:আমিরুল ইসলাম কাগজী
বাংলাদেশের সামনে ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু একটি নির্বাচন নয়—এটি আমাদের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব এবং তথ্য-নিরাপত্তার বড় পরীক্ষা। এই পরীক্ষাকে আরও জটিল করে তুলেছে একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতা: নির্বাচনী সময়ে অনলাইনে পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো ভুয়া তথ্যের বড় অংশ প্রতিবেশী ভারত থেকে ছড়াচ্ছে—এমন অভিযোগ ও প্রাপ্ত তথ্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেইট জানিয়েছে, তারা এক্স (X)-এ ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট থেকে তৈরি ৭ লাখের বেশি পোস্ট শনাক্ত করেছে—যেগুলো আগস্ট ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত “হিন্দু গণহত্যা” দাবিকে কেন্দ্র করে ছড়ানো হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান রাকিব নাঈক দাবি করেন, এই কনটেন্টের ৯০ শতাংশের বেশি এসেছে ভারত থেকে; বাকিটা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় থাকা সংশ্লিষ্ট হিন্দু-জাতীয়তাবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ এটি বিচ্ছিন্ন কয়েকটি পোস্ট নয়—বরং সংগঠিত, নেটওয়ার্কভিত্তিক প্রচারণা।
‘হিন্দু গণহত্যা’র মতো গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে লক্ষ লক্ষ পোস্ট এবং এআই-তৈরি ভিজ্যুয়াল ছড়িয়ে যখন জনমতকে উত্তপ্ত করা হয়, তখন তা আর সাধারণ মতপ্রকাশ থাকে না—এটি পরিণত হয় তথ্যযুদ্ধে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ইস্যুকে অতিরঞ্জিত বা বিকৃতভাবে তুলে ধরে দেশকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপের মুখে ফেলা, ভেতরে ভয় ছড়ানো এবং ভোটারদের মানসিকতা প্রভাবিত করা—এ ধরনের কৌশল কোনো সদিচ্ছু প্রতিবেশীর আচরণ হতে পারে না।
এই পরিস্থিতি আমাদের একটি বার্তা দেয়: নির্বাচনের নিরাপত্তা শুধু মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা নয়, তথ্য-নিরাপত্তাও। তাই ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকেন্দ্রে যাবার আগে প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব—অপপ্রচারের কুয়াশা কাটিয়ে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া। একই সঙ্গে অপপ্রচার রোধে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ইউনিটকে আরও সক্রিয় ও স্বচ্ছ হতে হবে, প্ল্যাটফর্ম কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে, এবং দেশীয়ভাবে যারা এসব অপপ্রচারে ইন্ধন দেয়—তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।


