০৫/০২/২০২৬, ১৬:৩৪ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    ভারতে অবস্থানকারী আওয়ামী নেতারা এখন অপরাধী

    আমিরুল ইসলাম কাগজী।
    কলকাতার শপিং মলের ফুডকোর্টে বসে কফির কাপ হাতে যারা “রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের” স্বপ্ন দেখছে, তারা বাংলাদেশের রাজপথে রক্ত রেখে পালিয়ে যাওয়া মানুষ। বাংলাদেশের চোখে তারা আজ অপরাধী, পলাতক কিন্তু ভারতের চোখে তারা যেন সম্মানিত অতিথি। এখানেই প্রশ্নটা শুরু হয়, এবং এখানেই ভারতের নীতির নৈতিকতা নিয়ে সন্দেহ গভীর হয়।

    ভারত নিজেকে গণতন্ত্রের বড় দাবিদার হিসেবে তুলে ধরে। কিন্তু যে শাসনের শেষ অধ্যায়ে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১,৪০০ মানুষ শহীদ হয়, সেই স্বৈরশাসনের প্রধান ও সহযোগীদের আশ্রয় দেওয়া কি গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান? নাকি এটা কেবলই স্বার্থের রাজনীতি, যেখানে ন্যায়বিচার নয়, গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে প্রভাব ধরে রাখা?

    শেখ হাসিনা একা পালাননি। তার সঙ্গে পালিয়েছে একটি শাসনব্যবস্থার ছায়া যেখানে গুম,খুন,বিচারবহির্ভূত হত্যা,ভিন্নমত দমন, নির্যাতন, ভোট ডাকাতি আর দমন-পীড়ন ছিল নিয়ম। সেই শাসনের শত শত নেতা আজ কলকাতা ও দিল্লিতে নিরাপদে বসে দল গোছাচ্ছেন, বৈঠক করছেন, ফোনে নির্দেশ দিচ্ছেন, এমনকি বাংলাদেশের নির্বাচন বানচালের ডাক দিচ্ছেন। আর এসবই হচ্ছে ভারতীয় রাষ্ট্রের “নজরদারির মধ্যেই” । প্রশ্ন হলো—নজরদারি মানে কি নীরব অনুমোদন?

    বাংলাদেশ যখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করে এবং অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণ চায়, তখন ভারতের নীরবতা কূটনৈতিক ভদ্রতা নয়, এটা রাজনৈতিক বার্তা। একদিকে ভারত সংখ্যালঘু অধিকার, গণতন্ত্র আর স্থিতিশীলতার কথা বলে; অন্যদিকে সেই দেশের জনগণের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত নেতাদের নিরাপদ আশ্রয় দেয়। এই বৈপরীত্য বাংলাদেশের মানুষের চোখে ভারতকে আর “বন্ধু প্রতিবেশী” হিসেবে দেখায় না, দেখায় স্বার্থান্ধ আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে।

    আরও ভয়ংকর হলো—এই আশ্রয় শুধু মানবিক নয়, রাজনৈতিক। কলকাতা থেকে ডেকে নিয়ে বৈঠক, দিল্লি থেকে ভাষণ, নির্বাচন নিয়ে উসকানি—এসব আর নির্বাসিত রাজনীতির সীমার মধ্যে পড়ে না। এটা সরাসরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ। যদি ভারত সত্যিই স্থিতিশীল বাংলাদেশ চায়, তাহলে প্রশ্ন আসে—অস্থিতিশীলতার বীজ বপনকারীদের কেন আশ্রয়?

    এরমধ্যে ভারত বেশ কিছু বৈঠকের আয়োজন করেছে যেখানে তাদের থিংট্যাঙ্ক ছাড়াও পতিত স্বৈরশাসকের সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিল যারা প্রকাশ্যে বর্তমান অর্ন্তবর্তি সরকারের বিরোধিতা করে বক্তব্য দিয়েছেন।শেখ হাসিনার রেকর্ড করা অডিও শোনানো হয়েছে যা সম্পূর্ণ আইনের পরিপন্থী কারণ এখন শেখ হাসিনা একজন দন্ডপ্রাপ্ত আসামী।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়