জেড নিউজ, ঢাকা :
পবিত্র রমজান মাসে দিনভর রোজা রাখার শক্তি যোগায় সেহরি। কারণ, সিয়াম সাধনার মাসে সেহরিতে মহান আল্লাহ তা’আলা অশেষ বরকত রেখেছেন। হাদিসেও এ বিষয়ে বর্ণনা পাওয়া যায়। হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সেহরি খাও, সেহরিতে বরকত রয়েছে। (সহিহ মুসলিম: হাদিস: ২৪২০; সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮০১)
আমর ইবনু আস (রা.) থেকে বর্ণিত অপর হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন- আমাদের ও কিতাবিদের সিয়ামের মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪২১)। এ ক্ষেত্রে হাদিসে পবিত্র রমজানে দিনভর সিয়াম পালনের জন্য যেমন ভোররাতে সেহরির শেষ সময়ের ব্যাপারে বলা হয়েছে, তেমনি দ্রুত ইফতার সেরে নেয়ার কল্যাণের কথাও এসেছে।
সামুরা ইবনু জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমি রাসুল (সা.) এর কাছে শুনেছি, তিনি বলেছেন, বিলালের আহ্বান (আজান) যেন তোমাদের সেহরি খাওয়া থেকে ধোঁকায় না ফেলে এবং এ শুভ্র রেখাও (ভোরের), যতক্ষণ পর্যন্ত না তা বিস্তৃত হয় (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪১৫)।
এছাড়াও সাহল ইবনু সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যতদিন মানুষ বিলম্ব না করে ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪২৫)
তবে সেহরি খাওয়া নিয়ে প্রায় সময় একটি বিষয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়। সেটি হলো- মুয়াজ্জিন মসজিদের মাইকে ‘সেহরির সময় শেষ’ বলার পর কিছু খাওয়া বা পান করা যাবে কিনা।
এ বিষয়ে জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভাষ্য, মুয়াজ্জিন মাইকে সেহরির সময় শেষ বললেন নাকি বললেন না সেটি মূল বিষয় নয়। মূল কথা হলো- সুবহে সাদিক বা ফজরের ওয়াক্ত শুরুর পর যদি কেউ এক লোকমা খাবার বা এক চুমুক পানিও গ্রহণ করেন তাহলে সেই রোজা হবে না। আর যদি সুবহে সাদিকের আগে হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা নেই।



