০১/০৩/২০২৬, ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    লক্ষ্মী রাজা তারেক রহমান

    কালাম ফয়েজী

    লক্ষ্মী রাজা তারেক রহমান

    ধেয়ে আসা ঢলের পানির মতো আবেগ উচ্ছ্বাস আর আবেগ আনন্দের মধ্য দিয়ে শুভ উদ্বোধন হয়ে গেল অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ এর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে উপচে পড়া ভালবাসায় সিক্ত হলেন প্রধান অতিথি তারুণ্যের প্রতীক প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান। উপস্থিত লেখক কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক শিক্ষাবিদ বুদ্ধিজীবী সবাই দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে অভিবাদন জানালো।

    অনেকদিন পর তার আগমনে সবাই অন্যরকম আনন্দ অনুভব করলো। সবাই বুঝলো এমনটাই হওয়ার দরকার ছিল। প্রাণের মানুষ, ভালোবাসার মানুষ প্রাণের টানে তাদের কাছে এসেছেন। বইমেলার আয়োজন আনুষ্ঠানিকতায় সর্বত্র ছিল স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণচাঞ্চল্য। বাংলা একাডেমি চত্বর ছাড়াও আশপাশ ছিল লোকে লোকারণ্য। কাঙ্খিত ভালোবাসার মানুষের আগমনে সকলেই আনন্দে মাতোয়ারা।

    এতদিন যিনি আসতেন তার মধ্যে প্রাণ ছিল না। অস্থির দর্শকদের ভালোবাসা ছিল না। ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। ফলে সেই প্রাণহীন আনুষ্ঠানিকতা উপস্থিত দর্শকদের হৃদয় স্পর্শ করতো না।
    অনেক অনেক দিন পর

    আজ এলেন প্রতীক্ষিত প্রাণের মানুষ। ফলে সকলেই বুক ভরা ভালোবাসা দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানালো।

    কথায় বলে
    রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট প্রজা কষ্ট পায়
    নারীর দোষে সংসার নষ্ট শান্তি চলে যায়।
    যদি তার বিপরীতে বলা যেতো
    রাজার গুণে রাজ্যের উন্নতি
    প্রজা শান্তি পায়
    নারীর গুণে সংসারে সুখ দুঃখ চলে যায়।

    তারুণ্যের প্রতীক তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর যেদিন দেশের মাটিতে পা রাখলেন সেদিনই যেন সমগ্র দেশ উল্লাসে নেচে উঠলো। আনন্দের সয়লাব বয়ে গেল দেশের প্রতিটি প্রান্তে। এক অসম্ভব প্রাপ্তির আনন্দে উদ্বেলিত হলো সকলে। এক অপার্থিব আলোয় আলোকিত হল সারাটা দেশ।

    তার আগমনে যেন বন্ধা নদীতে জোয়ার এলো, পত্রবিহীন বৃক্ষের নতুন কিশলয়ের জন্ম হলো, ফুলহীন গাছে নতুন ফুল ফুটল, গুমোট ধরার বুকে বসন্ত বাতাস বইতে শুরু করল, মেঘাচ্ছন্ন আকাশে নতুন সূর্যোদয় হল, কুয়াশা ভেদ করে পৃথিবীতে ঝলমল আলো ছড়িয়ে পড়ল। রূপালী আলোতে অবগাহন করতে করতে আনন্দের গান গাইতে গাইতে লাখো কোটি মানুষ সমাবেশে সমবেত হতে থাকলো। সর্বকালের সর্ববৃহৎ সেই সমাবেশ। ছেলে বুড়ো নারী পুরুষ ছাত্র-শিক্ষক দোকানদার স্বর্ণকার কৃষক শ্রমিক মাঝি-মহল্লা সবাই অপরিসীম উৎসাহে সমবেত হতে থাকলো বসুন্ধরার প্রশস্ত ভিলেজে। ৩০০ ফিটের ১০ কিলোমিটার রাজপথ ও তৎসংলগ্ন সমস্ত এলাকায় ছিল কেবল মানুষ আর মানুষ।

