আমিরুল ইসলাম কাগজী।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন—তিনি জুলাই ২০২৪-এর ঘটনায় “ক্ষমা চাইবেন না।”এই মন্তব্য কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও মানবাধিকারের প্রতি সরকারের অবস্থানকেও স্পষ্টভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র, শিক্ষক, ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর যে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল—তা আন্তর্জাতিক মহলে “গণহত্যা” হিসেবে আলোচিত। শত শত প্রাণহানি, গুম, এবং নির্বিচার গ্রেফতারের দায় সরকার কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা না চাওয়ার এই বক্তব্য তাই একটি স্পষ্ট বার্তা—রাষ্ট্র তারই নাগরিকদের ওপর সহিংসতার দায় নিতে প্রস্তুত নয়।
প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন, সরকার “অরাজকতা দমন” করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—অরাজকতা দমনের নামে যদি নিরস্ত্র শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়, আহতদের চিকিৎসা না দেওয়া হয়, সাংবাদিকদের ভয় দেখানো হয়—তবে সেটি কি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, নাকি রাষ্ট্রীয় সহিংসতা?
ক্ষমা না চাওয়ার মানে, এই নৃশংসতার দায় কেউ নিতে চায় না।
শেখ হাসিনার মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন জুলাই ঘটনার তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
ক্ষমা না চাওয়া মানে কেবল অভ্যন্তরীণ নয়, আন্তর্জাতিক চাপকেও অগ্রাহ্য করা। এটি কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি বাড়ায়।
একজন রাষ্ট্রনেতা তখনই মহৎ হন, যখন তিনি ভুল স্বীকার করেন, অনুশোচনা প্রকাশ করেন, এবং পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন।
কিন্তু শেখ হাসিনার মন্তব্যে অনুপস্থিত সেই মানবিক বোধ। নিহত পরিবারগুলো আজও বিচার পায়নি—তাদের প্রতি কোনো দুঃখপ্রকাশই হয়নি।এটি দৃঢ়তা নয়, নিষ্ঠুরতার প্রতীক।
ক্ষমা না চাওয়ার মানে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার স্বাভাবিকীকরণ।
যদি আজকের সরকার নিজের ভুল স্বীকার না করে, তাহলে ভবিষ্যতের কোনো সরকারও তা করবে না। এই মনোভাবই গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড দুর্বল করে।
“ক্ষমা না চাওয়াই সবচেয়ে বড় স্বীকারোক্তি।”
শেখ হাসিনা হয়তো ক্ষমা চাননি, কিন্তু তার নীরবতা ও অস্বীকারই প্রমাণ করে দিয়েছে—২০২৪ সালের জুলাইতে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের রক্ষা করেনি, আঘাত করেছিল।



