জেড নিউজ, ঢাকা :
ইসলামে নারীর হজ পালনে মাহরাম পুরুষ সঙ্গে থাকা বাধ্যতামূলক। তাই মাহরাম ছাড়া নারীদের হজের সফরে যাওয়া জায়েজ নয়। এমনকি অন্য মহিলাদের সঙ্গী হয়েও হজে যাওয়া নাজায়েজ।
কারো যদি মাহরাম না থাকেন, তবে তিনি স্বামী বা মাহরাম পুরুষের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। যদি মাহরাম পুরুষের ব্যবস্থা না হয় আর এভাবেই এমন বার্ধক্য এসে যায় যে, নিজে হজ করার শক্তি না থাকে, তাহলে ওই সময় কাউকে পাঠিয়ে বদলি হজ করিয়ে নেবে বা বদলি হজের অসিয়ত করে যাবে।
হাদিসে এসেছে, রাসলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো নারী মাহরাম ছাড়া সফর করবে না।’ জনৈক ব্যক্তি আরজ করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি অমুক অমুক বাহিনীর সাথে জিহাদে যাওয়ার ইরাদা করেছি। এ দিকে আমার স্ত্রীও হজে যাওয়ার ইচ্ছা করেছে (আমি এখন কী করতে পারি?)। রাসুলে কারীম (সা.) বললেন, ‘তুমিও তার সাথে (হজে) যাও।’
প্রখ্যাত ফক্বিহ ইবরাহীম নাখায়ী রাহ.-এর নিকট এক নারী পত্র লিখলেন যে, তিনি একজন বিত্তবান নারী। কিন্তু তার স্বামী নেই এবং কোনো মাহরাম পুরুষও নেই। আর ইতিপূর্বে তিনি হজ করেননি (এখন তিনি কি স্বামী বা মাহরাম ছাড়া হজে যেতে পারবেন?)।
উত্তরে ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. লিখেছেন, ‘মহিলাদের জন্য স্বামী বা মাহরাম পুরুষের ব্যবস্থা হওয়া হজের সামর্থ্যের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ তায়ালা কোরআন মজীদের এই আয়াতে বলেছেন, অর্থাৎ মানুষের মধ্যে যারা সেখানে (কাবা ঘরে) পৌঁছার সামর্থ্য রাখে তাদের ওপর আল্লাহর জন্য এ ঘরের হজ করা ফরজ। (সুরা আলে ইমরান : ৯৭) আপনার তো মাহরাম পুরুষ নেই। স্বামী বা মাহরাম ছাড়া আপনি হজে যাবেন না।’
উল্লেখ্য, ‘মাহরাম’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নারীর ওই সকল আত্মীয়, যাদের সাথে সবসময়ের জন্য বিবাহ হারাম।



