জেড নিউজ, ঢাকা:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থির পরিস্থিতির কারণে এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি তেল, এলপিজি এবং এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইরানে হামলা-পালটা হামলার পর প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে এক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরবরাহে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে বিকল্প উৎস থেকে তেল-গ্যাস আনতে বলা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের মজুত যথেষ্ট। যুদ্ধের কারণে কোনো সমস্যা হবে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের সরবরাহ কমবে। তখন দেশেও জ্বালানি তেলের সংকট হতে পারে। দেশে এখন অয়েলে মজুত আছে ৯০ দিনের। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি জানিয়েছে, পরিশোধিত জ্বালানি তেলের অন্তত ৩টি চালান পথে আছে। তাই আপাতত তেল সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না।
তবে পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, যুদ্ধ যদি ২০ মার্চ অতিক্রম করে, তাহলে এলএনজি আমদানি নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারে বাংলাদেশ। কেননা ২০ মার্চ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির বাইরে বিভিন্ন এলাকা থেকে ৯টি কার্গোতে এলএনজি আসবে বাংলাদেশে। কিন্তু এরপরের দুইটি কার্গো আসার কথা কাতার থেকে। এখন কাতারে হামলা বা অস্থিরতা থাকলে ওই দুই কার্গো নাও আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তখন কাতার এলএনজি সরবরাহ বন্ধ করলে দেশে গ্যাসের রেশনিং করা হতে পারে। তবে এজন্য বিকল্প উপায়ে এলএনজি সরবরাহের চেষ্টা করছে জ্বালানি বিভাগ।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশ সবচেয়ে চিন্তিত এলএনজি সরবরাহ নিয়ে। কারণ, আমদানি করা বেশির ভাগ এলএনজি আসে কাতার ও ওমান থেকে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ২০ মার্চের পর কাতার গ্যাস সরবরাহ করতে পারবে কি না, তা তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। যদি তারা দিতে না পারে, তখন হয়তো বিকল্প উৎস খোঁজা হবে।