    সারা পৃথিবী দেখল একজন নির্বাসিত মানুষকে দেখার জন্য, তাকে সাদর সম্ভাষণ জানানোর জন্য কত মানুষ একত্রিত হতে পারে। সে ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের এক বিরল ঘটনা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তাদের প্রিয় রাজকুমার তাদের মাঝে এসে দাঁড়ালেন। দুহাত নেড়ে সবাইকে স্বাগত জানালেন। জনতাও যে যেখানে ছিল সেখান থেকে হাত নেড়ে তাদের নেতাকে শুভেচ্ছা জানালো। সেই দিন থেকে শুরু।

    জননেতা তারেক রহমানের এই আগমনকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ভূমিকম্পের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, একজন তুলনা করেছিলেন জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে, আরেকজন করেছিলেন সুনামির সঙ্গে। অবশেষে সবাই দেখলো এক মহাপ্রলয়। বাংলার মাটিতে যেন গণমানুষের এক মহাপ্রলয় হয়ে গেল। একজন মানুষকে অভ্যর্থনা জানাতে এত মানুষ সমবেত হতে পারে এটা এর আগে কেউ কখনো দেখেনি।
    সেই তো আমাদের যাত্রা শুরু।

    আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই মানুষের সামনে চলে এলো এক মহা দু:সংবাদ। মানুষ দেখল এক মহাকালের পরিসমাপ্তি। আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন। হঠাৎ মানুষের আবেগ উচ্ছ্বাস থেমে গেল। সারা দেশ জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এলো। তাদের অন্তরে আলাদা বেদনার ব্যঞ্জনা সৃষ্টি হলো। সারা দেশের মানুষ শোকে মুহ্যমান হয়ে গেল। প্রিয় দেশনেত্রীকে হারানোর বেদনায় আকাশ বাতাস গাছপালা পাহাড় নদী সকলে বেদনাক্লিষ্ট হয়ে গেল। তার যেদিন জানাজা হল সেদিন সারা দেশ জানাজাময় হয়ে গেল। দেশ যেন একটা জায়গায় স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। তার মৃত্যুতে কাঁদলো শিশু-কিশোর, ছেলেবুড়ো, আবাল বৃদ্ধ বণিতা। তার শেষ বিদায়ে অংশ নিল বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। আসলো বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিগণ। যারা সশরীরে আসতে পারলেন না তারা শোকবার্তা পাঠালেন। গণতন্ত্রের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন লড়াইকে হারকিউলিসের অজেয় যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করলেন।

    সেই শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই চারদিকে নির্বাচনে ডামাডোল বেজে উঠল। সেই মহাশোকের মধ্যেও দুষ্কৃতিকারীরা বসে থাকলো না। তারা সবদিকে চক্রান্তের জাল বিস্তার করতে থাকলো। অনেকদিন থেকে চেষ্টা করে তারা দেশকে চক্রান্তের জালে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছিল। দেশের যা ক্ষতি হয় হোক, তাতে তাদের কিছুই যায় আসে না। যেকোনো মূল্যে তাদের চাই মসনদ। মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলো কি, পারলো না, সেটাও তাদের দেখার বিষয় ছিল না। প্রয়োজনে তারা ভোটের ফলাফলকে ইঞ্জিনিয়ারিং করে হলেও নিজেদের পক্ষে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। তাদের দুর্ভিসন্ধি ছিল যেকোন মূল্যে তারেক রহমানের উত্থান ঠেকানো। তীব্র আঘাতে তাকে জর্জরিত করে ফেলা। বিষযুক্ত তীর নিক্ষেপ করে তাকে রক্তাক্ত করা। যাতে তার ভাঙ্গা মন আরো ভেঙ্গে যায়। ভাঙ্গা মন চাঙ্গা হতে না পারে। তিনি সোজা হয়ে আর দাঁড়াতে না পারেন। তাহলে ঘোলা পানিতে তাদের মাছ শিকার সহজ হয়ে যায়।এমনি নানা রকম ফন্দি ফিকির, জল্পনা কল্পনা, চক্রান্ত ষড়যন্ত্র, প্রচার অপপ্রচার চলছিল অনেকদিন ধরে।

    তাদের এসব জালিয়াতি ধান্দাবাজির অপতৎপরতা দেখে আলেমুল গায়েব যেনো একটা ক্রুর হাসি হাসলেন। তিনি বললেন- ‘তাহাদের চক্রান্ত যদি সফল হইতো তাহা হইলে পাহাড় টলিয়া যাইত।’ নাহ শেষ পর্যন্ত পাহাড় টললো না। উল্টো তাদের চক্রান্ত ষড়যন্ত্র টলে গেল। সব অভিসন্ধি কর্পূরের মত হাওয়ায় উড়ে গেল।

    আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোথাও যার আপসের ঘটনা নেই। সেই তিনি জীবনের শেষ মুহূর্তে আপস করতে বাধ্য হলেন। মানুষের অমোঘ পরিসমাপ্তি তার মৃত্যু। মৃত্যুর হাতে তাকে ধরা দিতেই হয়। বেগম খালেদা জিয়াও মানবিকতার উর্ধ্বে নন। তিনিও ধরা দিতে বাধ্য হলেন। ডজন ডজন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। দিনরাত প্রাণপণ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারলেন না। তবে অফাত লাভের আগে মনে হল তিনি তার শেষ কর্মটিও সাঙ্গ করে গেছেন। তিনি তার জীবদ্দশায় প্রিয় পুত্র তারেক রহমানকে দেশের মাটিতে রেখে গেলেন। অলিখিতভাবে দেশ পরিচালনার ভার প্রিয় পুত্রের হাতে তুলে দিয়ে নিজে পরপারে পাড়ি জমালেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি তার সংগ্রামী জীবন পূর্ণ করলেন।

    একজন নারী, তার কত সীমাবদ্ধতা। তবু তিনি একটি দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক হয়ে গেলেন। তিনি তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত দেশের স্বার্থে বিলিয়ে দিলেন। বিলিয়ে দিয়েছেন নিজের জীবন যৌবন, সুখ শান্তি, স্বামী সন্তানের জীবন পর্যন্ত। সবকিছুর বিনিময়ে আল্লাহ তাকে দান করলেন আকাশ ছোঁয়া গৌরব সম্মান এবং সৌকার্য। দুশমনরাও স্বীকার করতে বাধ্য হলেন যে, তিনি বাংলাদেশে অদ্বিতীয় নেত্রী। তার ত্যাগের তুলনা হয় না। সারা বিশ্বে তার ত্যাগ মহিমাময়। তার নেতৃত্বও মহিমাময়। সেই নেতৃত্বকেও কারো সঙ্গে তুলনা করা সম্ভব না।

    আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান তার পরমপ্রিয় মাকে কবরে রেখে ফিরে এলেন জনমানুষের মাঝে। দেশের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ তাকে সাদরে গ্রহণ করলো। তিনি নির্বাচনী প্রচারে গেলেন চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, সিলেট, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, রংপুর। সর্বত্র দেখলেন মানুষের ঢল আর ঢল। তাকে স্বচক্ষে এক পলক দেখার জন্য সাধারণ মানুষের মাঝে সে কি প্রতিযোগিতা! তাদের সে কি প্রাণাবেগ উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা! তিনি যেখানে পা রাখলেন সেখানেই শ্রাবণ ভাদ্র মাসের জলের ঢলের মত মানুষ হাজির হতে থাকলো প্রতিটি জনসভা ও জনসমাবেশে। সকলে হাত তুলে সমর্থন জানালো। দুহাত উঁচিয়ে বলল : ‘আমরা এবার সবাই মিলে ধানের শীষে ভোট দিব।’ তিনি সারাদেশে মানুষের অঙ্গীকার আদায় করে ঢাকায় ফিরলেন। অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনা অভিসন্ধি দুর্ভিসন্ধি, বেঈমানি, মুনাফেকি সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। দেশের আপামর জনতা অনেক অনেক বছর পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হলো। বিএনপি তথা ধানের শীষ দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে জয়যুক্ত হল। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়ায় জনাব তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রশস্ত রাজপথ প্রস্তুত হয়ে গেল।

    ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হলো শপথ অনুষ্ঠান। আগের মত বঙ্গভবনের চার দেয়ালের মাঝে নয়, বরং সংসদ ভবনের খোলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হলো সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান। পড়ন্ত বেলায় অনুষ্ঠিত হলো মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান। তারেক রহমান হলেন দেশের ১৩ তম প্রধানমন্ত্রী।

