জেড নিউজ ঢাকা:
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার একটি চাঁদাবাজির ঘটনায় গণপিটুনিতে সম্রাট বাহিনী প্রধান সম্রাট নিহত হওয়ার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার জন্য ভারতের শীর্ষস্থানীয় অনেক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। ওই সব পত্রিকায় বলা হয়েছে দিপু চন্দ্র দাসের পর আরো এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হলো। সেখানে রাজবাড়ীর ঘটনাটি চাঁদাবাজী হিসেবে উল্লেখ করার পরও সেটাকে সাম্প্রদায়িক রং চড়ানোর চেষ্টা চালানো হয়েছে। বিষয়টি কেবলই হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিষোদগার ছড়ানো ছাড়া আর কিছু নয়।
পাঠকের জানার জন্য ভারতেই প্রকাশিত টাইম নাউ অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত খবরটি হুবহু তুলে ধরা হলো ঃ
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে সম্রাট বাহিনীর প্রধান অমৃত মন্ডল (২৯) ওরফে সম্রাট নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতে হোসেনডাঙ্গা ও বসুয়া গ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সম্রাটের সহযোগী সেলিমকে একটি পিস্তল ও একটি ওয়ান শুটারগানসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
নিহত অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা গ্রামের কামারের মোড় এলাকার মৃত অক্ষয় মণ্ডলের ছেলে।
আটক সেলিম কলিমহর ইউনিয়নের বসুয়া গ্রামের মো. ইসলাম শেখের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে সম্রাট হোসেনডাঙ্গা শহিদ শেখের বাড়িতে চাঁদা আনতে যায়। শহিদ শেখ চাঁদা দিতে অস্বীকার করে। এ সময় সম্রাট সেখানে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। এ সময় ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করলে গ্রামবাসী তাদের ঘিরে ফেলে এবং গণপিটুনি দিলে সম্রাট মারাত্মক আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় সম্রাটের সহযোগী মহম্মদ সেলিমকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল ও একটি ওয়ান-শুটার বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে। সেলিমকে বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। নিহতের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, সম্রাটের বিরুদ্ধে পাংশা থানায় অন্তত দুটি মামলা ছিল। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলাও রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্রাট দীর্ঘদিন ধরে একটি অপরাধচক্র চালাতো এবং চাঁদাবাজি-সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপে যুক্ত ছিল। সে বেশ কিছুদিন ভারতে আত্মগোপন করে ছিল এবং সম্প্রতি গ্রামে ফিরে আসে। অভিযোগ,
সে গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল শেখের কাছ থেকে জোর করে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছিল। স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার রাতে সম্রাট ও তার সঙ্গীরা শহীদুল ইসলামের বাড়িতে চাঁদা তুলতে গেলে পরিবারের লোকজন “ডাকাত এসেছে” বলে চিৎকার শুরু করেন। সেই চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ জড়ো হয়ে সম্রাটকে ধরে মারধর করে। তাঁর অন্য সঙ্গীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও সেলিমকে অস্ত্রসহ ধরে ফেলে স্থানীয়রা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।



