আবদুর রহমান:
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভাঙা ছিল ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর প্রথম বড় আঘাত। কিন্তু মোদি সরকারের আমলে এই ঘটনাটি শুধু ইতিহাস নয়—বরং রাষ্ট্রীয় মতাদর্শের ‘মডেল’ হিসেবে পুনর্ব্যবহৃত হয়েছে।
১. বাবরি মসজিদ ধ্বংস ছিল সংগঠিত রাজনৈতিক প্রকল্প
বিজেপি ও আরএসএস নেতৃত্বাধীন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর পরিকল্পিত অভিযানের ফলেই ৪০০ বছরের ঐতিহাসিক মসজিদটি ধ্বংস করা হয়। সেই সময় ভারতের সুপ্রিম কোর্টও বলেছিল যে ধ্বংস করা ছিল “অবৈধ” ও “আইনের শাসনের লঙ্ঘন”।
২. মোদি সরকারের অধীনে এই অবৈধ কাজ পুরস্কৃত হয়েছে।
২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্ট রামমন্দির নির্মাণের অনুমতি দিলেও রায় স্বীকার করেছে:
ক) হিন্দু পক্ষের দাবি ইতিহাসগতভাবে প্রমাণিত নয়
খ) বাবরি মসজিদ ধ্বংস সম্পূর্ণ বেআইনি
তবুও মোদি সরকার রামমন্দিরকে রাজনৈতিক প্রচারের কেন্দ্রে এনে এই অবৈধ কাজটিকে ‘ধর্মীয় বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে মন্দির উদ্বোধনে অংশ নেন—যা ভারতের সাংবিধানিক ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর স্পষ্ট আঘাত।
৩. বাবার মসজিদ ধ্বংসকারীদের বিচার হয়নি – বরং তারা ক্ষমতার কেন্দ্রে
বাবরি মসজিদ ভাঙার মূল অভিযুক্ত এল.কে. আডভানি, উমা ভারতী, মুরলি মনোহর যোশীসহ ৩২ জনকে ২০২০ সালে বিশেষ আদালত খালাস দিয়েছে—যদিও ঘটনাটি সারা বিশ্বের সামনে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ছিল। অপরাধীরা আজও বিজেপির ‘বীর যোদ্ধা’ হিসেবে সম্মান পাচ্ছে।



