১০/০৩/২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে মাহে রমজান

    জেড নিউজ ডেস্ক:
    বহু কল্যাণের উৎস মাহে রমজানের অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে। প্রতিটি মুসলিমের জন্য রমজানের বাকি সময়টুকু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোজার লক্ষ্য হলো মানুষকে মুত্তাকি (আল্লাহভীরু) বানানো। এরশাদ হচ্ছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর ফরজ করা হয়েছে সিয়াম যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্বববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’ (সুরা বাকারা : ১৮৩)

    কোরআনে তাকওয়া শব্দটি এসেছে ১৫ বার। তাছাড়াও অনেকবার আল্লাহ তায়ালা ‘ইত্তাকু’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তাকওয়া কী? তাকওয়া অর্থ আল্লাহভীতি। তাফসিরে এসেছে ‘আল্লাহর আদেশসমূহ পালন ও নিষেধগুলো থেকে বেঁচে থাকাই তাকওয়া।’ (তাফসিরে জালালাইন : ১/৯)। ব্যাপক অর্থে, তাকওয়া তো আল্লাহর ভয়ে হালাল-হারামের বিধানের প্রতি মানবমনের ওই শ্রদ্ধা ও ভীতি যা মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

    প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে গোপনে অপরাধ করার প্রবণতা থাকে। সেই গোপন অপরাধের জায়গায় আল্লাহর ভয়ের অদৃশ্য পাহারাটাই হলো তাকওয়া। রোজার মাধ্যমে এই পাহারা মজবুত হয়। আল্লাহ তাআলা বিশ্বমানবতার জন্য যে সংবিধান (কোরআন) নাজিল করেছেন তাকওয়ার আদেশের মাধ্যমে তার প্রতি সশ্রদ্ধ করতে চেয়েছেন।

    কোরআনের শান্তির সমাজ গড়ার মিশন বাস্তবায়নের মতো যোগ্য ও তাকওয়াসম্পন্ন (মুত্তাকি) নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি পাপ, মিথ্যা কথা, অন্যায় কাজ ও মূর্খতাসুলভ কাজ ত্যাগ করতে না পারবে তার পানাহার ত্যাগ করাতে আল্লাহ তায়ালার কোনো প্রয়োজন নেই। (বোখারি : ৫/২২৫১)। সিয়াম কোরআনের আইনের প্রতি মানুষের মনে ভীতি ও শ্রদ্ধা তৈরি করবে সযতনে। পানাহারকে নিয়ন্ত্রণ করে আর অপরাধ প্রবণতাকে করবে সমূলে উৎপাটন। রমজান শেষে পানাহার চালু হবে বটে কিন্তু অপরাধ থেকে বেঁচে থাকার যে বাস্তব প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা হয়েছিল তা চলবে সারা বছর। তাকওয়ার মাধ্যমে অপরাধ দমন হবে সমাজ থেকে। মানুষ বাঁচবে মানুষের অনিষ্ট থেকে। কেউ কারো ক্ষতি করবে না। প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তির সমাজে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়