসায়ানিন নামের তামা-সমৃদ্ধ প্রোটিন কাজ করে। বিশেষ করে ঠান্ডা ও কম অক্সিজেনযুক্ত পানিতে এটি তাদের জন্য কার্যকর।

মিলনের পর সত্যিই কি পুরুষকে খেয়ে ফেলে?

এই প্রশ্নের উত্তর কিছু ক্ষেত্রে হ্যাঁ। ২০০৮ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় অক্টোপাস সায়ানিয়া প্রজাতির একটি স্ত্রী অক্টোপাসের সেক্সুয়াল ক্যানিবালিজম নথিভুক্ত করা হয়। পালাউ, মাইক্রোনেশিয়ায় পর্যবেক্ষণের সময় দেখা যায়, একটি ছোট পুরুষ অক্টোপাসের সঙ্গে একাধিকবার মিলনের পর স্ত্রীটি তাকে আক্রমণ করে শ্বাসরোধ করে এবং পরে নিজের গুহায় নিয়ে গিয়ে প্রায় দুই দিন ধরে তার দেহ খায়। এটিকে এই প্রজাতিতে সেক্সুয়াল ক্যানিবালিজম-এর প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা হিসেবে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে এখানেই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে -সব স্ত্রী অক্টোপাস মিলনের পর পুরুষকে খেয়ে ফেলে না। এমন ইতিহাস-গবেষণার তথ্য এখনো নেই। অক্টোপাসের বিভিন্ন প্রজাতির আচরণ আলাদা। সাধারণভাবে পুরুষ অক্টোপাসের জন্য স্ত্রীটির কাছে গিয়ে মিলন করাটাই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই কিছু পুরুষ দূরত্ব বজায় রেখে মিলনের চেষ্টা করে।

পুরুষের শরীরেও রয়েছে ‘বিশেষ’ বাহু

অক্টোপাসের প্রজনন প্রক্রিয়াও অন্য প্রাণীদের তুলনায় বেশ ব্যতিক্রমী। পুরুষের একটি বিশেষায়িত বাহু থাকে, যার নাম হেক্টোকোটাইলাস। এই বাহুর মাধ্যমে স্ত্রী অক্টোপাসের শরীরে শুক্রাণু পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রজাতিভেদে এই বাহুর গঠন ও ব্যবহারের পদ্ধতিও আলাদা হতে পারে। মিলনের পর পুরুষের জীবনও সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অনেক প্রজাতির পুরুষ মিলনের কয়েক মাসের মধ্যেই মারা যায়। স্ত্রী অক্টোপাসও ডিম পাড়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে ডিম পাহারা দিতে গিয়ে খাবার গ্রহণ বন্ধ করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত মারা যায়। মূলত ডিমগুলো যেন অন্য কোনো মাছ বা প্রাণী যেন খেয়ে না ফেলে তাই সারাক্ষণ পাহারা দেয় স্ত্রী অক্টোপাস। ফলে খাবার সংগ্রহ করতে যেতে পারে না। এরপর না খেতে পেয়ে একসময় মারা যায়।

মা অক্টোপাসের জীবনও বিস্ময়কর

স্ত্রী অক্টোপাসও ডিম পাড়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে ডিম পাহারা দিতে গিয়ে খাবার গ্রহণ বন্ধ করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত মারা যায়। ডিম পাড়ার পর স্ত্রী অক্টোপাস সাধারণত ডিমগুলোর দেখাশোনা করে। শিকারি প্রাণীর হাত থেকে ডিম রক্ষা করে এবং বাহু দিয়ে পানি প্রবাহিত করে ডিমের কাছে অক্সিজেন পৌঁছাতে সাহায্য করে। মূলত ডিমগুলো যেন অন্য কোনো মাছ বা প্রাণী যেন খেয়ে না ফেলে তাই সারাক্ষণ পাহারা দেয় স্ত্রী অক্টোপাস। ফলে খাবার সংগ্রহ করতে যেতে পারে না। এরপর না খেতে পেয়ে একসময় মারা যায়।

কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে এই অপেক্ষার সময় অত্যন্ত দীর্ঘ। গভীর সমুদ্রের গ্রানেলেডোন বোরিওপ্যাসিফিকা প্রজাতির একটি স্ত্রীকে প্রায় ৫৩ মাস ডিম পাহারা দিতে দেখা গিয়েছিল, যা কোনো প্রাণীর সবচেয়ে দীর্ঘ নথিভুক্ত গর্ভধারণের সময়কাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চোখের সামনে বদলে যায় শরীরের রং!

অক্টোপাসের অন্যতম বিস্ময়কর ক্ষমতা হলো ছদ্মবেশ। ত্বকের বিশেষ কোষ ক্রোমাটোফোরের সাহায্যে তারা রং বদলাতে পারে। শুধু রং নয়, ত্বকের টেক্সচারও বদলে আশপাশের পাথর, প্রবাল বা অন্য পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। শিকারির হাত থেকে বাঁচতে প্রয়োজনে কালি ছুড়ে দ্রুত পালিয়েও যায়। 

আট বাহু, কিন্তু বুদ্ধিও অসাধারণ

অক্টোপাসকে শুধু আট বাহুর প্রাণী ভাবলে ভুল হবে। তাদের স্নায়ুতন্ত্র অত্যন্ত জটিল। শরীরের বিপুলসংখ্যক নিউরন বাহুগুলোতেও রয়েছে, ফলে বাহুগুলো অনেকটা স্বাধীনভাবেও বিভিন্ন কাজ করতে পারে। সমস্যা সমাধান, শেখা এবং পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার জন্য অক্টোপাসকে অত্যন্ত বুদ্ধিমান অমেরুদণ্ডী প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়