নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে কত চালই না খাটায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপি। এর প্রমাণ মেলে গত গ্রীষ্মে। নির্বাচনকর্মীদের হঠাৎ বলা হয়, বিহারের আট কোটি ভোটারের পরিচয় যাচাই করতে। ফসল তোলার মৌসুম ও বন্যার কারণে কাজটি জটিল হয়ে ওঠে। কারণ বিহারের লাখো দরিদ্র মানুষ তখন কাজের খোঁজে অন্য এলাকায় চলে যায়। ঠিক তখন নির্বাচন কমিশনের এমন নির্দেশনায় দেখা দেয় বিভ্রান্তি।
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নির্বাচনকর্মী, ভোটার ও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যাচাই প্রক্রিয়াটি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে সম্পন্ন হয়নি।
এত সমালোচনার পরও কমিশন নির্ধারিত সময়ে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে ৬৫ লাখ মানুষের নাম বাদ দেয়া হয়। কমিশনের দাবি, এদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ মৃত। বাকিরা স্থান পরিবর্তন করেছেন বা তাদের নাম দ্বৈতভাবে ছিল।
কিন্তু পরে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র, যাদের মৃত দেখিয়ে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়, তাদের অনেকেই জীবিত। পুরো প্রক্রিয়া বিজেপির পক্ষ থেকে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি চাল। এজন্য কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত অর্ধডজন ভোটারকে রসিকতা করে বলেন, শুনেছি আপনি নাকি বেঁচে নেই? এজন্য ভোট প্রক্রিয়ার সুষ্ঠুতা নিয়ে উদ্বেগ জানান তিনি।
১৩ কোটি মানুষের রাজ্য বিহারে কয়েক সপ্তাহ পর রাজ্য সভার নির্বাচন। যেখানে সিদ্ধান্ত হবে বিহারের শাসনভার কার হাতে যাবে। তবে বিজেপি এখন মুসলিম ও অন্যান্য গোষ্ঠীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিরোধী দলীয় নেতারা।
মোদির দল বিজেপি বিরোধীদের অভিযোগকে বাতিল করে বলছে, এটি আসলে পরাজিতদের ক্ষোভ। তারা ভারতের গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। বিজেপি বলছে, প্রক্রিয়াটি অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেয়ার অভিযানের সূচনা।
জেড নিউজ, ঢাকা।



