জেড নিউজ ডেস্ক:
সৌরজগতের বামন গ্রহ প্লুটোর সবচেয়ে বড় চাঁদের নাম ‘শ্যারন’। একসময় এটি বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুতগতিতে ঘুরত। সম্প্রতি শ্যারনের বরফে ঢাকা পৃষ্ঠের পাহাড় ও ফাটল পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা এ তথ্য জানতে পেরেছেন।
বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার কমিউনিকেশনস’-এ এই গবেষণার ফল ছাপা হয়েছে। নাসার ‘নিউ হরাইজনস’ মহাকাশযানের তোলা ছবি থেকে এসব তথ্য মিলেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হানঝাং চেনের দল এই গবেষণাটি করেছে।
গবেষকরা শ্যারনের উত্তর গোলার্ধের ‘ওজ টেরা’ এলাকা নিয়ে কাজ করেন। তারা দেখেন, সেখানে ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি লম্বা পর্বতমালা রয়েছে। পাহাড়গুলোর ঢাল ও ফাটলগুলো মোটেও এলোমেলো নয়। প্লুটোর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে শ্যারনের ঘোরার গতি ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার কারণেই এমনটা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়াকে বলছেন ‘ডিস্পিনিং’।
প্রধান গবেষক হানঝাং চেন জানান, এই গবেষণা শ্যারনের ইতিহাস সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণা পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। ঘোরার গতি কমে যাওয়ায় শ্যারনের মাঝখানের অংশ প্রায় ১ শতাংশ ছোট হয়ে গেছে। মডেল থেকে দেখা যায়, আগে শ্যারন প্রতি ১৪.৩ ঘণ্টায় একবার নিজ অক্ষে ঘুরত। কিন্তু এখন এটি প্লুটোর সাথে এমনভাবে আটকে আছে যে একবার ঘুরতে ১৫৩.৩ ঘণ্টা সময় লাগে। অর্থাৎ, একসময় শ্যারনের দিন এখনকার চেয়ে ১০ গুণেরও বেশি ছোট ছিল।
পুরোনো ইতিহাস জানতে শ্যারন বিজ্ঞানীদের কাছে একটি দারুণ জায়গা। কারণ, এখানে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। এর পৃষ্ঠে কোনো আগ্নেয়গিরি বা বড় ভূমিকম্পের প্রভাব নেই। ফলে এর বুকে থাকা গর্তগুলো ৪০০ কোটি বছরেরও বেশি সময় ধরে একদম আগের মতোই আছে।





