টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগের উপর করা STEPS Survey ২০২২ অনুযায়ী উচ্চ রক্তচাপের প্রাদুর্ভাব প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে প্রায় ২৫% অর্থাৎ, প্রতি চার জনে একজন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় শতকরা ৭১ ভাগের জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগ। তন্মধ্যে শতকরা ৩৪ ভাগই মৃত্যুবরণ করছে হৃদরোগ ও স্ট্রোক জনিত কারনে।
হৃদরোগ ও স্ট্রোকসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগে মৃত্যুহার কমানো এবং বাংলাদেশ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আজ টাঙ্গাইল জেলার সিভিল সার্জন অফিসের কনফারেন্স রুমে নব-নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের নিয়ে দিনব্যাপী এনসিডি বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ওয়ার্কশপের শুভ উদ্বোধন ও সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলার সিভিল সার্জন ডা. এফ. এম. মাহবুবুল আলম।
সভাপতির বক্তব্যে ডা: এফ. এম মাহবুবুল আলম অংশগ্রহণকারীদের ওয়ার্কশপের উপর সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এরকম একটি সুন্দর ওয়ার্কশপ আয়োজন করার জন্য ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।
ওরিয়েন্টেশন ওয়ার্কশপ এর সার্বিক সমন্বয়ের দ্বায়িত্বে ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ আজিজুল হক মহোদয় এবং সেশন পরিচালনার দ্বায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রোগ্রাম অফিসার ডা. শৌভিক রায় ও বিভাগীয় সার্ভিলেন্স মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আব্বাস ইবনে করিম।
জেলার ১১ টি উপজেেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (সদর ব্যতীত) এনসিডি কর্ণারের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস-সহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগের সেবাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উক্ত কার্যক্রমটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডিসি) প্রোগ্রাম এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রান্তিক জনগণের এনসিডি বিষয়ক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নব-নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের এনসিডি বিষয়ক সিরিজ ওয়ার্কশপ এর আওতায় আনা হয়েছে । আজ ১১ টি উপজেেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আগত ৮৫ জন নব-নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক এ ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের জেলার ১১টি উপজেেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিডি কর্ণারের মাধ্যমে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার জন উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস-এর রোগী ডিজিটাল এপ (সিম্পল এপ) এর মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়েছেন, যাদের প্রায় ৬৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন।



