জেড নিউজ, ঢাকা :
রমজান এলে ঘরের ভেতরেই এক অনন্য ইবাদত-পরিবেশ গড়ে ওঠে। সাহরির শেষ প্রহর থেকে ইফতারের মুহূর্ত পর্যন্ত একটি পরিবারের আধ্যাত্মিক ছন্দ সচল রাখেন যে মানুষটি, তিনি ঘরের নারী। তিনি শুধু নিজে ইবাদত করেন না; বরং অন্যদের ইবাদতের পথও সুগম করেন। ইসলামের দৃষ্টিতে এই নীরব অবদান নিছক গৃহস্থালি দায়িত্ব নয়; বরং এটি অনেক ফজিলতপূর্ণ আমল।
কোরআন মানুষকে সৎকর্মে পারস্পরিক সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছে: ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো।’ রমজানে পরিবারের জন্য সাহরি প্রস্তুত করা, ইফতার আয়োজন করা, শিশুদের রোজা ও নামাজে উৎসাহ দেওয়া; এসবই তাকওয়ার কাজে সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইফতার করানোর ফজিলত স্পষ্ট করেছেন: ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে; অথচ রোজাদারের সওয়াব থেকে কিছুই কমানো হবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৮০৭) পরিবারের একাধিক সদস্যের জন্য প্রতিদিন ইফতার প্রস্তুত করেন ঘরের নারী।তার এ আমলের পরিধি অনেক বিস্তৃত, অনেক বেশি সওয়াবের, অনেক বেশি মর্যাদার ।
সাহরির গুরুত্ব সম্পর্কেও সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে: ‘তোমরা সাহরি খাও; কারণ সাহরিতে বরকত রয়েছে।’ যে নারী সাহরি প্রস্তুত করেন, তিনি পরোক্ষভাবে পরিবারের ইবাদতের শক্তি জোগাচ্ছেন।ইসলামের একটি মৌলিক নীতি হলো; কাজের মূল্য নির্ভর করে নিয়তের ওপর।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম।” হাদিসটির ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, পরিবারের কল্যাণে শ্রম দেওয়া ও তাদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা ঈমানি চরিত্রের অংশরমজানে নারীর ভূমিকা এই ঈমানি চরিত্রের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মোটকথা রমজানে পরিবারের ইবাদত-পরিবেশ গড়ে তোলার নেপথ্যে যে নারী নীরবে শ্রম দেন, তা সাধারণ কোনো শ্রম নয় বরং তা সওযাবের এক বিরাট ক্ষেত্র। তার এই অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া আমাদের সকলের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব।