    তারপর শুরু হল একের পর এক চমক দেখানোর পালা। সবকিছুতেই যেন জাদুর পরশ। তারেক রহমানের প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি বার্তা, প্রতিটি কর্ম দূরদর্শিতাপূর্ণ অনুকরণীয় এবং অবশ্য পালনীয়। কেবল দেশের অভ্যন্তরে নয়, তিনি তার ইতিবাচক তৎপরতা দিয়ে নাড়া দিয়েছেন পৃথিবীর এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তের প্রতিটি শক্তিকে, শক্তিধর দেশকে, ধনী নির্ধন প্রতিটি দেশের সরকারকে। সেই সুদূর আমেরিকা থেকে সৌদি আরব, তুরস্ক থেকে জাপান, ভূটান থেকে মালদ্বীপ, ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ থেকে আফ্রিকা সর্বত্রই তারেক রহমান। সবাই তাকে শুভেচ্ছা সহমর্মিতা জানাচ্ছে। তার সঙ্গে একত্রে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করছে।

    এখনো তিনি বৃহৎ কোন কর্মে হাত দেননি। দেশের বাইরেও পা রাখেননি। দেশের অভ্যন্তরেও ঘুরে বেড়াননি। কেবল রুটিন মাফিক অফিস করছেন। পাশাপাশি নির্বাচনের সময় সাধারণ মানুষের সাথে যে ওয়াদা করেছেন সে ওয়াদাগুলো পালনের চেষ্টা করছেন। শপথ শেষ করেই ঘোষণা দিলেন তিনি তার মন্ত্রিপরিষদ ও সংসদ সদস্যদের কেউ ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নিবেন না। দরিদ্র গৃহিণীদের ফ্যামিলি কার্ড দিবেন, কৃষকদের ফারমার্স কার্ড দিবেন, সেই দেয়ার কাজ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে দিলেন অল্প কয়েক দিনের মধ্যে। তিনি ওয়াদা করেছিলেন ১০,০০০/ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করবেন। তিনি ১২ লাখ কৃষকের কৃষি ঋণ মওকুফ করে দিলেন কলমের এক খোঁচায়। আলু পিঁয়াজসহ নিত্য পণ্যের দাম কমে গেল কোন বিশেষ পদক্ষেপ ছাড়াই। সাধারণ মানুষ এতে বেজায় আনন্দিত। কোন প্রটৌকল ছাড়াই রাস্তায় চলছেন তিনি।

    সাধারণ যাত্রীদের মত সিগনালে বসে থাকছেন। লম্বা পথ পেরিয়ে ঠিক ৯টায় অফিসে হাজির হচ্ছেন। রাস্তার পাশে কেউ হাত উঁচু করে শুভেচ্ছা জানালে তিনিও তার জবাবে হাত নেড়ে শুভেচ্ছার উত্তর দিচ্ছেন। এতেই মানুষ আনন্দে অভিভূত। সবাই মনে করছে তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হলেও তিনি তাদের মত একজন সাধারন মানুষ। প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীর সন্তান হলেও তার মধ্যে কোন আদিখ্যেতা নেই। তিনি অতি সাধারণ একজন মুসল্লির মতই মসজিদে প্রবেশ করেন এবং নিজের জুতা নিজেই বহন করেন, সকলের সাথে বসে ইফতার খান। এতে তার ভক্তদের আনন্দের সীমা পরিসীমা নেই।

    তিনি ঠিক সময় মত অফিসে হাজির হচ্ছেন। অন্যান্যদের মত জ্যাম ঠেলে গুলশান থেকে কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তার কার্যালয়ে আসছেন। সময় মত তাকে অফিসে আসতে দেখে মন্ত্রি সচিব থেকে শুরু করে সকল কর্মকর্তা কর্মচারী যারপরনাই তৎপর হয়ে উঠেছেন। কোনরকম নোটিশ জারি করার দরকার হয়নি বরং তার নিরব তৎপরতা মাধ্যমে সকলের মধ্যে জাগরণ সৃষ্টি হয়ে গেছে। একে বলা যেতে পারে নিরব বিপ্লব।

