০২/০৩/২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    মাজার-দরগায় হামলা বন্ধে তৎপর প্রশাসন

    মোটিভেশনের ওপর জোর দিচ্ছে পুলিশ।

    হামলাকারীদের ওপর চড়াও হলে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে -অতিরিক্ত আইজিপি

    কখনো মাইকে ঘোষণা দিয়ে, আবার কখনো হুট করেই চালানো হচ্ছে হামলা। আগুন দেওয়া হচ্ছে মাজার ও দরগায়। কবর থেকে একজনের লাশ তুলে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-কে নিয়ে কটূক্তিমূলক একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার হোমনা উপজেলার আসাদপুর গ্রামের চারটি মাজারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

    এর মধ্যে একটি মাজার আঙিনায় থাকা তিনটি বসতঘর ভাঙচুর শেষে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে বারবার এ ধরনের হামলার নিন্দা জানানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির বিষয়টি উল্লেখ করে সারা দেশে মাজার ও দরগাহর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, মাজারে হামলা বন্ধে তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের মাঝে মোটিভেশনাল কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে।

    অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মাজার নিয়ে অধিকাংশ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ভেতর একটা এন্টি সেন্টিমেন্ট আছে। যেহেতু সবার প্রতি সহনশীলতা রাখতে হবে-এজন্য আমাদের পক্ষ থেকে মাজার প্রটেস্ট করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, স্থানীয় লোকজন মব সৃষ্টি করে হামলায় অংশ নেওয়ায় তাদের প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করলে এরা আরও বেশি বিক্ষুব্ধ হতে পারে। মাজার-দরগাহ ভাঙচুর ইসলাম সমর্থন করে না বলে মনে করছেন ইসলামিক স্কলাররা। তারা বলছেন, মাজার শব্দের অর্থ জিয়ারতের স্থান। কিন্তু আমাদের দেশে মাজার বলতে বোঝা যায়, যেখানে পীর-বুজুর্গের কবর। সেটিকে পাকা করে অনেকে সেখানে জিয়ারতের জন্য যায়। তবে ইসলামের মৌলিক বিধান অনুযায়ী কবরের পর সেটিকে পাকা করে গম্বুজ করা বৈধ নয়। শরিয়তে অনুমতি নেই। কিন্তু আমাদের দেশে অনেকে এগুলো করেন। কিন্তু ইসলামে বৈধ নয় বলে কেউ কেউ ওইসব স্থাপনার ওপর আক্রমণ করতে পারে না বলেও জানান তারা।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সনদ বিভাগের উপপরিচালক মো. আবু সালেহ পাটোয়ারী যুগান্তরকে বলেন, মাজারসংক্রান্ত কোনো কিছু যদি ইসলামে আঘাত করে, তাহলে তা অবশ্যই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সেজন্য বিক্ষোভ প্রতিবাদ সভা হতে পারে। আদালতে মামলা হতে পারে। কিন্তু ভাঙচুর করা বা আইন হাতে তুলে নেওয়া ইসলাম সমর্থন করে না।

    জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে একটি বিবৃতি দেয় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। ৪ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সারা দেশে ৪০টি মাজার বা সুফি কবরস্থান, দরগায় হামলার ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে সারা দেশে মাজারের (মাজার, দরগাহ) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে মর্মে জানানো হয়। এতে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

    গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ‘তৌহিদি জনতা’ পরিচয়ে নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলা’র কবর, বাড়ি ও দরবার শরিফে হামলার ঘটনা ঘটে। এমনকি নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে তুলে মহাসড়কের পদ্মার মোড় এলাকায় নিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার দিন শুক্রবার দুপুরের পর হামলার এই ঘটনায় আহতদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়। আহত হয় ২১ জন। ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ি ও পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নুরাল পাগলা মনগড়া ধর্ম প্রচার করতেন। তিনি নিজেকে ইমাম মাহাদীও দাবি করতেন। তবে সেজন্য তার মৃতদেহ এভাবে না পুড়িয়ে জীবিত অবস্থায়ই তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেত বলে মন্তব্য করেন অনেকে।

    গত ১৬ মার্চ গভীর রাতে বরগুনা জেলার আমতলী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলার নামক স্থানের নিকটবর্তী হজরত খাজা ইসমাঈল শাহের মাজারে বার্ষিক ওরস চলাকালে ইমাম কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ব্যানারে একদল তোহিদি জনতা হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে মাজারের শামিয়ানা ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। চলে পালটা হামলা। এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়। গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের লেংটার মাজার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

    সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরে অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, অনেক সময় লোকাল লোকজন (হামলাকারী) অনেক বেশি থাকে। সে তুলনায় আমাদের লোকসংখ্যা অনেক কম থাকে। ফলে মব সৃষ্টি করে এমন অবস্থায় নিয়ে যায় তখন আমরা প্রতিরোধ করতে চাইলেও পারি না। এদের থামাতে গিয়ে গুলিও করতে পারি না। কেননা এদের ওপর চড়াও হলে আরও বেশি ফিউরিয়াস (বিক্ষুব্ধ) হয়ে যায়। সব মিলে

    আমাদের মোটিভেশনালের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।

    খোন্দকার রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, স্থানীয় লিডারশিপদের নিয়ে যতটা পারা যায় প্রতিহত করা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে কোনো একক লিডারশিপও থাকে না। সবাই মাতব্বর। একটা লোককে কনভিন্স করতে পারলে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বিষয়টি সে রকমও নয়। তারপরও এসব হামলাকে কোনোভাবেই বরদাশত করার সুযোগ নেই। যার যার ধর্মীয় মতাদর্শ তার তার। আমরা সেটাকেই প্রমোট করার চেষ্টা করছি।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়