জেড নিউজ স্পোর্টস
মালদ্বীপে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে বড় অবদান যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ফুটবলার রোনান সুলিভান। তার সঙ্গে এসেছেন ছোট ভাই ডেকলান সুলিভান। রোনান একাদশে খেললেও ডেকলান বদলি খেলেছেন। গেম টাইম কম পেলেও ডেকলান সুলিভানও উঁচুমানের ফুটবলার, তার প্রমাণ মিলেছে। দুজনই ভালো ফুটবলার। বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করানোর পেছনে বড় অবদান রেখেছেন।
রোনান গ্রুপ পর্বে প্রথম খেলায় পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে জিতিয়েছেন। এই জয়টাই বাংলাদেশকে সেমিফাইনালে ওঠার ৯০ ভাগ পথ করে দিয়েছে। সেমিফাইনালে ওঠার চেয়েও আলোচনায় ছিল রোনান সুলিভানের ফ্রি কিক। হুবহু মেসি স্টাইলে ফ্রি কিক করেন রোনান। বক্সের ওপর থেকে শট করেন। বাঁক খেয়ে বল গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়। মেসি ও রোনান সুলিভানের ফ্রি কিক স্টাইলের ছবিটাও অনেকে পাশাপাশি রেখে মিলিয়ে দেখেছেন; ফারাক খুঁজে পাননি কেউ।
গতকাল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবসের দিন সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন দলকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে কথা বলেছেন রোনান সুলিভান। তার কাছে এমন আয়োজন অকল্পনীয়। তার চিন্তার বাইরে ছিল। আমরা প্রথমবার খেলতে এসেই যা পেয়েছি। তা ভাবাই যায় না। আমি খুব খুশি। বাংলায় কথা খুব একটা বলতেই পারেন না। পুরোপুরি ইংরেজিতে কথা বলেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জার্সি গায়ে বসে ছিলেন। গলায় ছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পদক।
রোনান ও ডেকলান সুলিভানের বড় ভাই কুইন সুলিভান, ছোট ভাই কাভান সুলিভান ও ফুটবল খেলেন। বাবা ব্রেনডান সুলিভানও ছিলেন ফুটবলার। ফুটবল পরিবারে জন্ম রোনান সুলিভানের। তাদের নানির বাড়ি বাংলাদেশ। নানিরা অনেক গল্প করেছেন। নাতিরা শুনেছেন মায়ের বাড়ির চেয়ে নানির বাড়িতে আদর বেশি পাওয়া যায়।
কিন্তু রোনানরা বাংলাদেশে জন্মাননি। বাংলাদেশে যেভাবে নাতি-নাতনিরা নানিবাড়ির আদর পান; ঠিক হুবহু সেটা না পেলেও রোনানরা বিমানবন্দরে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভ্যর্থনা, হাতিরঝিলের সংবর্ধনা আর গতকালকের বড় হল রুমে ক্রীড়াঙ্গনের হাজারো মানুষের সামনে সংবর্ধনা পেয়ে উপলব্ধি করছেন, নানিবাড়ির আদর অনেক বেশি। সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেই উপলব্ধি হচ্ছে রোনানদের বুকে।