    আমাদের দেশ যত দরিদ্রই হোক অভিজাত আমলাতন্ত্রের ভাবসাব সবসময় ছিল অন্যরকম। সহসা তাদের টলানো যায় না। রাজনীতিকদের তারা খুব সহজে পাত্তাও দিতে চান না। আদেশ মানতে বাধ্য থাকলেও কখনো কখনো বেশ বিরক্ত হন। মনে মনে ভাবেন রাজনৈতিক কর্তৃত্ব না থাকলেই বরং ভালো হতো। ব্রিটিশ আমলারা যেমন দেশ চালিয়েছে তারাও সেভাবে দেশ চালাতেন। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা গেছে তারা সে ক্ষেত্রে দক্ষতা দেখাতে সক্ষম হননি। গত ১৮ মাসের ইউনুস সরকারে কোনরকম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ছিল না। ছিল কতক সুশীল ও আমলাদের কর্তৃত্ব। তাতে দেশের মানুষ কী দেখলো? দেখেছে দুর্নীতিবাজ হাসিনা সরকারের মতোই ধারাবাহিক নীতিগর্হিত কর্মকাণ্ড। অন্তবর্তী সরকার নানান সময়ে নানারকম অর্ডিন্যান্স জারি করেও প্রশাসনে গতি আনতে পারেনি। ফলে সহসা মানুষ তাদের উপর থেকে আগ্রহ আস্থা হারিয়ে ফেলে এবং একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য সোচ্চার হয়ে ওঠে। অথচ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগবাড়িয়ে কিছুই করার দরকার হয়নি। তার ব্যক্তিগত নিষ্ঠা সততা ও নিয়মানুবর্তিতার ফলে অন্যেরাও তীরের মত সোজা হয়ে যাচ্ছেন। মন্ত্রি সচিব সকলের মধ্যেই প্রতিযোগিতা। কে কতটা সততা দেখাবেন, কে কতটা দক্ষতা দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী নজর কাড়বেন। কেউ অনিয়ম করে শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর বিরাগভাজন হতে চান না। এমনি আরো কত কি!

    এবার আসা যাক বাংলা একাডেমির বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় অন্তর্বর্তী সরকার সাহস করেনি ১লা ফেব্রুয়ারি বইমেলা উদ্বোধন করতে। তাদের একমাত্র টার্গেট ছিল যেকোন মূল্যে একটা ফেয়ার নির্বাচন সম্পন্ন করা। জালজালিয়াতি এবং রক্তপাতকে যেকোন উপায়ে প্রতিহত করা। দেশের আপামর জনতাও তার জন্য প্রস্তুত ছিল। তার চেয়ে বেশি প্রস্তুত ছিল দেশের নিরাপত্তা বাহিনী। ফলে জাতীয় নির্বাচন এবং সরকার গঠন নিয়ে অনেক রকম চাপও অব্যাহত ছিল। এ কারণে লেখক প্রকাশক এবং বই প্রেমিকরা ধরেই নিয়েছিল এবার আর বইমেলা হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের ক্যারিসম্যাটিক লিডার জনাব তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ঘোষণা দিলেন বইমেলা হবে। তার মধ্যে শুরু হল নানারকম চক্রান্ত ষড়যন্ত্র। একটা মতলববাজ গোষ্ঠী কিছুতেই এই মেলা হতে দিতে চাচ্ছিল না। ফলে বইমেলা একেবারে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু তারেক রহমানের দৃঢ় সংকল্প ছিল মেলা হতেই হবে। তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীকে দায়িত্ব দিলেন যেকোন মূল্যে মেলার আয়োজন করতে। নির্বাচনের মত সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়ে গেল।

    একই দিনে ছিল দুটো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান। তার আগে সকালবেলা ছিল প্রথম কেবিনেট বৈঠক। ওসমানী মিলন আয়তনে একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণীজনদের পদক তুলে দেয়ার অনুষ্ঠান। দুপুর ২টার পর থেকে বাংলা একাডেমির বইমেলার আনুষ্ঠানিকতা। আমরা সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম।

