জেড নিউজ স্পোর্টস
অস্ট্রেলিয়ার পার্থে এশিয়ান কাপ নারী ফুটবলের উদ্বোধন হয়েছে। পার্থের বিখ্যাত রেস্টাঙ্গুলার স্টেডিয়াম, ৬০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই মাঠ ক্রিকেট ম্যাচের জন্য পরিচিত। এশিয়া কাপ নারী ফুটবলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেকর্ড সংখ্যা দর্শক হাজির হয়েছে। ৪৪ হাজার ৩৭৯ জন দর্শক গতকালকের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন।
২০১৪ সালে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ নারী ফুটবলে ১৮ হাজার দর্শক ছিল। নারী ফুটবল এশিয়া কাপের ইতিহাসে এতো দর্শক এবারই প্রথম। অস্ট্রেলিয়ার মানুষ খুবই খেলা প্রিয়। তারা ছুটির দিনে যে কোনো খেলায় হাজির হন, স্ত্রী, সন্তান নিয়ে দ্রুত মাঠে চলে আসেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক কোনো খেলা হলে অস্ট্রেলিয়ানরা মিস করতে চান না।
এশিয়া কাপ নারী ফুটবল উপলক্ষ্যে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সাজিয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠানের অনুকরণে। উদ্বোধনীয় খেলায় অস্ট্রেলিয়া এবং ফিলিপাইন মুখোমুখি হওয়ার আগে মহাদেশীয় এই টুর্নামেন্টে পূর্বে ২৬০ জন শিল্পী কলাকুশলী পারফরম্যান্স করেন। ফুটবল সংস্কৃতির মাধ্যমে নতুন পৃথিবীর বার্তা দেয়। উদীয়মান আরএন্ডবি শিল্পী জিপোরাহর সংগীত পরিবেশন। থিম সং লিখেছেন পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকার ন্যাট ডান। বিখ্যাত শিল্পী অড্রে ন্যূনার সংগীত। তার মনমুগ্ধকর পরিবেশনা দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। আতশবাজির স্ফুরণ মুগ্ধ করেছে। জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মাঠে নামে অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইন। ১-০ গোলে জয় উপহার দিয়েছে ২০১০ আসরের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া।
১২ দেশ নিয়ে লড়াই তিন গ্রুপে খেলা শুরু হয়েছে। খেলা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার তিন শহরে। পার্থ ছাড়াও সিডনি এবং গোলকোস্টে খেলা হবে আগামী ২১ মার্চ পর্যন্ত। আগামীকাল বাংলাদেশের খেলা। বি গ্রুপে বাংলাদেশ খেলবে বর্তমান চীনের বিপক্ষে। খেলা হবে সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়াম নামে পরিচিত জুবিলি স্টেডিয়ামে খেলা হবে। চীন মানে চীনের প্রাচীর। চীন মানে ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন ফুটবল দল। সেই দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ তৈরি হচ্ছে নিজ নিজ পজিশনের দিকে খেয়াল রেখে।
গোলপোস্ট থেকে শুরু করে মাঝমাঠ পর্যন্ত ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে কোচ পিটার জেমস বাটলারের। বাংলাদেশ নিজেদের নিয়ে ভাবছে। প্রতিপক্ষ নিয়ে নয়। কোচ জানেন বাংলাদেশের সামর্থ্য। মেয়েরা যদি নিজেদেরকে উজাড় করে দিয়ে নিজের খেলাটা খেলতে পারে তাহলেই খুশি কোচ। কীভাবে বল পজেশন দখলে রাখা যায়। বল হারিয়ে গেলে কীভাবে দ্রুত পেতে হবে। দ্রুত পরিবর্তন করে নিজেদেরকে নিরাপদ রাখতে পাঁচ জন করে বল পাসিং করানো হয়েছে।
৮ জন করে দুই ভাগে গেমের মতো করে অনুশীলন করানো হয়েছে। সবচেয়ে দুশ্চিন্তা গোলপোস্ট নিয়ে সাফের গোলরক্ষক রূপনা চাকমা রয়েছেন। তার দিকেই ফোকাস বেশি। গোলপোস্ট আগলে রাখার অনুশীলন করিয়েছেন গোলরক্ষক কোচরা। আজ সকালে জুবিলি স্টেডিয়ামে অনুশীলন করবে বাংলাদেশ দল।



