জেড নিউজ, ঢাকা:
ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত সম্মানজনক একটি পেশা ব্যবসা-বাণিজ্য। কিন্তু কিছু মানুষের কারণে এই সম্মানজনক পেশা কলুষিত হয়। তারা জীবিকা অর্জনের এই উত্তম পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। নুন থেকে চুন খসলেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা এক শ্রেণির অসৎ ব্যবসায়ীর অভ্যাস।
তারা কোনো অজুহাত পেলেই জনগণকে জিম্মি করে অধিক মুনাফা অর্জনে মরিয়া হয়ে ওঠে। মহানবী (সা.) এই প্রবণতাকে জঘন্য অপরাধ আখ্যা দিয়েছেন। আদি ইবনে কাআব (রা.)-এর এক পুত্র মা-মার ইবনে আবু মা-মার (রা.) বলেন, রাসুলাল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জঘন্য অপরাধী ছাড়া কেউই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি (মূল্যবৃদ্ধির আশায়) গুদামজাত করে না।’
যারা ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করার চেষ্টা করে, হালালভাবে উপার্জন করে, প্রতারণা করে না, মহানবী (সা.) তাদের রিজিকের বরকতের জন্য দোয়া করেছেন।
আর যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, প্রিয় নবী (সা.) তাদের অভিশাপ দিয়েছেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমদানি পণ্য সরবরাহকারী ব্যবসায়ী রিজিকপ্রাপ্ত হয় এবং মজুদদার অভিশপ্ত।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১৫৩)
অর্থাৎ সৎ ব্যবসায়ী কোরআন-হাদিসের আইন মেনে সঠিক পথে ব্যবসা করার কারণে সে কোনো গুনাহে লিপ্ত না হয়েই মুনাফা অর্জন করে। যা তার জন্য বরকতময়।
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম। এর বিপরীতে যে বেশি মুনাফার আশায় ইসলামী অনুশাসনের তোয়াক্কা না করে, মানুষকে জিম্মি করার জন্য মজুদ করে, সে যতক্ষণ ওই কাজ থেকে ফিরে আসে না, ততক্ষণ গুনাহে লিপ্ত থাকে। কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়, তার এই উপার্জনে কোনো কল্যাণ কিংবা বরকত নেই। ফলে অঢেল সম্পদ তাকে সুখ দেয় না।
সে শারীরিক ও মানসিক শান্তি থেকে বঞ্চিত হয়।
এ জন্য প্রিয় নবীজি (সা.) ব্যবসায়ীদের সততা অবলম্বনের প্রতি বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন। কারণ মহান আল্লাহ সৎ ব্যবসায়ীদের যেমন জান্নাতে সম্মানজনক মর্যাদা দেবেন, তেমনি অসৎ ব্যবসায়ীদের জাহান্নামের কঠিন শাস্তি ভোগ করাবেন। তাই ব্যবসায়ী সততা অর্জন করা প্রতিটি ব্যবসায়ীর জন্য আবশ্যক।



