আমিরুল ইসলাম কাগজী
ভারতে জলবায়ু সংকটকে মোকাবিলার নামে যা চলছে, তা আসলে পরিকল্পিত অধিকার হরণ। Forest Rights Act (২০০৬) আদিবাসীদের ওপর চালানো শতাব্দীর অন্যায়ের স্বীকৃতি দিয়েছিল। কিন্তু প্রায় ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও এই আইন বাস্তবায়িত হয়নি কারণ বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোই একে পদ্ধতিগতভাবে খালি করে দিয়েছে।
PM-JUGA বা “অধিকার স্যাচুরেশন”-এর মতো ক্যাম্পেইন কোনো অগ্রগতি নয়। বরং এগুলো রাষ্ট্রের ব্যর্থতা, আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধ ও আইনি সহিংসতা ঢাকার নতুন শব্দচয়ন। আইন নেই এমন নয়। আইন কার্যকর করতে রাষ্ট্র চায় না এটাই মূল সত্য।
‘Green growth’, ‘climate action’, ‘sustainable development’—এই শব্দগুলো আজ ভারতে নীতির ভাষা নয়, কর্পোরেট লুটপাটের ঢাল। Asia Centre–এর প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে রাষ্ট্র ও কর্পোরেট শক্তি চার ধরনের জলবায়ু বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: একপেশে পরিবেশগত তথ্য দিয়ে প্রকৃত ক্ষয় লুকানো, ধ্বংসাত্মক সৌর প্রকল্প ও মনোকালচার বনায়নকে “সমাধান” হিসেবে তুলে ধরা, জলবায়ুজনিত মৃত্যু ও হিমবাহ গলনের বাস্তবতা অস্বীকার, এমনকি জলবায়ু বিজ্ঞানের মৌলিক সত্যই প্রত্যাখ্যান।
এর ফল? আদিবাসীদের জমি, বন ও সম্পদের ওপর আইনগত অধিকার কাগজে রয়ে যাচ্ছে, বাস্তবে শূন্য।
FPIC শুধু নামেই আছে
Free, Prior and Informed Consent এখন আর অধিকার নয়, একটি ফর্মালিটি। তথ্য গোপন করা হয়, পরামর্শ সভা বানানো হয় লোক দেখানো, যাতে আদিবাসীরা সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় প্রকৃত কোনো ভূমিকা রাখতে না পারে। এই বিভ্রান্তিমূলক সবুজ ভাষা জনদৃষ্টি সরিয়ে দেয়, আর রাষ্ট্র কর্পোরেট জোটকে জবাবদিহির বাইরে রাখে।
আদিবাসীদের প্রথাগত কৃষি ও বন ব্যবস্থাপনাকে ‘পিছিয়ে পড়া’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তার বদলে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে টেকনোক্র্যাটিক, কেন্দ্রনিয়ন্ত্রিত নীতি যা পরিবেশ ধ্বংস করে এবং সম্প্রদায়ের স্বশাসন কেড়ে নেয়। এটা উন্নয়ন নয়, ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া।
সংরক্ষণের নামে উচ্ছেদ
‘বন সংরক্ষণ’ ও ‘সবুজায়ন’-এর অজুহাতে আদিবাসীদের নিজ ভূমিতে ‘দখলদার’ বানানো হচ্ছে। উপনিবেশিক যুগের বন্যপ্রাণ আইন বেছে বেছে প্রয়োগ করে FRA কার্যত বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। শহরে যেমন ‘beautification drive’-এর নামে গরিব উচ্ছেদ, গ্রামে তেমনি সবুজ রাজনীতির নামে আদিবাসী উৎখাত।
যাঁরা কথা বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানি, সামরিকীকরণ। বিশেষ করে নারী আদিবাসী নেত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে লিঙ্গভিত্তিক অপমান ও ক্যারেক্টার এসাসিনের মতো ঘৃণিত কৌশল।



