জেড নিউজ, ঢাকা:
‘লাল পতাকা’ নামের একটি সংগঠন গত ২১ মার্চ রাতে পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ দেয়ালে দেয়ালে পোস্টারিং ও দেয়াললিখনের মাধ্যমে তাদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে। পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) একটি ভিন্ন অংশের নাম ’লাল পতাকা’।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জেলার আতাইকুলা উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে রাতের আঁধারে পোস্টার লাগানো হয়। এতে লেখা ছিল ‘দুনিয়ার সর্বহারা এক হও’, ‘ভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান, সমাজতন্ত্র কায়েম করো’, ‘লাঙ্গল যার জমি তার’, ‘বিদেশী কাপড় বন্ধ করো, তাঁতশিল্প রক্ষা করো’। বিশ্লেষকদের মতে প্রচারণার ভাষা বামপন্থী চরমপন্থার। এক সময় ‘সন্ত্রাসের জনপদ’ হিসেবে পরিচিত এসব অঞ্চলের মানুষদের মধ্যে এ ঘটনা নতুন ভীতি সৃষ্টি করেছে। অবশ্য ঘটনার সত্যাসত্য নিয়ে এ সংগঠন থেকে এখনো কোনো বিবৃতি আসেনি।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পোস্টারিংয়ের বিষয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে কারা এতে জড়িত তা শনাক্ত করার জন্য।
পাবনায় সাম্প্রতিক পোস্টারিং ও দেয়াললিখনের ঘটনাগুলোকে সরলভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল। এ-জাতীয় সংগঠনের অতীতের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে বলা যায়, এ ধরনের তৎপরতা সাধারণত কোনো গভীরতর প্রক্রিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের তৎপরতা তিনটি সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করে। প্রথমত, কোনো সংগঠন নীরবতা ভেঙে ধীরে ধীরে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করতে পারে, যাকে ‘লো-লেভেল রিগ্রুপিং’ বলা হয়। দ্বিতীয়ত, সংগঠনের মূল কাঠামো না থাকলেও বিচ্ছিন্ন কিছু পুরনো সদস্য বা সমর্থক নিজেদের উদ্যোগে এ ধরনের প্রচারণা চালাতে পারে। তৃতীয়ত, এটি সম্পূর্ণ অনুকরণমূলক বা বিভ্রান্তিমূলক আচরণ বা কর্মকাণ্ডও হতে পারে, যেখানে অন্য কোনো পক্ষ পুরনো নাম ব্যবহার করে ভীতি তৈরি করতে চাইছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষণীয়। এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র তৎপরতার খবর পাওয়া যায়নি, প্রকাশ্য কোনো সংগঠন বা জনসমাবেশের অস্তিত্বও দেখা যায়নি। পুরো ঘটনাটি সীমাবদ্ধ রয়েছে মূলত রাতের আঁধারে পোস্টারিংয়ের মধ্যে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এক সময়ের সক্রিয় পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) একটি অংশ ‘লাল পতাকা’ নামে পরিচিতি পায়। বিশেষ করে ১৯৯০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে পাবনা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম বেশ দৃশ্যমান ছিল।
তাদের তৎপরতার ধরন ছিল বহুমাত্রিক। চাঁদাবাজি, খুন, গ্রামভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ‘শ্রেণী সংগ্রাম’-এর নামে সহিংসতা। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষও নিয়মিত ঘটনা ছিল। এ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের জীবনে ভয় ও অনিরাপত্তা সৃষ্টি করে।