    জনাব তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল সর্ববৃহৎ জাতীয় আয়োজন। তিনি এলেন অতিশয় সাদামাটা ভাবে। সঙ্গে এলেন স্ত্রী জোবায়দা রহমান এবং মেয়ে জায়মা রহমান। সভামঞ্চে এসে তিনি তার চেয়ার বদল করে একটি অর্ডিনারি চেয়ারে বসলেন। রাজনৈতিক মিটিং এ যেমন নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন, এখানে তেমন কিছুই করলেন না। কারণ তিনি জানেন সামনে যারা বসে আছেন তাদের কেউ তার দলের কর্মী সমর্থক নন। সবাই উচ্চশিক্ষিত গুণী-জ্ঞানী শিক্ষাবিদ জ্ঞানবিদ ও পন্ডিত। তার মধ্যে আছেন কবি সাহিত্যিক দার্শনিক গীতিকার নাট্যকার ছড়াকার গবেষক বিচারক অভিনেতা অভিনেত্রীসহ নানান সৃজনশীল উচ্চমার্গীয় মানুষ। তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে তাদের মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রেখে। তিনি ঠিক তা-ই করলেন যা করার প্রয়োজন ছিল। তিনি তার বক্তব্যে কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করলেন। তিনি মেধাভিত্তিক দেশ গঠন করতে চান এবং জ্ঞানের আলোয় সবাইকে আলোকিত করতে চান। এ কাজে তিনি উপস্থিত গুণী-জ্ঞানী ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি তিনটি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। তরুণ লেখকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করতে চান তিনি। বিভিন্ন পর্যায়ে গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে চান। সর্বোপরি জাতীয় এই মেলাকে আন্তর্জাতিক মেলায় রূপান্তর ঘটাতে চান। এইসব আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য সরকারের তরফ থেকে যত রকম সহযোগিতার প্রয়োজন হবে সেটা দেয়ার জন্য জন্য তার সরকার দৃঢ়ভাবে প্রস্তুত থাকবে।

    তিনি যা বললেন সবই সম্ভাবনার কথা। সে সম্ভাবনা বাস্তবায়নের কথা। কোথাও হতাশার লেশ মাত্র নেই। এমনকি উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের মধ্যেও কোন হতাশার ছাপ দেখা গেল না। তাদের অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল তারেক রহমান যা বলছেন তিনি তার সবই করতে পারবেন।

    তিনি এলেন জয় করলেন। যেমনটা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। আমরা দর্শকরা মন্ত্রমুগ্ধের মত তার কথা শুনে আনন্দে হাততালি দিতে থাকলাম। তালির শব্দের অনুরণন শেষ হতে না হতেই তিনি সভামঞ্চ ত্যাগ করে মেলায় চলে গেলেন। সাধারণদের মত বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখলেন। তারপর উৎসাহী ছাত্রদল নেতাদের সাথে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ে করলেন। অতঃপর ভিড় ঠেলে নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে গেলেন।

    প্রিয় নেতাকে খুব কাছে থেকে দেখলাম। প্রাণভরে দেখলাম। তাতে আমার এত আনন্দ হলো, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

    মনে হল তার পথ চলায় যে বলিষ্ঠ আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিটি কথার মধ্যে যে দৃঢ়তা, আমি নিশ্চিত তিনি জাতির প্রতিটি আশা ও স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হবেন।

    তিনি আমাদের নেতা, আমরা তার অনুসারী। মাত্র ১৫ দিনের নেতৃত্বে দেশের মানুষ বেজায় আনন্দিত। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মত যেখানে যাচ্ছেন সবকিছুকে জয় করে ফিরছেন। জটিল অংকও তার কাছে অতিশয় সহজ বলেই মনে হচ্ছে। দেশের মানুষ দীর্ঘদিন এমন একজন নেতার অপেক্ষায় ছিল। তার ক্যারিসমার কাছে সকল চক্রান্ত ষড়যন্ত্র খান খান হয়ে যাচ্ছে। দেশপ্রেমে তিনি আপসহীন। এজন্য তার প্রতি মানুষের দোয়াও অপরিসীম। যেখানে হাত দিচ্ছেন সেটাই সোনা হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোন অঘটন ঘটছে না। যেমনটা ঘটেছিল আগের প্রধানমন্ত্রীর সময়। মানুষ দেখেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগার ঘটনা এবং বাস এক্সিডেন্ট করে মানুষের মারা যাওয়ার লোমহর্ষক দৃশ্য। কিন্তু আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের পর থেকে মানুষ দেখল ভিন্ন দৃশ্য। সর্বত্র আনন্দ উল্লাস শান্তি স্থিতি এবং উদ্যোগ উদ্যম। মনে হয় তিনি একজন লক্ষ্মী রাজা। তার সৌভাগ্যে দেশের মানুষের ভাগ্য খুলেছে।

    তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সব লক্ষণ খুবই আশাব্যঞ্জক। শুধু স্বদেশের মানুষ নয়, তাকে গ্রহণ করার জন্য প্রকৃতিও যেন প্রস্তুত ছিল। না তীব্র শীত, না অসহনীয় গরম। তিনি শপথ নেয়ার উদ্দেশ্যে সংসদ ভবনে যাচ্ছেন। আলোক উজ্জ্বল দিন। চারদিকে আলোর রোশনাই। আনন্দদায়ক পরিবেশ। মহাসড়কের দুপাশে সারি সারি উৎসাহী নেতাকর্মীদের উপস্থিতি। সবাই হাত নেড়ে প্রিয় নেতাকে অভিবাদন জানাচ্ছে। তিনিও হাত নেড়ে সকলের আবেগে সাড়া দিচ্ছেন। তাতেই নেতাকর্মীরা বেজায় আনন্দিত। তারা যে দূর-দূরান্ত থেকে এসে অনেক কষ্ট করে দাঁড়িয়ে আছেন তাদের সে কষ্ট সার্থক হল নেতাকে এক নজর দেখে। তারা ভাবল তাদের রাজা লক্ষ্মী রাজা। যিনি তার অনুসারীদের আবেগ উচ্ছ্বাস বুঝতে পারেন এবং তার যথার্থ মূল্যায়নও করতে পারেন তার চেয়ে বড় নেতা আর কে হতে পারে।

    দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এক নেতা ক্ষমতা গ্রহণ করেই বলেছিলেন তিনি সহসা দেশের মানুষের জন্য কিছুই করতে পারবেন না। তার আরো অনেক সময় দরকার। পরে দেখা গেছে সময় পেয়েও তিনি দেশের মানুষের জন্য কিছুই করতে পারেননি। তিনি তার নেতাকর্মীদের দুঃখ দিলেন, সুখী করতে পারলেন না। তার ওপর দেশ চলে গিয়েছিল লুটেরা তস্কর চালবাজ চাটুকার দুর্নীতিবাজদের দখলে। জনাব তারেক রহমান সে রকম হতাশার কোন কথা শোনালেন না। আশাভঙ্গের চিত্রকেও এখন পর্যন্ত কেউ দেখেনি। নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি বলেছিলেন বেকারত্ব দূর করবেন, দেশের মানুষের দুঃখ দূর করবেন, ঘরে ঘরে খাদ্যের সাথে আনন্দ বার্তাও পৌঁছে দিবেন। দ্রব্যমূল্যের দাম কমাবেন, শহর থেকে যানজট কমিয়ে ফেলবেন। তিনি কৃষকের ঋণ মওকুফ করেই ক্ষান্ত হলেন না, তাদের সহজ প্রক্রিয়ায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। এমনি কত কি!

    ক্ষমতা গ্রহণের ১৫ দিন অতিবাহিত হতে না হতেই তিনি তার ওয়াদা মোতাবেক কর্মযজ্ঞ শুরু করে দিলেন।তার কথায় মানুষ পরিপূর্ণ আস্থা রাখছে। কারণ তিনি আমাদের লক্ষ্মী রাজা। খাদ্যের কথা বলতে বলতে খাদ্য পৌঁছে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে। অন্যায় অনাচার জুলুম নিপীড়ন থামানোর কথা বলতে বলতে সে সব থেমে যাচ্ছে চোখের পলকে। মানুষ প্রাণভরে হাসছে, নিশ্চয়তার শ্বাস ফেলছে। স্বাধীনভাবে ঘুরছে। মনে হচ্ছে এতদিন পর দেশ নতুন করে স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীন দেশের মাতাল হাওয়ায় গা ভাসিয়ে তারা নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। সবাই ভাবছে তাদের নেতা তাদের জন্য লক্ষ্মী, তাদের জন্য আশীর্বাদ। সবাই প্রাণ খুলে প্রার্থনা জানাচ্ছে, তিনি যেন মাথার উপর ছাদের মত সবাইকে ছায়া দিয়ে রাখেন। বাঁচার নিশ্চয়তা, খাবার নিশ্চয়তা, থাকার নিশ্চয়তা, এই যদি পাই তাদের আর কোন প্রয়োজন নাই। তিনি মাথার উপর আছেন মানে পুরো জাতি নিরাপদ। সবাই দোয়া করছেন তিনি যেন দীর্ঘ হায়াত পান। দীর্ঘদিন তাদের ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখেন।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়